সাম্প্রতিক পোস্ট

স্বল্প জমিতে বৈচিত্র্যময় ফসলের চাষ, সবজি পাই বারোমাস

উপকূল থেকে গাজী আল ইমরান 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শ্রীফলাকাঠি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের যুব কৃষক রাশিদুল ইসলাম, বয়স ২৪ ছুই ছুই। আর্থিক অনটন আর অস্বচ্ছলতার কারণে লেখাপড়ায় বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারেনি এই যুব উদ্যোক্তা। যুব উদ্যোক্তা রাশিদুল ইসলাম এর পিতাও একজন কৃষক। যুব কৃষক রাশিদুল ইসলাম নিজেকে অলসতার খাতায় নাম না লিখিয়ে অন্যের দোকানের সহায়ক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি নিজের বাড়ির আঙ্গিনায় গড়ে তুলেছে বৈচিত্র্যময় সবজি ক্ষেত।

স্বল্প জমি হওয়ায় খুব বেশি উৎপাদন ছিলোনা তার সবজি ক্ষেতে। বাড়ির পতিত জায়গায় অধিক পরিমাণ সবজি চাষ করার লক্ষ্যে ডোবা নালা ভরাট করতে বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বারসিক’র নিকট ভিটা উঁচু করনে আংশিক সহযোগিতার আবেদন করেন এই যুবক। রাশিদুলের আগ্রহ এবং ইচ্ছা শক্তি দেখে বারসিক তার ভিটা উঁচু করনে আংশিক সহযোগিতা করেন। এরপর তিনি বাড়ির আঙিনার পতিত ডোবা ভরাট করে এবং একই সাথে পূর্বের জমিতে সবজি ক্ষেত গড়ে তুলেছেন। ৪০টি পেপে গাছ, বেগুন,পুইশাক, ডাটা শাক,কচুর মুখি, ওল, ঢেড়স, ঝিঙা, শসা, মিষ্টি কুমড়া, তুরুল সহ হরেক রকমের সবজির সমারোহে পুষ্টি কাননের দেখা মিলেছে তার বাড়ির আঙিনায়। পূর্বে জলাবদ্ধতা থাকলেও এখন সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে পতিত স্থানে পুষ্টি কানন গড়ে তুলেছে রাশিদুল। অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর মনোবল একজন সফল যুব কৃষকে পরিণত করেছে তাকে।

বছরের ১২ মাস তার সবজি ক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন হচ্ছে। কোন একটা সবজি খারাপ হলেও অন্য সবজিতে পুষিয়ে নেন রাশিদুল। স্বল্প জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ বিষয়ে রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগে একেবারেই অল্প জমিতে সবজি চাষ করতাম। বছরের অধিক সময়ে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকতো আমার সবজি ক্ষেত। বাড়ির প্রতি ইঞ্চি মাটি কাজে লাগাতে বাড়ির আঙিনার ডোবা নালা জায়গা ভরাটের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিকের নিকট আবেদন জানালে প্রতিষ্ঠানটি ভিটা উঁচু করনে আংশিক সহযোগিতা করেছে। এরপর আমি পুরো জায়গা সবজি বাগান গড়ে তুলেছি ‘

তিনি আরও বলেন, ‘স্বল্প জায়গা হলেও বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছি আমার আঙিনায়। বারসিক থেকে নিরাপদ সবজি বীজ পেয়ে আমার বাড়ির আঙিনা এখন সবুজের সমারোহ। আমি এখন বছরজুড়ে সবজি পাচ্ছি। নিজের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাতকরণের পাশাপাশি এলাকার মানুষেরা আমার সবজি বাগান থেকে বিনামূল্যে সবজি নিয়ে যায়। প্রতি মাসে সবজি বাগান থেকে প্রায় ৩ হাজার টাকার সবজি বাজারজাতকরণ করে থাকি। বারসিক থেকে স্থানীয় কৃষকের সংরক্ষিত সবজি বীজ নিয়ে আমার বাড়ির আশপাশে কৃষকদের মাঝে দিয়েছিলাম সেখানেও ভালো ফলন হয়েছে। আমার মনে হয়েছে সকলের বাড়ির আঙিনায় এভাবে পুষ্টি কানন গড়ে তোলা উচিৎ ‘ 

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: