সাম্প্রতিক পোস্ট

সবুজ গ্রামের নারীরা কান্না ছাড়াই রান্না করেন

নেত্রকোনা থেকে রোখসানা রুমি
পরাগ, শাহীন, মাহাবুব, শাহজাহান এবং ইমরানসহ অক্সিজেন যুব সংগঠনের সদস্যরা আজ অনেক খুশি। তাদের গ্রামের নারীরা কান্না ছাড়াই রান্না করছে। নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার দরুণবালি গ্রাম। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নেত্রকোনার তৎকালিন জেলাপ্রশাসক মঈনউল ইসলাম দরুণবালি গ্রামের যুবদের সবুজগ্রাম তৈরির উদ্যোগকে উদ্বোধন করেছিলেন। নারীদের মাঝে বিতরণ করেছিলেন ৫০টি ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশবান্ধব চুলা। তারপর নারীরা আরো ৫০টি চুলা সংগ্রহ করে বাকি নারীদের মাঝে বিতরণ করেন। এখন গ্রামের প্রায় ১০০ জন নারী পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহার করেন।


গ্রামের নারীরা আগে সাধারণ চুলা ব্যবহার করতেন। ধোঁয়া হতো, ঘরে কালি জমা হতো, মাথা ঘুরাতো, কাঁশি হতো, লাকড়ি বেশি খরচ হতো। কিন্তু এখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে। গ্রামের নারী ঝুমা আক্তার বলেন, ‘আমরা জানতাম না যে বন্ধু চুলায় আমাদের অনেক উপকার। এহন ডেগে কালি হয় না, ধোঁয়ায় দম বন্ধ অইয়া আইয়ে না। গ্রামের সবাই ভালাই আছি।’


সবুজ গ্রাম গড়ে তোলার উদ্যোগ যুব সংগঠন ‘অক্সিজেন’ আরো কিছু পরিবেশবান্ধব চুলা গ্রামের মানুষের বিতরণের পরিকল্পনা করছে। যাতে গ্রামের সকল নারীর রান্না ঘর থাকে ধোঁয়ামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন। পাশাপাশি গ্রামের মানুষ যাতে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহার করে এজন্য গ্রামের ১০০ জনকে ব্যাগ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। গ্রামে সাজনা, নিম, তুলসি, বাসক, ফলজ গাছ রোপণ করেছে ১২০০টি। গাছে গাছে বেঁধেছে পাখির জন্য কলসি। নিরাপদ খাদ্য তৈরির জন্য কৃষককে সহযোগিতা করেছে কেঁচো দিয়ে সার তৈরি করতে। গ্রামকে সবুজ করতে অক্সিজেন যুব সংগঠনকে সহযোগিতা করছে গ্রামে কিেেশারী সংগঠন ফুলপাখির সদস্যরা। গ্রামের যুবরা স্বপ্ন দেখে একটি সবুজ গ্রাম, একটি সবুজ বাংলাদেশ।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: