Posted in

পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক

সিংগাইর, মানিকগঞ্জ থেকে শিমুল বিশ্বাস, আশীষ সরকার, বিউটি সরকার, শাহিনুর রহমান, শারমিন আক্তার

সংস্কৃতি ও কৃষি উৎপাদন সম্পর্কিত এবং ঋতুভিত্তিক মাতৃভূমিতে বারবার ফিরে আসে পহেলা বৈশাখ। কৃষি প্রধান দেশ হিসাবে উৎপাদনের সঙ্গেই সম্পর্ক রেখে পহেলা বৈশাখ বছরের প্রথম দিন ধার্য হয়ে আসছে সুদুর অতীত কাল থেকে। সেই হিসাবে এ দিনটি বাঙালিদের লোক উৎসবের দিন হিসাবেই বিবেচিত। এ দিনে বাঙালি জাতির কন্ঠস্বরে ধনিত হয় বৈশাখী গান। নারী পুরুষ সেজে ওঠে বর্ণিল রঙে। গতকাল ছিল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। বাঙালি লোক উৎসবের প্রথম দিনে বাঙালি হিসাবে নিজেদেরকে মেলে ধরেছে নয়াবাড়ি গ্রামের শিশু, কিশোর, নবীণ, প্রবীন সহ বাঙালি সংস্কৃতিমনা জনগোষ্ঠী।

IMG_20190414_110613
‘দিন বদলের চেষ্টা হোক নতুন ভোরের প্রত্যাশা’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে শতাধিক নারী পুরুষের অংশগ্রহণে গতকাল সিংগাইর উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বটমুলে উৎযাপিত হয় বৈশাখী মিলন মেলা ১৪২৬। সিংগাইর শহীদ রফিক যুব সেচ্ছাসেবক টিম এবং বেসরকারি গবেষণাধর্মী উন্নয়ন সংগঠন বারসিক’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বৈশাখী মিলন মেলায় এলাকার নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর বৃদ্ধ বনিতা উপস্থিত হয়ে পুরনো বছরের সকল ব্যর্থতা, নৈরাশ্য, গ্লানি ভুলে গিয়ে মহানন্দে নতুন বছরকে বরণ করে নেন। সেই সাথে আগামী দিনগুলো যেন সুখ সমৃদ্ধি ও নবজীবন প্রাপ্তি হয় সেই কামনা করে।

IMG_20190414_111332
নববর্ষকে বাঙালির সহ¯্র বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, প্রথা, আচার, অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতির ধারক এবং বাহক বলা হয়। যে কারণে নববর্ষ উপলক্ষে নয়াবাড়ি গ্রামের কৃষক কৃষাণিগণ বটমূলের মিলন মেলায় উপস্থিত করেন গ্রামীণ জীবনে ব্যবহৃত ঢেকি, চালুন, কুলা, ধামা, সাঁিজ, চালমাপার স্যাড়, ঝুড়ি, হাতপাখা, আগুনের আলসে, হুক্কা, কলকি, লাঙ্গল, জোয়াল, বিভিন্ন জাতের বীজ, ২০ প্রকার দেশীয় শাকসবজিসহ নানান উপকরণ। যে উপকরণগুলো নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণায়নে সহায়তা করেছে।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নয়াবাড়ি বটমুলে দিনব্যাপি ছিল বিস্কুট দৌড়, বেলুন ফাটানো, বেত/দড়ি লাফ, রশি টানাটানি, চোখ বেঁধে পাতিল ভাঙ্গা, যেমনখুশি তেমন সাঁজো, মোরগ লড়াই এবং তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠাসহ বিভিন্ন দেশী খেলাধূলার সমাহার। তাছাড়া বৈশাখী মিলন মেলায় অংশগ্রহণকারীগণ অনুষ্ঠানের শুরুতে নানা রঙে, নানান সাঁজে সজ্জিত হয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করেন এবং জয়নাল মার্কেট প্রদক্ষিণ করে বটমূলে পান্তা ভাত খাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ করেন।

IMG_20190414_105947
পহেলা বৈশাখের যাবতীয় অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন শহীদ রফিক যুব সেচ্ছাসেবক টিমের সদস্য আশীষ সরকার, শাহিন আলম, সাইফুল ইসলাম, অনন্যা, রুনা, মাসুদুর রহমান প্রমুখ। নববর্ষ উপলক্ষে কৃষক ইমান আলী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাই আমাদের সকলকেই বাংলার সংস্কৃতি চর্চার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে আমাদের সমাজে কোন ধরনের বিশৃংখলা থাকবে না।’ পরিশেষে সকলের মঙ্গলকামনা করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষ করা হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.