সাম্প্রতিক পোস্ট

অচাষকৃত উদ্ভিদে আছে খাদ্যপ্রাণ ও ওষুধি গুণ

তানোর, রাজশাহী থেকে অসীম কুমার সরকার

বরেন্দ্র অঞ্চলের পতিত জায়গা ও বাড়ির আসপাশে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন শাক সবজি জন্মে থাকে। এসব অচাষকৃত শাকসবজির মধ্যে রয়েছে সানছি, গিমা, শুনশুনি, বথুয়া, নোনতা, ডুমুর, হেলেনচাসহ হরেক প্রজাতি। প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এসব উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে মানুষের বিভিন্ন পুষ্টির উৎস। গ্রাম অঞ্চলের মানুষের এই খাবারগুলো থেকে পুষ্টির চাহিদা অনেকটা পূরুণ হয়ে থাকে! তবে নানা কারণেই বরেন্দ্র অঞ্চলসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে এসব উদ্ভিদের কোন কোনটি বিলুপ্ত হয়েছে কিংবা কোন কোনটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

PHOTO-2
অনেকের মতে, জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার, অচাষকৃত উদ্ভিদগুলোকে আগাছা হিসেবে দেখা এবং প্রাকৃতিক ও মানুষ সৃষ্ট নানান দুর্যোগের কারণে এসব উদ্ভিদ আজ হ্রাস পেয়েছে। আধুনিক কৃষি আসার পর থেকেই অচাষকৃত এসব উদ্ভিদকে মানুষ আগাছা মনে করতো। ফলশ্রুতিতে জমিতে এবং জমির আশাপাশে জন্মানো এসব উদ্ভিদ তারা উপড়ে ফেলতো। অন্যদিকেত জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে এসব উদ্ভিদ রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ায় মারা যায়। আবার দেখা যায়, একই প্রজাতির ফসল চাষ এবং নানান উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে এসব অচাষকৃত উদ্ভিদগুলোকে ধ্বংস করা হয়।

PHOTO-1
তবে যারা এসব উদ্ভিদের পুষ্টি ও ঔষুধি গুণাবলী জানেন তারা এসব উদ্ভিদকে সংরক্ষণ ও বাঁচানোর উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। এসব উদ্ভিদকে যাতে আগাছা হিসেবে না দেখা হয় সেজন্য নানান প্রচারণা করে থাকেন। এরমই একটি উদ্যোগ সম্প্রতি দেখা গেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নে। বরেন্দ্র অঞ্চলের গোদাগাড়ী উপজেলার ‘রিশিকুল আনসার ভিডিপি ক্লাব’, ‘রিশিকুল নারী সংগঠন’ ও ‘বারসিক’ এর যৌথ আয়োজনে সম্প্রতি একটি দিনব্যাপি ‘অচাষকৃত শাক সবজির গ্রাম্য মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় শ্রাবণের ঘন বর্ষণকে উপেক্ষা করে সহা¯্রাধিক মানুষের মিলন মেলায় রূপ নিলো গ্রাম্য এই উৎসবের।

মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, এ সকল শাক সবজি বিষমুক্ত ও  রাসায়নিক সার ছাড়াই জন্মে থাকে। এ ছাড়া পুষ্টির মাত্রাও অনেক বেশি। তাই অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি এই শাকসবজিগুলো আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপশি স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে এই ধরণের শাকসবজির মেলা প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় আয়োজন করা খুব প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন। অনুষ্ঠানে ৩০ জন নারী অচাষকৃত শাক সবজি নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। মেলায় অংশগ্রহণকারী নারীরা দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে এসব উদ্ভিদের পুষ্টিগুণ, ঔষুধিগুণ এবং খাদ্যগুণ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানান। দর্শনার্থীরা এসব উদ্ভিদের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে তাদের স্ব স্ব এলাকায় এসব উদ্ভিদকে বাঁচানোর উদ্যোগ নেবেন এমনটাই আশা করেন ওই ৩০ জন নারী।

উল্লেখ্য যে, মেলায় ডা. মো. শফি মোল্লার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন রিশিকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসা: হাফিজা খাতুন, আনসার ভিডিপি ক্লাবের সভাপতি মো. আয়নাল হক শান্ত, বারসিক সহযোগী গবেষক ইসমত জেরিন, শহিদুল ইসলাম শহিদসহ শিক্ষক, গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ।

happy wheels 2
%d bloggers like this: