Posted in

গ্রামীণ নারীরা নিরন্তর রক্ষা করছেন প্রাণবৈচিত্র্য

নেত্রকোনা থেকে রোখসানা রুমি

পৃথিবীর উন্নয়ন ও অগ্রগতির ইতিহাসে নারীদের অবদান এককথায় শেষ করা যাবে না। নারীদের হাত ধরেই এগিয়ে চলছে সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ। বাংলাদেশের নারীরাও এক্ষেত্রে কোন অংশেই পিছিয়ে নেই। হাটে, মাঠে, ঘাটে, গৃহে সকল ক্ষেত্রেই আমাদের দেশের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। আর তার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ নারীরা।
প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত। বিগত বছরের মতো এই বছরেই এই দিবস পালিত হয়েছে। বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবসকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ভুগিয়া গ্রামে শাপলা শালুক সংগঠনের নারীরা একত্রিত হন কৃষাণী সখিনার বাড়িতে। ঘরোয়া এ আয়োজনে নারীরা তাদের যাপিতজীবনের সফলতার গল্প, জীবনের আনন্দের গল্প, শস্য-ফসলের গল্প, বীজের গল্প, শিশুকালের গল্প,কষ্টের গল্প, গান, কিসসা, শিলুক, কাহিনী, কবিতা, ছড়া, রান্নার কথা, সংসারের কথা, ভালোলাগার বিষয়, মন্দ লাগার বিষয়গুলো তুলে ধরেন আর নিজেদের মধ্যে তা সহভাগিতা করেন। এই প্রসঙ্গে কৃষাণী আসমা আক্তার বলেন,“আমরা নারী। আমাদের উন্নয়ন আমাদের নিজেরাই করতে হবে। আমরা কেবল নারী হিসেবে নয় বরং মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই।”
20161015_124434
গ্রামীণ নারীরা জানান, তারা সক্রিয়ভাবে কৃষিকাজে নিয়োজিত থাকেন। বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, কৃষিকাজে সহায়তা, শস্য মাড়াই, ঝাড়া, বাছা, নিরাপত্তা দেয়া, সিদ্ধ করা, শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ তথা কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন যুগযুগ ধরে। বৈজ্ঞানিক যুগ, আগ্রাসী বীজ, রাসায়নিক কৃষিসহ অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে গ্রামীণ নারীরা এখনো পরম যতেœর সাথে ধান, পাট, সবজি, মসলার বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও চাষ করে যাচ্ছেন। কৃষিতে রেখেছেন অসামান্য অবদান। এছাড়া স্থায়িত্বশীল কৃষি নারীদের হাত ধরেই এগিয়ে চলেছে। কেননা বিষহীন কৃষিসহ অন্যান্য পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে তারা পরিবেশ ও প্রকৃতিকে পরম মমতায় আগলে রেখেছেন।

কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। নারীর হাত ধরে কখনো রাসায়নিক কৃষি আসেনি। মাটি, পানি, বায়ু, প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রতিবেশের কোন প্রকার ক্ষতি না করে পরিবেশবান্ধব জৈব কৃষি চর্চা করে যাচ্ছেন নিরন্তর। গ্রামের নারীরা শত বাধা পেরিয়ে আপন জ্ঞান, শ্রম ও ঘামে নিজের জীবন,পরিবারের জীবন, দেশের পরিবেশ, প্রকৃতিকে রক্ষা করে চলেছেন। তাদের উন্নয়নে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। গ্রামীণ নারীদের দাবি, কৃষি, পরিবেশ ও প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ ও রক্ষা করতে তাদের এই অবদানকে যেন স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.