সাম্প্রতিক পোস্ট

শ্বাসরুদ্ধ শেকড় ও তেলবন্দি ভ্রুণ

শ্বাসমূলগুলোতে তেলের আস্তর পরায় এগুলোর শ্বাসরন্ধ্র বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়েছে পত্ররন্ধ্র। তেলের আবরণের ফলে গাছের গ্যাস-বিনিময় বিঘ্ন ঘটবে। ফার্নেস তেলের হাইড্রাকার্বন চারাগাছ ও মূলের কোষপর্দা ভেঙে দিবে। চারাগাছ মরে যাবে, বড় গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়বে। যদি তেলের আস্তরণ দীর্ঘদিন থেকে যায় একসময় বড় গাছগুলোও নিহত হবে। গাছের শ্বসন ও প্রস্বেদন হার বদলে যাবে। সুন্দরবনে পানিবাহিত বীজ আর জরায়ুজ অংকুরোদগমের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে। তেল-আক্রান্ত বীজের অংকুরোগদম কোনোভাবেই আর হওয়া সম্ভব নয়। তেলের আবরণ বীজ ভ্রুণের এক করুণ মৃত্যু ঘটাবে। বেশ কিছু অঞ্চল থেকে তেল লাগানো সুন্দরীর বীজ খুলে দেখা গেছে বীজের ভেতরকার শ্বাস ও বীজপত্র শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। এমনকি জরায়ুজ অংকুরোগমের মাধ্যমে গাছ থেকে ঝরে পড়া অংকুরোদগমিত চারাও তেলে-দূষিত মাটিতে বেঁচে থাকবার পরিবেশ হারাবে। বস্তুত সুন্দরবনের উদ্ভিদকূলের বংশ ও বিস্তার এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখোমুখি।

[su_slider source=”media: 189,188,187″]

তেলের কারণে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকবে। এটি সবচে’ বড় সমস্যা তৈরি করবে সুন্দরবনের খাদ্যশৃংখলের প্রাথমিক খাদ্য উৎপাদকের ক্ষেত্রে। কারণ পানির ফাইটোপ্ল্যাংকটন ও জুপ্ল্যাংকটন যারা সরাসরি সূর্য্যরে আলো ব্যবহার করে সুন্দরবনের খাদ্যশৃংখলে খাদ্য তৈরির প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে তাদের খাদ্য উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ তেলের আস্তরণের কারণে পানির তলে সূর্য্যের আলো পৌঁছতে সমস্যা হবে। প্রাথমিক খাদ্য উৎপাদকের উপর নির্ভর করে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও সর্বোচ্চ স্তর। উৎপাদক, খাদ্য, খাদকের এ জটিল বিজ্ঞান ভেঙে পড়বে। যার পরিণতি করুণ ও ভয়াবহ। পানিতে অক্সিজেনসহ জলজ প্রাণীর খাদ্য ও বাসস্থানে সমস্যা তৈরি হবে। যা কেবলমাত্র শুশুক (ডলফিন) নয়, কাঁকড়া, শামুক, সাপ, মাছ, ঝিনুক, কুমীর সকলের জন্যই টিকে থাকবার শর্তকে আরো কঠিন করে তুলবে। মাছের প্রজনন ও ডিম পাড়ার সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসবে। বনের ভেতরকার সংকীর্ণ খালগুলোতে তেলের আস্তরণ জমা হওয়ায় ভাটার সময় এসব তেলজমা অঞ্চলে হরিণ, শূয়োর, বাঘসহ স্থলজ জীবের বিচরণ সংকটাপন্ন হবে। তেল দূষণের ফলে এসব স্থলজ জীবের নানান শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। যা অনেক প্রাণীকে করুণ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। তেল-বিপর্যয়টি ঘটেছে মূলতঃ একটি ডলফিন অভয়াশ্রমে, আর ডলফিনদের টিকে থাকবার ক্ষেত্রে কিছু সময় পরপর পানির ওপরে ভেসে শ্বাস নেয়া একটি অভ্যাস। এ ঘটনার পর ওই অঞ্চলে ডলফিনদের দেখা মেলেনি।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: