সাম্প্রতিক পোস্ট

তরণ সংগঠনের উদ্যোগে শীতের উষ্ণতা পেল ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী থেকে মো. জাহিদ আলী:
রাজশাহীর গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের তরুণ সংগঠন আলোর পথে তরুণ সংঘের উদ্যোগে শীতবস্ত্র পেল সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। সংগঠনের সদস্যরা সম্প্রতি সুবিধা বঞ্চিত পাশ্ববর্তী দাদড় গ্রামে মজার পাঠশালার শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র সহায়তা করে।

DSC01078রাজশাহীর গোদাগাড়ীর উপজেলাধীন গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের একটি ছোট গ্রাম দাদড়। আদিবাসী সাওতাল আধ্যুষিত এই গ্রামে পরিবার সংখ্যা আঠাশটি। যার মধ্যে মুসলিম পরিবার বাস করে চারটি। বরেন্দ্র ভুমিরুপের বৈশিষ্টে এই গ্রাম স্বতন্ত্র। গ্রামটি অন্যান্য গ্রাম থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। পার্শ্ববর্তী গ্রাম বিড়ইল প্রায় এককিলোমিটার দুরে। বিড়ইল গ্রামে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয়। দাদড় গ্রামের ছেলে মেয়েরা বিড়ইল গ্রামের স্কুলে বিভিন্ন শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। প্রাথমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের স্কুল দুরে ও বাড়ীতে পড়াশোনা দেখানোর মত কেউ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঠিক মতো স্কুলে যায় না। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য প্রাথমিকে স্কুলেগামী ১৯জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ২০১৭ সালে গঠে ওঠে মজার পাঠশালা।

DSC01096বারসিক’র সহায়তায় স্বেচ্ছায় পাঠদানের এই স্কুলে সপ্তাহে দুই দিন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা দেখানোর কাজ করতেন নয়নমুনি মুর্ম্মু। নয়নমুনি বিয়ে হয়ে যাবার পর এই স্কুলে শিক্ষাদানের কাজটি করছেন তার বোন দুলালী মুর্ম্মু। গ্রামে বেশির ভাগ মানুষের পেশা দিনমজুর হওয়ায় তাদের সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহ কম। স্কুলে নিয়মিত পড়া তৈরী ও ভালো ফলাফল না করার জন্য শিক্ষার্থীদেরও আগ্রহ কম। ডিসেম্বর শেষ সপ্তাহ থেকে মৃদু শৈতপ্রবাহের কবলে পড়ে এই এলাকার মানুষ। এতে কষ্ট পাচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বয়োঃবৃদ্ধ মানুষ। গোগ্রাম ইউপির বড়শীপাড়া গ্রামের তরুণ সদস্যরা শীতের তীব্রতা থেকে একটু উষ্ণতার জন্য স্কুলের শিক্ষার্থীসহ বায়ান্ন জনের জন্য শীতবস্ত্র সংগ্রহ করেন। সম্প্রতি সংগঠনের সদস্যরা মজার পাঠশালার ১৯জন শিক্ষার্থী সহ গ্রামের মানুষদের শীতবস্ত্র সহায়তা করে। শীতবস্ত্র প্রাপ্ত শিক্ষার্থী জয়চাঁদ মুর্ম্ম বলেন, “আমার সোয়েটারটা খুব সুন্দর আমাকে আর জাড় (ঠান্ডা) লাগবে না”।

তরুণ সংগঠন সম্পা খাতুন জানান, “মজার পাঠশালার শিক্ষার্থীরা শীতের মধ্যে কষ্ট করে দিনযাপন করছে, শিক্ষার্থীদের শীতবস্ত্র সহায়তা আমাদের সংগঠনের সদস্যদের একটি ছোট প্রসায় তাদের জন্য কিছু করার।”

মজার পাঠশালার শিক্ষক দুলালী মুর্ম্মু জানান, “এখন শীত থেকে বাঁচার জন্য এই পাঠশালার অনেকের ছেলেমেয়েরই ভালো কাপড় নেই। আজকের প্রদান করা শীতবস্ত্র তাদের শীত মোকাবেলা সহায়ক হবে। তিনি আলোর পথে তরুণ সংগঠনকে শীতবস্ত্র প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানান।”

মৃদু শৈতপ্রবাহ এখন দেশজুড়েই বিদ্যমান। এই শীতে কষ্ট পাচ্ছে সুবিধা বঞ্চিত বিভিন্ন বয়সী মানুষ ও প্রাণীকুল। আমাদের উচিত তাদের খেয়াল করে শীত নিবারণের চেষ্টা করা।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: