Posted in

ছাদবাগান প্রেমী সেই দম্পতি পেলেন জাতীয় পুরস্কার

পুরষ্কার পেয়ে অনুপ্রাণিত শাহিনা আক্তার

সাতক্ষীরা থেকে মো. আসাদুজ্জামান:
বারসিক নিউজে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে প্রকাশিত ‘বাগান প্রেমী এক দম্পতির গল্প’ শিরোনামে সাতক্ষীরার শহরের উপকণ্ঠের লাবসা এলাকার ছাদে বাগান করা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরার স্থানীয় পত্র-পত্রিকা এবং জনমনে একটি আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই ছাদবাগান প্রিয় দম্পতি’র পক্ষে স্ত্রী শাহিনা আক্তার পেলেন বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কার ২০১৬।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরষ্কার নিচ্ছেন শাহিনা আক্তার
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরষ্কার নিচ্ছেন শাহিনা আক্তার

গত রবিবার ৪ জুন, ২০১৭ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলা ২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন শাহিনা আক্তার। এ বিষয়ে তার স্বামী মনিরুজ্জামান বলেন, “পুরস্কার পাওয়া সব সময় আনন্দের হয়ে থাকে। আর আমি ও আমার স্ত্রী অনেক আগে থেকে বৃক্ষরোপনের প্রতি বেশি আন্তরিক। পুরস্কার পেয়ে আরো ভালো লাগছে।”

ছাদবাগান ক্যাটাগরিতে সারা দেশে ১ম
ছাদবাগান ক্যাটাগরিতে সারা দেশে ১ম

সাতক্ষীরা শহরের উপকণ্ঠের লাবসা এলাকায় চোখ জুড়ানো এ বাড়িটি অবস্থিত। মালিক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জামান ও তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার। এই দম্পতি তাদের তিন হাজার দুইশ বর্গফুট বাড়ির ছাদে কয়েকশ গাছগাছালির একটি বাগান গড়ে তুলে সারাদেশের মধ্যে ‘জ’ ক্যাটাগরিতে ১ম পুরষ্কার পেলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় পুরস্কার ২০১৬। পরম যত্মে গড়ে তোলা তাদের বাগানটি দেখলে বোঝা যায়, গাছগাছালির প্রতি এই দম্পতির রয়েছে অগাধ ভালোবাসা!

তিনতলা এই বাড়ির দুটি ছাদ। দোতলাতে একটি ও অপরটি তিনতলায়। বাগান করার জন্যই এই দম্পতি বাড়িতে দুটি ছাদ তৈরি করেছেন। এ কারণে এলাকার মানুষের কাছে বাড়িটির পরিচয় এখন ‘কৃষিবাড়ি’ হিসেবে।

পুরষ্কারের ট্রফি
পুরষ্কারের ট্রফি

৬ বছর আগে বাড়ির ছাদ দুটিতে বাগান তৈরি করেছেন বলে জানালেন মনিরুজ্জামান-শাহিনা দম্পতি। এই ছাদ দুটিতে তারা দেশি-বিদেশি ফুল, ফল, সবজি ও ঔষধিগাছ লাগিয়েছেন। বিষমুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল ও ঘরে বসে প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা পেতেই এ বাগান তৈরি করেছেন তারা। এতে পারিবারিক চাহিদাও মিটছে তাদের। তাদের বাড়িতে প্রায় এক বিঘা জমিতে ভরপুর বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছ। কোথাও একটুও ফাঁকা নেই। বাড়িতে একটি ছোট পুকুরও দেখা গেল। মাছ চাষ করা হয়েছে এটিতে।

‘প্যাসিফিক প্যালেস’ নামের বাড়ির ছাদ দুটিতে দেশি-বিদেশি ফুল, ঔষধি গাছ এবং কমলালেবু, মালটা ও টমেটোসহ বিভিন্ন মৌসুমী চাষ করে থাকেন। ছাদে বাতাবিলেবু, কদবেল, দেশিবেল, পামফলসহ অসংখ্য ফলদ গাছ লাগানো হয়ে থাকে।

মনিরুজ্জামান ও শাহিনা দম্পতির করা বাগানটি দেশের সেরা ছাদবাগান নির্বাচিত হয়ে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ তাদের কাছে আগ্রহটা আরো বেশি বেড়ে গেছে বলে জানান। তাদের এই পুরস্কারে অনেকে অনুপ্রাণিতও হচ্ছেন।

পুরষ্কার পেয়ে অনুপ্রাণিত শাহিনা আক্তার
পুরষ্কার পেয়ে অনুপ্রাণিত শাহিনা আক্তার

শাহিনা আক্তার বলেন, “পুরস্কার পাওয়া সব সময় আনন্দের হয়ে থাকে। দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়া সেই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো না। বারসিক নিউজসহ অনেক পত্রিকায় আমাদের বাগান নিয়ে নিউজ করার কারণে আমরা জাতীয় পুরস্কার পেলাম। এজন্য বারসিক নিউজকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” তিনি আরো বলেন, “এই পুরস্কার পাওয়ার পর আমার এবং আমার পরিবারের বৃক্ষরোপনের প্রতি আগ্রহ আরো বেশি হলো। তিনি আরো বলেন, “বাগান পরিচর্যা প্রতিদিনের গৃহস্থালি কাজের মতোই হয়ে গেছে। একদিন কাজ না করলে মনে হয়, কিছু একটা কাজ করা হয়নি। গাছগুলো যেন তাদের কাছে একেকটি সন্তানের মতো হয়ে গেছে।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.