সাম্প্রতিক পোস্ট

ভেটি গাছের ওষুধি গুনাগুণ

ভেটি গাছের ওষুধি গুনাগুণ

রাজশাহী থেকে অনিতা বর্মণ

“নামেই নয়- গুণে পরিচয়” ভেটি নামটি বড়ই অদ্ভুদ হলে ও ওষুধি গুণে সমৃদ্ধ এই গাছ। বাড়ির আশেপাশে, রাস্তার ধারে, পুকুর পাড়ে, জঙ্গলে এই গাছটি বেশি দেখা যায়। তবে এই গাছটি রোপণ করা লাগে না, করা লাগে না কোন প্রকার যত্ন। যত্ন ছাড়াই আপন মনে বেড়ে উঠে এই গাছটি। ভেটি গাছটির উচ্চতা সাধারণত ২/৩ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। গাছটি মাঝারি আকৃতির ঝোপ জাতীয়। পাতার রঙ সবুজ এবং পান পাতার মত, তবে পাতা মৃসণ নয়, পাতার গায়ের আবরণ খসখসে, শাখা প্রশাখার উভয় দিক থেকে পাতা গজায়।

20180312_093634
এই গাছে সাদা ফুল হয়, তবে কোন কোন গাছে আবার হালকা খয়েরি রঙের ছোট ফুল ফোটে। ফুলগুলো গাছের বা ডাটাগুলোর অগ্রভাগে থোকাকৃতির হয়ে থাকে। ভেটি ফুলের এক প্রকারের মিষ্টি গন্ধ আছে, আর এই গন্ধে আকৃষ্ট হয়, মৌমাছি, মাছি বা পিঁপড়াসহ অন্যান্য পোকামাকড়। গাছটির গোড়া বা শিকড় মাটির নিচে থাকে। গাছটি গোড়াসহ কেটে ফেললেও মরে না। বর্ষাকালে গাছটির গোড়া থেকে নতুন কুশি জন্মায়। শীতের শেষ হতে শুরু করে বসন্তকাল পর্যন্ত ফুল ফোটে। ফুল ফোটা শেষ হলে বীজ পরিপক্ক হয়। আর এই বীজ পরিপক্ক হয়ে আপন মনে মাটিতে পড়ে বর্ষাকালে গাছ জন্মায়।

20180312_155008
রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার হরিদেবপুর গ্রামের মোসা. কবুলজান বেগম (৫৫) বলেন, “সাধারণত বাংলাদেশের যে কোন শুষ্ক বা আর্দ্র বেলে মাটি, রোদ বা ছায়াযুক্ত, স্যাঁতস্যাঁতে সব ধরনের মাটিতেই এই গাছ জন্মায়। এই গাছটির একটি বিদঘুটে গন্ধ আছে যার কারণে গরু-ছাগল এই গাছটি খাইনা। ভেটি গাছটি এমন একটি গাছ যে, এই গাছের ডালপালা থেকে শুরু করে পুরো গাছটি তিতা।”

20180312_093640
একই গ্রামের মোসা: তাহেরা বেগম (৩৫) বলেন, “এই গাছের পাতার রস খেলে বাচ্চা ও বড় মানুষের কৃমি দূর হয়। অরুচি, পেট ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা দুর করতে ভেটি গাছের কচি কুশি পরিমাণ মত হাতের তালুতে নিয়ে বুড়া আংগুলের সাহায্যে ডলা দিয়ে পিসে সামান্য পরিমাণ লবণ দিয়ে চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।” তিনি আরো বলেন, “গলাহার রোগের জন্য ও এই গাছ ব্যবহার করা হয় । এই রোগের ক্ষেত্রে পরিমাণ মত ভেটি গাছের শিকড়, সোয়া গোন্ডা গোল মরিচ পাটাই পিসে একসাথে মিশ্রণ করতে হবে । তারপর সে মিশ্রিত ওষুধগুলো ৩টি বড়ি তৈরি করতে হবে। এই বড়িগুলো খাওয়ার নিয়ম হলো প্রথমে যে বড়িটি তৈরি করা হবে তাকেই প্রথমে খেতে হবে এইভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি খেতে হবে।”

একই উপজেলার গোকুল-মথুরা গ্রামের শ্রীমতি নিভা রানী (৬০) বলেন, “এই গাছের ফুল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসনবরু (বসন্তপূজা) এবং গোবিন্দ পুজায় ব্যবহৃত হয়।

20180312_155024
এইক গ্রামের শ্রীমতি অঞ্জলী রানী (৫৮) জানান, বর্তমানে ভেটি গাছটি এই এলাকার মানুষ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে বেশি। কারণ অনেকে এই গাছের ওষুধি গুনাগুণ সর্ম্পকে জানেন না। তাছাড়া বাংলাদেশের জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে করে জ্বালানির ব্যবহারও বাড়ছে। আর সেই কারণে নারীরা সময় পেলেই এই গাছগুলো কেটে নিয়ে গিয়ে শুকিয়ে রান্নার কাজে খড়ি হিসেবে ব্যবহার করছেন। কোন কোন সময় দেখা যায় রাস্তা তৈরি বা সংস্কার, ঘরবাড়ি তৈরি করার সময় ও ভেটি গাছগুলোকে কেটে নষ্ট করে দেয়। তাছাড়া সংরক্ষণ ও পরির্চযার অভাবে, গাছের গুরুত্ব না জেনে অনেকে এই গাছটি কে জ্বালানি অন্যতম উপাদান হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

শ্রীমতি কামনা রানী বলেন, “ভেটি গাছটি এই এলাকার চারপাশে দেখা যাচ্ছে। সেগুলোর সঠিক ব্যবহার, সংরক্ষণ ও গুনাগুণ সর্ম্পকে সবাইকে সচেতন করার মাধ্যমেই ওষুধি গুণসসম্পন্ন এই গাছটিকে রক্ষা করা সম্ভব।”

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: