Posted in

দিনমজুরের হাট!

দেবদাস মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি, উপকূল অঞ্চল:

 

গ্রামে তেমন কাজ মেলেনা। আবার কাজ মিললেও মজুরি তেমন নয়। কম মজুরিতে পরিবার পরিজন নিয়ে দু’মুঠো ভাতের সংস্থান কষ্টকর। তাই একটু ভালো মজুরিতে দিনমজুরি খাটতে রোজ সাঝ সকালে ওরা শহরে ছুটে আসে। ভোরের কুয়াশায় ঠেলে আসে শ্রমজীবী মানুষের দল। নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন গ্রাম থেকে কাজের সন্ধানে ছুটে আসা এসব মানুষ দিনমজুর করে দিনাতিপাত করেন। সাজ সকালে একজন দু’জন করে সমবেত হতে হতে হাভাতে দিনমজুরের সংখ্যা বাড়ে। তারপর শহরের মানুষজন এই দিনমজুরের মিলন কেন্দ্র থেকে প্রয়োজন অনুসারে দৈনিক মজুরিতে তাদের শ্রম কিনে নেন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরের চৌরাস্তার মোড়ের ট্রাফিক পয়েন্টে প্রতিদিন ভোর বেলা বসে দিনমজুরের হাট।

স্থানীয়রা জানান, শ্রমজীবী এসব মানুষের এমন হাট শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক কালে। এসব মানুষ ভূমিহীন অভাবী। এরা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে কাজের সন্ধানে পৌর শহরে এসে চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। প্রতিদিন খুব ভোরে শহরের চৌরাস্তার ট্রাফিক পয়েন্টে মোড়ে দিনমজুরের মিলন কেন্দ্র বসে। দিনমজুরের দল এ হাটে আসেন শ্রম বিক্রি করতে। শহরের মানুষ প্রয়োজনমত এ হাট থেকে দৈনিক মজুরিতে দিনমজুর কিনে নেন। অনেকটা পণ্যের মত! দৈনিক মজুরির দর কষাকষিও চলে এখানে। স্থানীয়দের কাছে এইসব অভাবী মানুষের পরিচিতি ‘কামলা’ হিসেবে। প্রতিদিন ৭০ বছরের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের শ্রমজীবী মানুষ এ হাটে মেলে।

devdas-pic-mathbaria-1

এ মৌসুমে গ্রামে কাজ ও কাজের মজুরি কম বলে দলে দলে এরা ছুটে আসেন শহরের দিকে। তারা কেউ দৈনিক, এক সপ্তাহ আবার কেউ কেউ এক মাসের জন্য ধান কাটা, ভবন নির্মাণ অথবা পুকুর খনন কাজ করার জন্য বেচাকেনার হাটে সমবেত হন। এ অঞ্চলে দিনমজুর অথবা কৃষিকাজের মানুষের বড়ই অভাব থাকে। তাই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত অভাব-অনটনে থাকা মানুষগুলো এই দিনমজুরের হাটে সমবেত হলে খুব সহজে কাজের সন্ধান পান। চারশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকার মজুরিতে এসব দিনমজুর বিক্রি হন!

দিনমজুরের হাটে সমবেত শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটা শ্রমজীবী মানুষের এনজিও ঋণের কিস্তি, পরিবারের খাদ্য ও ছেলের মেয়ের লেখাপড়া চলে এ শ্রমের উপার্জনে। উপজেলার হলতা গুলিসাখালী গ্রাম থেকে কাজের সন্ধানে আসা মো. শাহ (৪২) আলম বলেন, “দিনমজুরি ছাড়া মোগো কোন তো উপায় নাই। চার সদস্যের পরিবারের ভাতের যোগান দিতেই দিন মজুরি করি। গ্রামে ভালো মজুরিতে তেমন কাজ মেলে না। তাই এই হাটে আসলে রোজ কিছ ুনা কিছু কাজ পাই।”উপজেলার প্রত্যন্ত চড়কখালী গ্রামের মো. জলিল মিয়া(৫০) বলেন, “গ্রামে হারা (সারা) দিন কামলা খাটলে মাত্র দেড়শ টাকা থেকে দু’শ টাকা মজুরি মেলে। এই মজুরিতে মোগো জীবন চলে না । হেছাড়া গ্রামের গৃহস্থ মানুষের চাষাবাদের জন্য তারা নিজেরাই যথেষ্ট। বাড়তি কামলা তাদের প্রয়োজন হয় না। তাই মোরা উপজেলা শহরে আই (আসি)। এই হাটে আইলে রোজ সহজেই মোরা কাম পাই। দিনমজুরি করে শহরে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আমাগো আয় অয় (হয়)।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.