Posted in

নিজেকে এবং পরিবেশকে রক্ষা করতে পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহার করেন বেগম

সাতক্ষীরা থেকে সৈয়দা তৌহিদা ইসলাম নিশি

ধুমঘাট অন্তাখালী চকের হত দরিদ্র পরিবারের গৃহবধু বেগম পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলা ব্যবহারে নিজেকে অনেকাংশে রোগমুক্ত এবং একই সাথে তার প্রতিদিনের জ্বালানি খরচ কমাতে পেরেছেন বলে তিনি জানান। বেগমের এলাকার অন্য নারীদের পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলার ব্যবহার দেখে এই চুলা ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন বেগম। আগ্রহী বেগম তার গ্রামে এই চুলা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নিজে চুলা তৈরি করার কৌশল শেখেন। নিজে চুলা তৈরি করতে পারলেও পাইপসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদির অভাবে চুলা তৈরি করা হয়নি অভাবী বেগমের। তারপরও তিনি ক্ষান্ত হননি। তিনি চুলার পাইপসহ অন্যান্য জিনিস পেতে বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে একদিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে চুলার সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করতে সমর্থ হন। তিনি নিজেই চুলা স্থাপন করেন।

received_2393295497568606
সরজমিনে বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সুন্দর পরিপাটি করে রেখেছেন তার পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী চুলাটি। এই প্রসঙ্গে বেগম বলেন, ‘একসময় আমি সাধারণ চুলা ব্যবহার করতাম। এক সময় চুলার ধোয়ায় আস্তে আস্তে আমি এ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে থাকি। তাছাড়া ধোয়া লাগলে আমার মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যেত। সাধারণ চুলার আগুনের তাপ লেগে হাতের পশম পুড়ে যেত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানেই শেষ নয় যে সময় চুলার যে আগুন বের হয়ে আসতো সেই আগুনে আমার হাতে থাকা তামার চুরি গরম হয়ে আমার হাতে ফোসকা কাটতো। তবে এখন এসমস্ত সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হয়েছে।’

তিনি জানান, আগের তুলনায় জ্বালানির খরচ অনেকাংশে কমে এসেছে। পরিবেশ বান্ধব চুলা ব্যবহারের ফলে তাঁর রান্না ঘরের উপরের অংশে এখন আর ময়লা পড়ে না, ধোঁয়াচ্ছন্ন হয় না রান্নাঘর। বেগম বলেন, ‘নিজেকে এবং পরিবেশকে রক্ষা করতে আমি পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহার করি। বেগমের চুলা ব্যবহার দেখে এই চুলা ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন গ্রামের অধিকাংশ নারী।

received_282286319319365
গ্রামের শুরুতে রাস্তার পাশে লাগানো হয়েছে জ্বালানি স্বাশ্রয়ী এবং ধোঁয়ামুক্ত রান্না ঘর পল্লীর সাইনবোর্ড। গ্রামের নারীরা চেয়েছেন সকল রান্নাঘরকে ধোঁয়ামুক্ত করতে। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বারসিক। চুলা তৈরিতে বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এই গ্রামসহ অন্য গ্রামের পথচারিদের এই চুলা ব্যবহারে আকৃষ্ট করে তুলতে এই চুলা ব্যবহারকারীদের বাড়ির সামনে টানানো হয়েছে সাইনবোর্ড। যেখানে লেখা রয়েছে ‘ধোঁয়ামুক্ত রান্না ঘর বাড়ি’।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.