Posted in

গবেষণার মাধ্যমে এলাকা উপযোগী ধান নির্বাচন করেন চরের কৃষকরা

সত্যরঞ্জন সাহা, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ
বারসিক ও বরুন্ডি কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে গতকাল বরুন্ডি প্রায়োগিক ধান গবেষণা প্লটে বোরো মৌসুমে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২২ জন কৃষক ৬টি ধানের জাত বাছাই করেন।


উক্ত মাঠ দিবসে বারসিক সমন্বয়কারী মানিকগঞ্জ বিমল রায়, প্রোগ্রাম অফিসার মাসুদুর রহমান, বরুন্ডি কৃষক সংগঠনের সদস্য কনিকা মন্ডল, কৃষক গবেষক বৈদ্যনাথ সরকার, কৃষক গুরুদাস সরকার ও প্রোগ্রাম অফিসার সত্যরঞ্জন সাহা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘প্রায়োগিক ধান গবেষণার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করে উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করি। কৃষকদের উদ্যোগে ধানের জাত উন্নয়নে ব্রিডিং ও বাছাইয়ের মাধ্যমে করে উন্নয়ন করা হয়। দুর্যোগ মোকাবেলায় কোন ধরনের ধান ভালো হয় তা বাছাই করে আমরা চাষ করি।’
তাঁরা আরও বলেন, ‘আমন মৌসুমে বন্যার পানি সহনশীল ও গভির পানির ধান বাছাই করে চাষ করছি। ধান গবেষণার মাধ্যমে খরা সহনশীন ধান বাছাই করি। এর নাম “কাইশ্যাবিন্নি ধান”। এছাড়া জৈব উপায়ে ধান চাষের তথ্য আদান প্রদান করে সম্প্রসারণ করা হয়। যুব কৃষকগণ জৈব উদ্যোগ গ্রহণ করে চাষাবাদে সফল হচ্ছে। যুবকদের উদ্যোগ দেখে অন্যরা উৎসাহিত হয়ে চাষাবাদ করছেন।’


প্রায়োগিক ধান গবেষণার মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদানে জৈব চর্চা সম্প্রসারণ হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে বীজবৈচিত্র্য বিনিময় করছে। ফলে কৃষক নিজস্ব উপায়ে গবেষণা করে এলাকা উপযোগী ধানের জাত বাছাই করতে সমর্থ হয়েছেন। অন্যান্য কৃষকগণ চাষ উদ্যোগ দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন।


উল্লেখ্য যে, একসময় বাংলার মাঠে ঘাটে ছিল হাজারো রকমের ধান। কৃষকগণ বৈচিত্র্য রকমের ধান চাষ করতেন। রকমারী ধান ফলাতে জমির ধরন অনুযায়ী ধান চাষ করা হতো। কম খরচে নিজস্ব বীজ ও গোবর সার ব্যবহার করে ধান চাষ করতো। তখন কৃষকদের হাতে ছিল বিভিন্ন ধরনের ধান বৈচিত্র্য। তবে বর্তমানে কৃষকের হাতেগোনা কিছু ধান থাকায়, দুর্যোগ মোকাবেলায় হিমশিম খেতে হয়। রাসায়নিক সার ও বিষ ব্যবহার করে মাছসহ প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। বরুন্ডি কৃষক সংগঠন ও বারসিক যৌথ উদ্যোগে প্রায়োগিক ধান গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকা উপযোগী ধানের জাত বাছাই ও ধানবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে আসছে। কৃষক পর্যায়ে কম খরচে ও জৈব উপায়ে চাষাবাদ তথ্য আদান প্রদান করে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান করছে। ফলে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ধান বীজ বিনিময় তথ্য আদান প্রদানের সম্প্রসারণ হয়েছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.