সাম্প্রতিক পোস্ট

দেশের ২য় বৃহত্তম ইফতার মাহফিল সাতক্ষীরায়

দেশের ২য় বৃহত্তম ইফতার মাহফিল সাতক্ষীরায়

সাতক্ষীরা থেকে মীর খায়রুল আলম

দেশের বৃহত্তম ইফতার মাহফিল সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা রওজা শরীফে। রমজানের পুরো মাস ধরেই আয়োজন এ ইফতারের। জেলা ও জেলার বাহিরের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এক সাথে এখানে ইফতার করে।

1 (1)

আর এই ইফতারি বিলি-বণ্টনের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন ৪ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক। যার মধ্যে নলতা এতিমখানা মাদ্রাসার শিশুরা। এখানে রোজ ১০ হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়। ৫ হাজারের বেশি রোজাদার রওজা শরীফ প্রাঙ্গনে বিশাল ছাউনির নিচে একসাথে ইফতার করেন। বাকি মানুষের জন্য ইফতার এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মিশন ও বাড়িতে বাড়িতে পৌছে দেওয়া হয়। এখানে নেই ধনী গরীবের ব্যবধান। সকলে ভেদাভেদ ভুলে দূর-দূরন্ত থেকেও ইফতারের উদ্দেশ্য রোজাদাররা ছুটে আসেন এখানে ।

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জের নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের ব্যবস্থাপনায় ও নলতা শরীফের খাদেম আলহাজ¦ আনছার উদ্দিন আহমমেদ তত্বাবধানে এই বিশাল ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

3 (1)

জানা গেছে, শাহ সুফি হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.) তার জীবদ্দশায় রমজান মাসব্যাপী এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন। পরবর্তী সময়ে তার মৃত্যুর পরও মিশন কর্তৃৃপক্ষ এ মাহফিল অব্যাহত রেখেছে। গত ১৯৫০ সাল থেকে এ পর্যন্ত নলতা শরীফ রওজা চত্বরে বিশাল ছাউনি নির্মাণ করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন হয়ে আসছে। প্রতি বছর রোজার শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সকলের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়।

তবে স্থানীয়দের ও কর্তৃপক্ষের ধারণা পবিত্র মক্কা শরীফের পর এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইফতার মাহফিলের আয়োজন। প্রতিদিন ১২ মণ দুধ দিয়ে তৈরি ফিন্নি, সিদ্ধ করা হয় ১০ হাজার ডিম, ছোলা ভুনা, কলা, খেজুর, সিংড়া ও চিড়ার ব্যবস্থা করা হয় ইফতারিতে।

এছাড়া প্রতিবছর রমজানে ইফতার, তারাবী ও ইতেকাফ উপলক্ষে নলতা রওজা শরীফে বাঁশ-খুঁটি দিয়ে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়। ইফতারিতে দিন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার টাকার বেশি খরচ হয়।

iftar

ধর্ম প্রাণ মুসল্লিরা একসঙ্গে ইফতার করেন এখানে। আসেন অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন সূত্রে জানা যায়, মাহফিলের পরিধি ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। সে কারণে রওজার পশ্চিম পাশে একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন মসজিদ নির্মাণ হয়ে গেলে সেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসার স্থান হবে। বর্তমানে অস্থায়ীভাবে টিন ও বাঁশ দিয়ে ছাউনি করা হয়েছে। প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়। কখনো কারও কোনো সমস্যা হয়নি। আর কেউ এখন অভিযোগ করতে পারেননি। সকলে পবিত্র মক্কা শরিফের পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইফতার মাহফিল বলে মনে করেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: