Posted in

লোকায়ত চর্চায় আসুন সবাই ভালো থাকি

সত্যরঞ্জন সাহা, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ
অনাদিকাল থেকে কৃষক লোকায়ত চর্চা করে আসছেন। এই জ্ঞান কৃষক পর্যায়ে তথ্য আদান প্রদান, দেখার মাধ্যমে চর্চা করে নিজেরা উপকৃত হন। অভিজ্ঞ কৃষক পারিপাশির্^ক অবস্থা ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে লোকায়ত চর্চা করেন। এই চর্চা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। লোকায়ত চর্চায় নিজস্ব জ্ঞান ও নিজেদের সম্পদ ব্যবহার করার ফলে সহজলভ্য হয়। লোকায়ত চর্চার মাধ্যমে প্রাণ ও প্রকৃতি সজীব থাকে ও প্রাণবৈচিত্র্য টিকে থাকতে সহায়ক হয়।


মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি গ্রামের যুব কৃষক গবেষক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষি আমার জীবন, কৃষি আমার ধ্যান জ্ঞান। আমি প্রাকৃতিক কৃষি চর্চা করে আমি নিরাপদ খাদ্য তৈরি করি। নিরাপদ খাদ্য তৈরিতে অন্যান্য কৃষকদের তথ্য আদান প্রদান করে সহযোগিতা করি। প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে ফসল উৎপাদনে কাজে লাগাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘লোকায়ত চর্চা করে বালাই দমন করি। প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করার মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করি। মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকলে প্রাণ ও প্রকৃতি সবাই ভালো থাকবে। আমার করলা ও শসা ক্ষেতে মাছি পোকার জন্য মিষ্টি কুমড়া পাটায় পিসে ও ঝিগার কস টিনে লেপ দিয়ে ফাঁদ তৈরি করেছি। এই ফাঁদে মাছি পোকা বসলে আর যেতে পারে না, ফলে মারা যায়। লোকায়ত চর্চায় খরচ খুবই কম ও ব্যবহারে প্রাণ প্রকৃতি উপকৃত হয়।’


হরিররামপুর বাহিরচরের কৃষক গবেষক শহীদ বিশ্বাস বলেন, ‘কৃষিকে জানতে হবে, প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করার মাধ্যমে সকলে উপকৃত হয়। সকল প্রাণ বেঁচে থাকে। প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষা হলেই আমরা সকলে ভালো থাকব। আর কৃষিকে রক্ষা করতে হলে নিজের বীজ, মাটি, পানি, বায়ুকে রক্ষা করতে হবে। নিজের চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে কৃষিকে সজীব রাখতে হবে। তাহলে আমরা সকলে ভালো থাকব।’


গ্রামের কৃষকগণ লোকায়ত জ্ঞান চর্চা করেন। তাদের সাথে আলাপচারিতার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করার মাধ্যমে নিজেরা উপকৃত হওয়া যায়। আবার প্রকৃতির সকল প্রাণকে ভালো রাখা যায়। লোকায়ত চর্চার মাধ্যমে কৃষির সকল উপাদান ভালো থাকে, মানুষসহ সকল প্রাণ ভালো থাকতে পারি। কৃষিতে বিভিন্ন ধরনের লোকায়ত চর্চা করে থাকে কৃষকগণ, যা বালাই ব্যবহারে ও বীজ সংরক্ষণে সহায়ক। লোকায়ত চর্চা নিজস্ব জ্ঞান ও সম্পদ ব্যবহার করে কাজে লাগানোর ফলে খরচ খুবই কম। কৃষকগণ হাজার বছর ধরে বীজ সংরক্ষণ করে হলুদের গুঁড়ো ও নিম পাতা ও কল্পনাথের পাতা ব্যবহার করে। কৃষক স্বাধীনভাবে চাষ করে সফল হন।


কৃষক পরিবারের লোকজন লোকায়ত চর্চার মাধ্যমে জীবনযাত্রার অধিকাংশ কাজ করে থাকেন। ফলে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও সহজলভ্য হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.