Posted in

নিজে বীজ সংরক্ষণ করি এবং বিনিময় করি

রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার
সবারই হাতেই স্থানীয় জাতের বিভিন্ন শাকসবজির বীজ। কেউ নিয়ে এসেছেন চাল কুমড়া, কেউবা মিষ্টি কুমড়া, কেউ আবার নিয়ে এসেছেন লাল শাকের বীজ। উদ্দেশ্য একে অপরের সাথে বিনিময় করবেন। চাল কুমড়া বীজ দিয়ে মিষ্টি কুমড়ার বীজ নিবেন। আবার লাউ বীজ দিয়ে পেঁপের বীজ নিয়ে বাড়িতে রোপণ করবেন। এ বীজগুলো বুঝে নিচ্ছিলেন সংগঠনের সভাপতি বানী রানী (৪৫) ও অন্যদের বীজ দিয়ে সহযোগিতা করছিলেন সাধারণ সম্পাদক কবুলজান বেগম।
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় হরিদেবপুর নারী সংগঠন ও বারসিক’র যৌথ আয়োজনে স্থানীয় জাতের বীজ বিনিময় ক্যাম্পেইনে এমনভাবেই সংগঠন ও গ্রামের সকলে মিলে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বীজ বিনিময় প্রথাকে উৎসবে রূপ দিয়েছেন। এই উৎসবে হরিদেবপুর নারী সংগঠনের ৪০ জন সদস্যের বাইরেও গ্রামের অনেক নারী অংশগ্রহণ করে নিজেদের মধ্য বীজ বিনিময় করেন।


উৎসবে অংশগ্রহণের শর্ত হচ্ছে নিজের বাড়ি থেকে সংরক্ষণ করা বীজ নিয়ে এসে অন্যদের সাথে বিনিময় করা, নিজের প্রয়োজনীয় বীজ নিয়ে বসতবাড়িতে চাষ করে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করা, বাজার থেকে বীজ ক্রয় না করে নিজেই বীজ সংরক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং বাজারের বীজের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বেশি শাক-সবজি চাষের মাধ্যমে পরিবারের জন্য বাড়তি আয় নিশ্চিত করা।


এ বিষয়ে হরিদেবপুর নারী সংগঠনের সভাপতি বলেন, ‘প্রতিটা বীজই আমাদের অমূল্য সম্পদ। এগুলো রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই। এই কাজের মাধ্যমে আমাদের মধ্য বীজ বিনিময় বৃদ্ধি হচ্ছে। এলাকায় শাকসবজির জাত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি হচ্ছে।’


গ্রামের অপর কৃষাণী বানেছা বেগম (৫২) নিয়ে এসেছিলেন লাল শাকের বীজ। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে লাল শাকের বীজ ছিল। আমি নিয়ে এসেছি। আমি এখন এখান থেকে চাল কুমড়া আর মিষ্টি কুমড়ার বীজ নিয়ে গিয়ে বাড়িতে রোপণ করব। আমার বাজার থেকে বীজ কিনতে হলো না। টাকা ও সময় দুটোই বেঁচে গেল।’
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কবুলজান বেগম (৫৫) বলেন, ‘আমার বাড়িটি শতবাড়ী মডেলের পুষ্টিবাড়ি। আমি চাই আমাদের গ্রামের সংগঠনের প্রতিটি সদস্যরই বাড়িই পুষ্টিবাড়িতে রূপান্তরিত হোক। এই বীজ বিনিময় কার্যক্রম সে কাজকে অনেক সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি নারীরা বীজ সংরক্ষণের মাধ্যমে বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে।’
নারীরাই অতীত থেকে বীজ সংরক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় জাতের বীজ ও জাত বৈচিত্র্য সংরক্ষণে ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি নিজেদের মধ্য বীজ বিনিময়ের মাধ্যমে বাজার নির্ভরশীলতা কমাতেও রাখছে অবদান।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.