Posted in

বাজার ব্যবস্থাপনায় নারীর প্রবেশাধিকার সহজ করতে হবে

রাজশাহী থেকে শহিদুল ইসলাম

“জলবায়ু পরিবর্তীত হচ্ছে,পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের পেশা এবং কাজের চাহিদা। প্রয়োজনেই নিজ থেকে মানুষ বিভিন্ন পেশার সম্প্রসারে উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। আর এই অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। একইসাথে পরিবর্তীত পরিস্থির সাথে তালো মিলিয়ে গ্রামীণ নারী প্রতিনিয়ত সৃষ্টি করছে উপযোগী নানা ধরনের পেশা।” গকাল রাজশাহীর পবা উপজেলার বিলনেপাল পাড়ায় বারসিক, বিলনেপাল পাড়া নারী সংগঠন এবং বড়গাছী মুঠি সমিতির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘দুর্যোগকালিন সবজি চাষ, বীজবিনিময়, কুটির শিল্প ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নারীর প্রবেশাধিকার’ বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনময় এবং এ্যাডভোকেসী সভায় বক্তারা একথা বলেন। অভিজ্ঞতা বিনময়কালে নারীগণ দুর্যোগকালিন সবজি চাষ,বীজবিনিময়, কুটির শিল্প ও বাজার ব্যবস্থাপনায় নারীর প্রবেশাধিকার বিষয়ের দিকগুলো তুলে ধরেন এবং নিজেদের সক্ষমতা গুলো বিনিময় করেন।

IMG_0718রাজশাহীর পবা উপজেলার বিলনেপাল পাড়ার গ্রামের নারীরা সেরকমই কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। ২০১৬ সালের প্রথমদিকে গ্রামটির নারীরা একটি সংগঠন তৈরি করে নিজেদের উদ্যোগগুলো যৌথভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন। গ্রামটির প্রায় ১৫০ জন নারী বাড়িতে হাতের কাজ এবং বিভিন্ন ধরনের নকশার কাজের মাধ্যমে আয় করছেন এবং একই সাথে পারিবারিকসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছেন। সংগঠনের সদস্যরা দুর্যোগ সহনশীল সবজি চাষেও সফলতা পেয়েছেন। বৈচিত্রময় খাদ্য সুরক্ষায় নিজেরা অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণে যৌথ উধ্যোগ গ্রহণ করছেন। এই প্রসঙ্গে সংগঠনের সদস্য মুর্শিদা বেগম বলেন, “আমরা হাতের কাজ করি, টাকা আয় করি,এই আয় দিয়ে আমরা ছেলেমেয়েদের স্কুলের লেখাপাড়ার খরচ যোগান দিচ্ছি । একইসাথে পরিবারের নানা কাজে সহায়তা করছি। একজন নারী তার সংসারের সকল কাজের পাশাপাশি উক্ত কাজটিও করে থাকেন।”

IMG_0670 - Copy

 উল্লেখ যে, সংগঠনের নারীরা ত্রিপিছ, শাড়ী, থান কাপাড় ইত্যাদিতে বিভিন্ন ধরনের সুচি, সুজনি, চুমকি, চেইন সেলাই এর ডিজাইন কাজগুলো করেন। অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে নারীরা বাজার ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রবেশাধিকারের দিকগুলো নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বলা হয়, বাজার ব্যবস্থাপনায় নারীদের অগ্রাধিকার কম দেওয়ায় তৈরিকৃত উপকরণ নিজেরা সরাসরি বাজারজাত করতে না পারায় অনেকসময় ক্ষতির শিকার হন। অংশগ্রহণকারী নারীগণ দাবি করেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় নারীদের প্রবেশাধিকার সহজ করতে সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করতে হবে। অভিজ্ঞতা বিনিময়কালে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম, সহযোগী কর্মকর্তা ব্রজেন্দ্র নাথ, সুলতানা খাতুন । এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারী নেতৃ মোছাঃ আনেরা বেগম, তানিয়া আক্তার, রেহেনা বেগমসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

 

 

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.