সাম্প্রতিক পোস্ট

প্রাণী সম্পদগুলো প্রান্তিক মানুষের মূলধন

সিংগাইর মানিকগঞ্জ থেকে শাহীনুর রহমান
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দরিদ্র প্রান্তিক ভুমিহীন পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর বেশির ভাগই চাষবাসের সাথে যুক্ত থাকেন। কেউ নিজের জমিতে কাজ করেন আবার কেউ নিজের জমি না থাকায় অন্যের জমিতে চাষবাাদ করেন। আবার গ্রামীণ নারীর কেউ বাড়িতে হাঁস-মুরগি, গরু ছাগল পালন করেন, যা গৃহপালিত প্রাণী সম্পদের মধ্যে অন্যতম। হাঁস-মুরগি কবুতর গরু ছাগল পালন করে ডিম দুধ মাংস দিয়ে পুষ্টির চাহিদা যেমন পূরণ করেন তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও সাবলম্বী হয়ে থাকেন। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই এ ধরনের ছোট ছোট খামার লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে দেশে প্রাণীজ আমিষ সরবরাহ সচল রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছে গ্রামীণ কৃষকের বসতবাড়িতে গড়ে উঠা হাঁস-মুরগি, কবুতর ও গরু, ছাগলের ছোট এই খামারগুলো। কিন্তু অনেক সময় খামার অব্যবস্থাপনা, বিষযুক্ত ঘাস ব্যবহার, রাসায়নিক জাতীয় খাবার ব্যবহারের কারণে অনেকাংশেই দুধ, ডিম ও মাংসের মান ভালো থাকেনা। নানা ধরনের রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রান্তিক মানুষগুলো। সেইসাথে প্রাণী সম্পদগুলোর যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে সেই সাথে মানব শরীরেও দেখা দেয় নানা রোগের সংক্রমণ।


তাই রোগের প্রতিষেধকের চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই উত্তম। সেই দৃষ্টিকোন থেকে জনগোষ্ঠীর মধ্যে দক্ষতা বৃদ্ধিতে বারসিক’র সহায়তায় সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের ব্রী কালিয়াকৈর নযাপাড়া কৃষক কৃষাণি সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে প্রাণী সম্পদের রোগ নিরাময় ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাতে কলমে মুরগির টিকা দান বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি।


প্রশিক্ষণে সহায়কের ভূমিকা পালন করেন বারসিক কর্মকর্তা মো. মুসুদুর রহমান। প্রশিক্ষণে হাঁস-মুরগি ও গরু, ছাগলের কি কি ধরনের রোগ হতে পারে, রোগের লক্ষণ কি কি, রোগের আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কি এবং রোগ হলে কি ধরনের চিকিৎসা করতে হবে সে বিষয়ে আলাদা আলাদাভাবে আলোচনা করেন তিনি। প্রশিক্ষণে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘গরু বেশির ভাগ তড়কা, বাদলা, ক্ষুরা, গলা ফোলা রোগ হয়ে থাকে। ছাগলের পিপি আর তাছাড়া হাঁস-মুরগির রানী ক্ষেত, গুটিবসন্ত, চোখ ফোলা এ ধরনের রোগ বেশি হয়ে থাকে।’


এ ক্ষেত্রে তিনি বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার পাশাপিাশি লোকায়ত চিকিৎসার পদ্ধতি বর্ণনা করেন। প্রাণী সম্পদের রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই উত্তম বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, রোগের আগেই টিকা দেওযার ব্যবস্থা করতে হবে। রোগ হলে রোগাক্রান্ত প্রাণীকে আলাদা রাখতে হবে। তাছাড়া খাবার গ্রহণের মাধ্যমেও প্রাণীসম্পদের রোগের বিস্তার ঘটে। খাবার খাওয়ানোর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। গরু, ছাগলে জন্য চাষ করা ঘাষের খাবাবের পরিবর্তে কাটা ঘাষ খাওয়াতে হবে এবং রোদে এক ঘণ্টা শুকিয়ে খাওয়ালে রোগের আক্রমণ কম হবে।


তিনি বলেন, ‘গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগির বাসস্থানগুলো নিয়মিত নিম পাতা, ভাটি পাতা দিয়ে ঝাড়– দেওয়ার পাশাপশি পাথর চুন দিয়ে ভালো করে ধুয়ে দিতে হবে। সেই সাথে গরুর গলাফোলা রোগের জন্য আকন্দ পাতা দিয়ে পরিমাণ মত আগুনের ছেকা দেওয়া উত্তম। মুরগির আতাল ঠান্ডা জায়গায় তৈরি করা এবং উকুন জাতীয় রোগের আক্রমণ থেকে আতালের পাশে মটমটি, বৈন্যা গাছের পাতা ব্যবহার করতে হবে।’


প্রশিক্ষণ মুল্যায়নে সংগঠনের সভাপতি মো. হযরত আলী বলেন, ‘প্রাণী সম্পদ প্রান্তিক মানুষের একটি সম্পদ। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমরা যেমন বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা নিয়ে থাকি প্রাণী সম্পদের জন্যও আমাদের সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। তাছাড়া নিরাপদ পুষ্টির জন্য আমাদের প্রাণীসম্পদের জন্য নিরাপদ খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: