Posted in

বৈচিত্র্য, আন্তনির্ভরশীলতা এবং বহুত্ববাদী সমাজ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ অনলাইন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

শ্যামনগর থেকে পার্থ সারথী পাল
বারসিক শ্যামনগর রিসোর্স সেন্টারের উদ্যোগে গত ৪ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত তিনদিনব্যাপি একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বারসিক’র শ্যামনগর ঢাকা, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাজশাহী কর্মী এবং চট্রগ্রামের প্রতিষ্ঠান ওয়েদেব (OWDEB), উৎস্য এবং চাষবাস নামক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ ৪৬জন অংশগ্রহণ করেন।


কর্মশালার প্রথম দিনে প্রথম সেশনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমর দত্ত ‘বহুমাত্রিক সমাজের উপলব্ধিতে পরিবেশ’ এর উপর আলোচনা করেন। তিনি তার আলোচনায় পরিবেশ সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবেশকে আমরা কেনো ভালোবাসি, পরিবেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক, সামাজিত অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, পরিবেশের অখন্ডতা, পরিবেশ কিভাবে একটি স্বনিয়ন্ত্রিত সংস্থান ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবেশকে ভালোবাসতে হবে কর্তব্যর খাতিরে মোহে বা মহিমায় নয়, পরিবেশের অখন্ডতাকে বুঝতে হবে, সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদকে নবায়নযোগ্য হিসাবে ব্যবহার করে অসীম সম্পদে পরিণত করতে হবে। পরিবেশের প্রতি আমাদের সংস্কারকামী দৃষ্টিভঙ্গি দেখাতে হবে।’

প্রথম দিন দ্বিতীয় সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র দাস প্রাণবৈচিত্র্য বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় প্রাণ বৈচিত্র্যর সংজ্ঞা, তাদের প্রকারভেদ, প্রাণবৈচিত্র্যের সেবাসমূহ, বাংলাদেশের প্রাণবৈচিত্র্যের পরিসংখ্যান, প্রাণবৈচিত্র্যর বর্তমান অবস্থা, প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণ এবং প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছোট-বড় সকল প্রাণবৈচিত্র্যকে জানতে হবে তাদের সকলের প্রতি সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং সকলকে সংরক্ষণে উদ্যেগী হতে হবে।’


প্রথম দিন তৃতীয় সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উৎপল কৃষ্ণ রায় কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য এবং তার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্যর বিভিন্ন ধরন, উৎপত্তি, কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য কেনো প্রয়োজন সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় বলেন, ‘একটি গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের উৎপাদিত ফসলের ৪০ শতাংশ খাবার টেবিলে আসার আগেই নষ্ট হয়ে যায়।’ তিনি কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষনের বারসিকের প্রচেষ্টাকে অভিনন্দন জানান।

কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে গবেষক এবং লেখক মাজহারুল ইসলাম বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় সংস্কৃতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, বাংলাদেশের সংবিধানের দৃষ্টিতে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যর অবস্থান, ধর্মবৈচিত্র্য, ভাষা বৈচিত্র্য, জাতিগত বৈচিত্র্য, উৎসব/পার্বন, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মাধ্যম ইত্যাদি বিষয়ে বাস্তবধর্মী উদাহরনের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ২য় দিনের ২য় সেশনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমর দত্ত নিম্মবঙ্গীয় ব-দ্বীপের প্রতিবেশসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় আমাদের বাংলাদেশের ভুমিগঠনের অবস্থা, নদ-নদীর ভূমিকা, বিভিন্ন প্রতিবেশের ধারণা, প্রতিবেশের মানুষের কার্যকারণে বিভিন্ন অভিঘাত, প্রতিবেশের প্রতিঘাত এবং প্রতিঘাত মোকাবেলায় করনীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। উপস্থাপনার শেষে একটি ডকুমেন্টরীর মাধ্যমে নদী ব্যাবস্থাপনা বিষয়ে একটি প্রচেষ্টা তুলে ধরেন।২য় দিনের ৩য় সেশনে জেন্ডার বিশেষজ্ঞ কাজী সুফিয়া আক্তার জেন্ডার: বৈচিত্র্য এবং ব্যাপ্তি বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় সমাজে নারী-পুরুষের ভিতর অসমতার বিষয়টি তুলে ধরেন। বিভিন্নভাবে সমাজে নরীরা কিভাবে অসমতার শিকার হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি কথা বলেন। নারী-পুরুষের সমতা আনতে করনীয় বিষয়ে তিনি আলোচনা করেন।
কর্মশালার ৩য় দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের পরিবেশবিদ মিহির বিশ্বাস বৈচিত্র্য এবং পরিবেশ রক্ষায় গণআন্দোলন বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় পরিবেশ রক্ষায় তার নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আলোচনা করেন। ৩য় দিনের ২য় সেশন পরিচালনা করেন প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ গবেষক পাভেল পার্থ। তিনি বৈচিত্র্য, আন্তঃনির্ভরশীলতা ও বহুত্ববাদ বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশন এবং বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে বিস্তর আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘রাম সনদ একটি আন্তর্জাতিক সনদ। এই সনদের মূল বিষয় হচ্ছে জলাভূমি ও জলাশয়ে পাখির অবাদ বিচরণ থাকবে। বাংলাদেশের ২টি অঞ্চল এই সনদের মধ্যে পড়ে। দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবন ও উত্তরাঞ্চলের হাওড়। বাংলাদেশের মোট ৬ ভাগের এক ভাগ হচ্ছে হাওড় অঞ্চল।’


উল্লেখ্য, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী পার্থ সারথী পালের সঞ্চালনায় সকলের পরিচয়ের পর্বের পর বারসিক পরিচালক পাভেল পার্থর সূচনা বক্তব্যর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয় এবং বারসিক নির্বাহী পরিচালক সুকান্ত সেন প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য অংশগ্রহনকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনদিনব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.