Posted in

বর্ষা ও ডিঙ্গি নৌকা

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে সত্যরঞ্জন সাহা:
নদী, খাল, বিল আর জলাশয় মিলে মানিকগঞ্জ জেলা। হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর পানি বর্ষা মৌসুমে ভরপুর হয়ে শাখা নদী ও খাল বিলে পানি প্রবেশ করে। পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলের রাস্তা, মাঠঘাট, ফসলী জমি পানিতে ভরপুর থাকে। মানুষের যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন পড়ে ডিঙ্গি নৌকার। ফলে বর্ষার আগমনে ডিঙ্গি নৌকার হাট বসে ঝিটকায়। নিম্নাঞ্চলের লোকজন বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য কলার বেহালা বা ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার করেন। ডিঙ্গি নৌকার মাধ্যমে এলাকার মানুষজন পাড় হন। গ্রামের মানুষের হাট বাজার ও কৃষি পণ্য বিক্রয় ও যোগাযোগের জন্য ডিঙ্গি নৌকা খুবই প্রয়োজন। তবে এলাকার মধ্যে ব্যক্তিগত দুই তিনটি ডিঙ্গি নৌকা থাকে। গ্রামের মানুষ প্রয়োজনে সকলেই ব্যবহার করে থাকেন ডিঙ্গি নৌকা। তবে অনেকে কলার বেহালা ব্যবহার করেন।
এই প্রসঙ্গে সংস্কৃতিকর্মী সফি উদ্দীন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের জন্য আমারা হাট থেকে ডিঙ্গি নৌকা ক্রয় করি। ডিঙ্গি নৌকা কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়। একটি ডিঙ্গি নৌকা ৫ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রয় হয়। আবার পুরাতন নৌকা মেরামত করে ব্যবহার করা হয়। বর্ষায় গ্রামের লোকজন ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার করে চাই, ধুয়ারি, ধর্ম জাল, বর্শী দিয়ে মাছ ধরে। ফলে বর্ষায় আমরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হই।’

আন্ধারমানিকের রেনুবালা বিশ্বাস (৪৮) বলেন, ‘বর্ষা আমাদের আর্শীবাদ, বর্ষায় চকে পানি প্রবেশ করে, মাটির উর্বরতা বাড়ে। চকে বর্ষার পানি আসার কারণে আমাদের দুই মাস ডিঙ্গি নৌকা করে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষার জন্য বাড়িতে আমরা আলগা চুলা এবং শুকনা খাবার তৈরি করে রাখি। তবে বর্ষার মৌসুমে আমাদের মাছ কিনা লাগে না, চকের মাছ আমাদের খাবার চলে। বর্ষার পানি আসায় আমাদের পুকুরে দেশীয় মাছ থাকে। বর্ষার পানিতে মাঠে পলি মাটি পড়ে আবাদ ভালো হয়, খরচ কম লাগে।’
বাবুপুরেরস্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্য প্রদীপ সরকার বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বর্ষার পানিতে রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়। বাড়িতে থেকে বের হওয়ার জন্য ডিঙ্গি নৌকার প্রয়োজন হয়। বাজার করতে ও কৃষি পণ্য বিক্রয় করতে ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত ডিঙ্গি নৌকা করে যাই। গ্রামে দুই তিনটি ডিঙ্গি নৌকা একে অপরের সহযোগিতায় সকলে পাড়াপাড় হয়। বর্ষায় ডিঙ্গি নৌকা আমাদের এলাকার খুবই প্রয়োজন।’
বর্ষার আগমনে নদী, খাল বিল, জলাশয় ভরপুর হয়। কাঠ মিস্ত্রিরা বাজার থেকে কাঠ সংগ্রহ করে ডিঙ্গি নৌকা তৈরি করে। বাজার থেকে লোকজন প্রয়োজন অনুযায়ী ডিঙ্গি নৌকা ক্রয় করেন। ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার করে মৎস্যজীবীরা মাছ ধরে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.