সাম্প্রতিক পোস্ট

নারীর মর্যাদাই পরিবার ও সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে পারে

নারীর মর্যাদাই পরিবার ও সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে পারে

ঢাকা থেকে সুদিপ্তা কর্মকার

বারসিক’র উদ্যোগে গতকাল ঢাকার হুমায়ুন রোড়ে অবস্থিত সমাজসেবা কার্যালয় মিলনায়তনে ‘করোনাকালে (কোভিড-১৯) নারী পুরুষের সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক’ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উক্ত কর্মশালায় পাইওনিয়ার হাউজিং বস্তির ১৬ জন নারী ও পুরুষসহ মোট ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৬ এর সমাজসেবা কর্মকর্তা কে এম শহিদুজ্জামান, শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৬ এর সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক এবং বস্তিবাসী নেত্রী হোসনো আরা রাফেজা। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন বারসিক’র মূল্যায়ন ও দক্ষতা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ আবু রাকিব, সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম, সহযোগী সমন্বয়ক ফেরদৌস আহমেদ এবং সহযোগী কর্মসূচী কর্মকর্তা সুদিপ্তা কর্মকার।

কর্মশালায় সমাজসেবা কর্মকর্তা কে এম শহিদুজ্জামান বলেন, ‘একটি দেশে নারী পুরুষ উভয়েরই সমান অধিকার রয়েছে। পরিবারে নারীকে সঠিক মর্যাদা দিলে সমাজে তিনি মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারবেন, তাঁর বিরূদ্ধে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারবেন। বাংলাদেশ সরকার নারীকে মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে সবসময় বদ্ধপরিকর এবং নারীর প্রতি হওয়া অন্যায়কে কোনভাবেই মেনে নেবে না। সমাজসেবা অফিস সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে কাজ করে। নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য জানা এবং সেই অনুযায়ি কাজ করা প্রয়োজন। তাহলেই এই দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সয়ংসম্পূর্ণ হবে।’

আবু রাকিব বলেন, ‘আদিকাল থেকেই সমাজ কিছু নিয়মকানুন নারী পুরুষের জন্য তৈরি করে দিয়েছে। নারীরা ঘরের যাবতীয় কাজ করছেন এবং পুরুষেরা বাইরের কাজগুলো করছেন। যেহেতু বাইরের কাজের অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে কিন্তু ঘরের কাজের কোন আর্থিক মূল্য নেই তাই নারীর কাজকে সবসময় হেয় করে দেখা হয়। পুরুষ মানুষ সংসারের হাল ধরে বাবা মাকে বৃদ্ধ বয়সে লালন পালন করে এই বিশ^াসের জন্য সমাজে ছেলে সন্তানটি গুরুত্ব পায়। কিন্তু নারীকে বিয়ে দিয়ে পরের সংসারে পাঠাতে হবে, সে পর হয়ে যাবে তাই কন্যাশিশুটির মূল্যায়ন করা হয় না। কন্যা শিশুটিকে জন্মের পর থেকেই অবহেলা সহ্য করে বড় হতে হয়। পড়াশোনার সুযোগ কম পায়, বাইরে বের হবার সুযোগ কম পাওয়া এবং পরিবারে তার মতামত এর ও গুরুত্ব দেয়া হয় না। তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারে নারী ও পুরুষ উভয়কেই মর্যাদা দিতে হবে। সকলের মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই পরিবার সুন্দর হবে এবং নারী ও পুরুষের সম্পর্ক সুন্দর হবে।’

কর্মশালায় জন্মের পর থেকে একজন মেয়ে শিশু একজন ছেলে শিশুর তুলনায় কি ধরনের সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয় সে বিষয়ে একটি অনুশীলন করানো হয়। অনুশীলন শেষে মেয়ে শিশুর চরিত্রে থাকা তামান্না বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমি এক বন্দী ঘরে জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের সব মেয়েদের সাথে আসলে এই ধরনের আচরণই করা হয়। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে দেয়া হয় না।’ ছেলে শিশুর চরিত্রে থাকা রহিমা বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমি এখন সব কিছু করতে পারবো, অনেক স্বাধীনতা আমার, যা একজন মেয়ে হয়ে আমি কোনদিনও পাইনি।’ উপস্থিত ইয়ানুর বেগম বলেন, ‘সংসারে মহিলাদের কোন মতামতই নেওয়া হয়না, কোন গুরুত্বই নাই তার কথার। আর মেয়ে হইলে তাকে কখন বিয়ে দিবে সেই চিন্তায় থাকে সবাই।’

উল্লেখ্য, কর্মশালার শুরুতে আমন্ত্রিত সকলের মধ্যে করোনাকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: