Posted in

প্রান্তিক মানুষের জীবিকায়নে সহায়তা করে অচাষকৃত উদ্ভিদ

হরিরামপুর থেকে মুকতার হোসেন
‘লতা বিক্রি করতে না পারলে তার ভাতের চাল ও তরকারি কেনা হবে না।’- কথাটি বলেছেন মানিকগঞ্জ হরিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে হালুয়াঘাটা গ্রামের মরিয়ম বেগম। বয়স ৫৫ বছর। পরিবারে রয়েছে তার পাঁচ বছরের একজন বিশেষভাবে সক্ষম শিশু কন্যা এবং বৃদ্ধ মা। মরিয়মের স্বামী যখন মেয়ের বয়স তিনমাস তখন থেকেই আলাদা সংসার শুরু করেন। মরিয়ম একাই মেয়ে ও তাঁর মায়ের যত্ন নেন।


মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমার বাড়ি চরে-চর থেকে কচুন লতি সংগ্রহ করে গোজগাজ করে আসতে ট্রলার ধরতে পারি নাই। বাজার ভেঙ্গে গেছে। লতা বিক্রি করতে না পারলে আজ ভাতের চাল ও দরকারি তয়তরকারী কেনা হবে না। সবাই বাজার করে বাড়ির দিকে চলে যাচ্ছে। কিন্তু মরিয়ম অপেক্ষায় বসে আছেন, সেই মানুষের জন্য যারা তার লতি কিনতে আসবে। আর লতি বিক্রি করে তার সংসারে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ কিনে চরে ফিরবেন। আবার পরের দিন বাজারে লতি আনতে হবে আর সেই লতি সংগ্রহ করতে হবে। যদি লতি সংগ্রহ করতে না পারে তাহলে কি হবে মরিয়ম নিজেই জানেন না। প্রকৃতি যেন মরিয়মের ভরসা। প্রকৃতিতে জন্ম নেওয়া অনেক অচাষকৃত উদ্ভিদ প্রান্তিক মানুষের জীবিকায়নে সহায়তা করেন।


জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে চরাঞ্চলে কাজ কম থাকে। এই সময় মরিয়ম বাড়ির পাশের চরের পতিত জায়গায়, আনাচে-কানাচে জন্ম নেয়া অচাষকৃত উদ্ভিদ কচুর লতা এবং কলমিশাক সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি তার পরিবারের খাদ্য যোগান করে থাকেন। তাছাড়া তিনি এলাকায় দিনমজুরী হিসেবেও কৃষি কাজ করেন। ভুট্টা তোলা, শরিষা, কালাই ফসল সংগ্রহ করা, বাড়ির কাজ, অনুষ্ঠানের রান্নার কাজে সহযোগিতা করাসহ বিভিন্ন কাজ করে থাকে।


মরিয়ম বলেন, ‘আমি চর থেকে কচুর লতি সংগ্রহ করে হরিরামপুর লেছড়াগঞ্জ, আন্ধারমানিক বাজারে এনে বিক্রি করি। কারণ চরের মানুষ কচুর লতি বেশি কিনে খেতে চায় না। নদী পাড় হয়ে এপার আসলে আমি লতি বিক্রি করতে পারি। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা লতি বিক্রি করা যায়। তার মধ্যে নদী পাড় হয়ে আসতে-যেতে ১০০ টাকা নৌকা ভাড়া লাগে। ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আমার হাতে থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার কচুর লতি বিক্রি করলে পারলে কিছু বাজার করব। আর আমার মেয়ে বৃষ্টির জন্য একটা জোড়া জুতা কিনব। কারণ বৃষ্টি প্রায় ৩ মাস হলে আমার কাছে জুতার আবদার করছে। কিন্তু বৃষ্টির আবদার আমি পূরণ করতে পারি নাই। আজ বৃষ্টির জন্য জুতা আমি কিনবই।’


মরিয়মের এই অসহায়ত্ব দেখে বারসিক কর্মকর্তা এক জোড়া জুতা কিনে দেয়। জুতাটি হরিরামপুর প্রতিবন্ধী উন্নয়নের সভাপতি আব্দুল করিম মরিয়মের হাতে তুলে দেয় এবং মরিয়মের বিষয়টি সভাপতিকে অবহিত করেন। এ প্রসঙ্গে আব্দুল করিম বলেন, ‘আমি হরিরামপুর প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে কাজ করি।’ তিনি আশ^াস দেন বৃষ্টির প্রতিবন্ধী কার্ড করতে সহায়তা করবেন যাতে সে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার সুবিধা পায়। তাছাড়া যে কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা আসলে বৃষ্টিকে দেওয়া হবে। অন্যদিকে পদ্মা পাড়ের পাঠশালার সভাপিত মীর নাদিম হোসেন মুঠোফোনে জানান, সমাজে অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য পদ্মা পাড়ের পাঠশালা কাজ করে থাকে, মরিয়ম বেগমকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.