Posted in

বরেন্দ্র এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ও বজ্রপাত মোকাবিলায় জনউদ্যোগ

রাজশাহী থেকে উত্তম কুমার

রাজশাহী জেলায় আঞ্চলিক নাম বরেন্দ্র অঞ্চল। বরেন্দ্র অঞ্চলে বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অত্যাধিক খরা। রয়েছে পানি সংকটও। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বজ্রপাত। এই অত্যাধিক খরা মোকাবেলায় লোকায়ত পদ্ধতিতে তাল গাছের রস সেবন করে খরা মোকাবেলা করতেন বরেন্দ্র এলাকার মানুষেরা। শুধু তাই নয়; তাল গাছের রয়েছে নানান ব্যবহার। বরেন্দ্র এলাকায় শীত মৌসুমে তাল গাছের রস দিয়ে গুড় বানিয়ে পিঠা উৎসব প্রত্যেকটি বাড়ির একটি ঐতিহ্য। তাল গাছের কাঠ দিয়ে বরেন্দ্র এলাকার মাটির বাড়ি নির্মাণ করা হয়। যা খরা মোকাবেলার জন্য অত্যন্ত কার্যকারী। এছাড়া তাল পাতা দিয়ে পাখা তৈরি করা হয়। তালের পিঠা তো বরেন্দ্র অঞ্চলের একটি সুস্বাদু খাবার এবং তালগাছ অনেক খরা সহনশীল।

তানোর পৌরসভার ৫নং তালান ইউনিয়নের মোহর গ্রামে রয়েছে ফসলি কৃষি জমি ও মানুষের বসতি। মোহর গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষক যারা প্রতিনিয়ত কোন না কোন কৃষি কাজে মাঠে থাকতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাত প্রতিবছরের ঘটনা। বজ্রপাতে প্রতিবছর মানুষসহ প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অবকাঠামো সুরক্ষা, বজ্রপাতের হাত থেকে এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষা ও বরেন্দ্র এলাকায় খরা মোকাবেলা ও নানান ধরনের পিঠার সংস্কৃতি ধারণ করে বারসিক’র দিকনির্দেশনায় মোহর স্বপ্ন আসার আলো সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা বিগত ৭/৮  বছর ধরে নিজেরা তাল বীজ রোপণ করার পশাপাশি এলাকার মানুষকে সেগুলো রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণে উদ্বুদ্ধ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মোহর কাশিম বাজার, লছিরামপুর, শুকদেবপুর, দেবিপুর, রাস্তার দুই পাশে প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় কয়েক হাজার তাল গাছের বীজ রোপণ করা হয়। বর্তমানে এলাকার মানুষের তত্ত্বাবধানে গাছগুলো বেড়ে উঠছে।

এই কর্মউদ্যোগের ফলে এলাকার মানুষের ঐতিহ্য আর স্থানীয় সম্পদনির্ভর কর্মক্ষেত্র বিকশিত হওয়ার পাশপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় তৈরি হচ্ছে আপন সম্পদ ও চর্চা নির্ভর এক স্থায়িত্বশীল ক্ষেত্র, যা এলাকার প্রাণ ও সম্পদ সুরক্ষায় কার্যকর অবদান রাখবে বলে এলাকার মানুষ বিশ্বাস করেন। মোহর স্বপ্ন আসার আলো সংগঠনের ও গ্রামের সচেতন জনগণ, সরকারের নির্বাচিত সদস্য, ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের উদ্যোগে গত ৮ বছর ধরে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে তাল বীজ সংগ্রহ করেন বপনের জন্য। গ্রামের লোকজন নিজেরা তালবীজ রোপণ করার পাশপাশি যুব ও স্বেচ্ছাসেবকদের দেওয়ার জন্য তাল বীজ সংরক্ষণ করেন। এসব সংঘবদ্ধ তরুণরা গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাল বীজ রোপণে যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেন। এলাকার প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় বর্তমানে বৃক্ষরোপণ একটা সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ফলে এলাকায় দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে তাল গাছের চারা।

শুধু রাস্তায় নয়; বাড়ির আশেপাশেও অনেক তালগাছের চারা দেখা যাচ্ছে। বিগত প্রায় ১৪ এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কর্মকৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সহায়কের ভূমিকা পালন করছে বারসিক। এরই ধারাবাহিকতায় এলাকার যুব সমাজ, পেশাজীবী এবং আগ্রহী জনগোষ্ঠী এলাকার প্রাকৃতিক সংকট মোকাবেলা করছেন। এই কর্মপ্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই স্থানীয় সরকার, প্রশাসন, সরকারি সেবাদানদানকারী প্রতিষ্ঠান ও গ্রামের জনগোষ্ঠী একে অপরের সঙ্গে বাড়ছে ঐক্য । আর এই ঐক্য বৃদ্ধির মধ্য দিয়েই সমাজে অনেক ধরনের কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.