সাম্প্রতিক পোস্ট

বাবুই পাখির বাসায় জোনাকির আলো

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থেকে সত্যরঞ্জন সাহা

প্রকৃতির কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে বৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে স্থায়িত্বশীল পৃথিবী গড়া সম্ভব। বৈচিত্র্যের রক্ষার মাধ্যমেই আমরা সকলে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারি। প্রতিটি প্রাণবৈচিত্র্য কোননা কোন উপকারে আসে।

35807882_507402959678472_8361687106333966336_n
বৈচিত্র্যনির্ভর গ্রামের দিকে তাকালেই দেখা যায় তাল গাছ। তাল গাছ বাবুই পাখির খুবই পছন্দ, কারণ হিসাবে কৃষক সুনিল বিশ^াস (৫২) বলেন, “বাবুই পাখি তাল গাছের পাতায় সহজে বাসা বাধতে পারে। তালের পাতা শক্ত হওয়ায় সুন্দরভাবে বাসা বানায়, বাতাসে হেলে দুলে ও বৃষ্টিতে ভিজে বাসা মাটিতে সহজে মাটিতে পড়ে না। বাবুই পাখি আমাদের তাল গাছে বাসা তৈরি করেছে খেজুর পাতা, নারিকেল পাতা ও বন দিয়ে। গাছ থেকে সুন্দর করে পাতা ছিড়ে নিয়ে নিখুদভাবে বাবুই পাখি বাসা তৈরি করে। বাসা দেখতে অপূর্ব সুন্দর ও ঝড়, বৃষ্টিতে টিকে থাকার মত শক্ত। এত সুন্দর বাসা বাবুই পাখিই বানাতে পারে, অন্য কারো দ্বারা কখনও সম্ভব নয়।”

35686918_507410803011021_2524462754455093248_n
বাবুই পাখির বাসা অধিকাংশই এক তালা ও দুই তালা করে তৈরি করে, বাচ্চাসহ বাস করে থাকে। পুরুষ বাবুই পাখি থাকার বাসা আলাদাভাবে তৈরি করে। বাবুই পাখি ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে থাকে। প্রতিটি বাবুই পাখির বাসায় ও বাচ্চাকে রাত্রের আধারে দেখার জন্য জোনাকি পোকার মিটি মিটি আলো ব্যবহার করে থাকে। বাবুই পাখি আলোর জন্য বাসার এক কোনায় কাঁদা মাটি (এটেল মাটি) এনে রাখে। বাবুই পাখি জোনাকি পোকা ধরে বাসার কাঁদা মাটিতে বসিয়ে রাখে। কাঁদা মাটিতে জোনাকি পোকা এমনভাবে রাখে যেন না যেতে পারে। বাবুই পাখির বাসায় রাত্রের আধারে বাচ্চাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য জোনাকির খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

35812556_507403199678448_6488725604546904064_n
এই প্রসঙ্গে বাহিরচরের কৃষক শহীদ বিশ্বাস (৫০) বলেন, “বাবুই পাখি আলো-বাতাসে সমন্বয়ে থাকে। বাসায় রাতে জোনাকি পোকার আলোতে থাকে, দেখতে খুব সুন্দর দেখা যায়। বাবুই পাখির বাসা এমনভাবে তৈরি করে যত পরিমানে বৃষ্টিই হোকনা কেন বাসার ভিতরে পানি আসবে না ও বাতাসে ছিড়ে পড়বে না। এমন ঘন করে খেজুর পাতা, নারিকেল পাতা ও বন দিয়ে বাসা তৈরি করার ফলে দিনের বেলায় বাসার ভিতরে অন্ধকার থাকে। ফলে বাবুই পাখি জোনাকি পোকার আলো ব্যবহার করে।” আন্ধারমানিকের কৃষাণি স্বপনা রাণি বিশ^াস (৪৫) বলেন, “বাবুই পাখি তাল গাছে বাসা বাধে চৈত্র মাসে। এই বাসায় শ্রাবণ মাস পর্যন্ত থেকে বাচ্চা তুলে পদ্মা নদীর চরে কাঁশ বনে চলে যাই। আষাঢ় মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চরের কাঁশ বনে ঝাক বেধে থাকে। বাড়ির সাথে তাল গাছ, পাখির কিচির মিচির শব্দ শুনতে যেমন ভালো লাগে, তেমনি কৃষকের প্রাণ হলো পাখি। পাখি থাকলে কৃষকের ফসল ভাল হয়, কারণ হলো পাখি প্রচুর পরিমাণে পোকা খায়।”

আমরা তাল, খেজুরসহ বিভিন্ন ধরনের ফল গাছ বেশি করে লাগানোর মাধ্যমে আমরা দেশী ফল খাব, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, পাখি বাঁচবে আমরা সকলে ভালো থাকব। প্রতিটি প্রাণি একে অপরের সহায়ক।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: