Posted in

বোনা আমন চাষে প্রাণ ফিরলো মানিকগঞ্জের কৃষকের ফসলের মাঠ

ঘিওর মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর কুমার সরকার
আমন শব্দের উৎপত্তি আরবি শব্দ আমান থেকে যার অর্থ আমানত। অর্থাৎ আমন কৃষকের কাছে একটি নিশ্চিত ফসল বা আমানত হিসেবে পরিচিত ছিল। আবহমানকাল থেকে এ ধানেই কৃষকের তাদের গোলা ভরে দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ, পিঠাপুলি, অতিথি আপ্পায়ন সংসারের অনান্য খরচ মিটাতেন। আমন ধান মূলত দুই প্রকার রোপা আমন ও বোনা আমন। রোপা আমন জমিতে চারা প্রস্তুত করে শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মূল জমিতে রোপণ করা হয়, এলাকা ভেদে কার্তিক-অগ্রহায়ণ পৌষ মাসে পাকা ধান কাটা হয়ে থাকে।


নিম্ন অঞ্চল ঘিওর উপজেলার নালী ইউয়িনের কুন্দুরিয়া, হেলাচিয়া, বাঠুইমুরী, নালী, গাংডুবী, দিয়াইল, কেল্লাই, মাশাইল, নিমতা গ্রামের এক সময় কৃষকের প্রতিটি গ্রামেই গভীর জলের ধান চাষ হতো। তবে হঠাৎ বন্যা, ঠিক সময়ে বর্ষার জল না আসায় এলাকায় আমনের চাষ কমে আসছে। এ বছর কৃষকের মনের আশা পূরণ করছে প্রকৃতি। সময়মতো জমিতে জল আসায় এ অঞ্চলের কৃষকরা বোনা আমন চাষ করছেন তাদের ফসলের মাঠে, যদিও বীজ সঙ্কট ছিলো। তবে কৃষকরা তাদের মতো করে সেই বীজ সঙ্কট মোকাবিলা করেছেন। এ বিষয়ে বাঠুইমুরী গ্রামের কৃষক মো. আজমত আলী (৬০) বলেন, ‘পাবনা জেলার কাশিনাথপুর হাট থেকে আমনের ভ্যওয়াইল্যা, জুল দিঘা, মুল্লা দিঘা জাত কিনে আনা হয়। আমাদের কুন্দুরিয়া ও হেলাচিয়া মাঠে ঘিওর উপজেলায় সব থেকে বেশি আমনের চাষ হয়। আমরা আমনের চাষ টিকিয়ে রাখছি।’


অন্যদিকে বোনা আমন ছিটিয়ে বোনা হয়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে মাঠে আমনের বীজ বপন করা হয়। কার্তিক- অগ্রাহয়ন মাসে পাকা ধান কাটা হয়। একে বাওয়া আমন, আছরা আমন, গভীর জলের আমন ধান বলা হয়। মানিকগঞ্জের কুন্দরিয়া ও হেলাচিয়া গ্রামের মাঠে অনেকদিন থেকেই এ জাতের আমন চাষ হয়।এই প্রসঙ্গে কুন্দরিয়া কৃষক সংগঠনের সভাপতি সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘অতীতে কুন্দরিয়ার মাঠে ৪-৫টি জাতের আমন ধান চাষ হতো। আর আউশের ছিল ২-৩টি জাত। তবে বারসিক স্থানীয় জাত কৃষকের মধ্যে টিকিয়ে থাকার জন্য কৃষকদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছর যাবৎ হঠাৎ বন্যা হওয়ার জন্য আমনের দিঘা ও ভাওয়াইল্যা তেমন ভাল হচ্ছে না। ১৯৯৮ সালের বন্যার এখানকার জুলদিঘা, মুল্ল্যাদিঘা, ভাওয়াইল্যার আসল জাত হারিয়ে গেছে। তবে সেসব জাত আবার চাষ হচ্ছে। আশা করছি এ জাতগুলো টিকে থাকবে। আমরা এ জাতের বীজ সংরক্ষণ করছি।’
বাটুইমুরী গ্রামের আরেক কৃষক শফিক মোল্লা (৬২) হোসেন ও আ. হাই (৫৫) বলেন, ‘জমিগুলো রাসায়নিক সারে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই জমির প্রাণ বাচাঁেত আমরা এখনো আমন জাতের ধান এবং খেশারির চাষ করে জমির প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আমনের নাড়া ও খেশারির ভূষি পচলে তা থেকে থেকে জৈব সার তৈরি হয়। এতে জমিগুলোর জৈব উপাদান বৃদ্ধি পায়।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.