সাম্প্রতিক পোস্ট

সমঅধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হোক সমমর্যাদা

সমঅধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হোক সমমর্যাদা

জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্র, পেশা নির্বিশেষে একে অন্যের সাথে নানা সম্পর্কে জড়িয়ে আছে এদেশের মানুষ। গড়ে তুলেছে জীবনবান্ধব আন্ত:নির্ভরশীর এক নিবিড় সম্পর্ক। কিন্তু সকল ধর্ম বর্ণ পেশা ও গোত্রের মানুষ একই অবস্থানে থাকলেও জাতি ধর্ম বর্ণ পেশার ভিন্নতাকে সমভাবে গুরুত্ব না দেয়ার কারনে সকল সম্পর্কের মধ্যে সমভাবে বৈষম্য প্রতিষ্টিত করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবসের ঐতিহাসক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- দক্ষিণ আফ্রিকার শার্পভ্যালিতে সাধারণ জনগন জাতিগত বর্ণ বৈষম্য বিল পাশের বিরুদ্ধে ১৯৬০ সালে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করে এবং পুলিশ বিনা উষ্কানীতে মিছিলে গুলি করে ৬৯ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে।মর্মান্তিক এই ঘটনাকে উল্লেখ করে জাতি সংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৬৬ সালে সকল দেশের সকল মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর জন্য সকল দেশের প্রতি জোরালোভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ জাতিগত বৈষম্য কমানোর জন্য সংহতি সপ্তাহ ঘোষণাসহ প্রতিবছর ২১ মাচর্ কে আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবস ঘোষণা করে। সেই থেকে ২১ মার্চ সারা বিশ্বে একযোগে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবস হিসাবে পালন করে আসছে। আর্ন্তজাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবসকে সামনে রেখে বারসিক কর্মএলাকায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়, যা নিম্নে এলাকাভেদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বর্ণনা করা হয়েছে:

মানিকগঞ্জ সদর
“জাতিগত বৈষম্য মোকাবেলায় সহনশীলতা, অন্তর্ভূক্তি, ঐক্য এবং বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ানো” প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বারসিক এর উদ্যোগে পালিত হলো আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবস ২০১৮। দিবসকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় বারসিক’র শহর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মানিকগঞ্জে বসবাসরত মনিঋষি, রবিদাস, হরিজন, তৃতীয় লিঙ্গ, হিন্দু, মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে আলোচনা, কবিতা 29003818_1184004078396916_1828847470_nআবৃতি, একক অভিনয়, গান ও নাচ পরিবেশিত হয়। আলোচনায় মানিকগঞ্জের উদীচি’র সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মামুন বলেন, “যে কোন কুসংস্কার থেকে মুক্তি চাইলে শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। এটি পুঁথিগত বিদ্যা নয়। নৈতিকতার শিক্ষা। আদিকাল থেকেই সমাজে বৈষম্য রয়েছে। আমাদের সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটাতে হবে। মানুষকে সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে এটি করতে হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের সামনে নিয়ে আসতে হবে।” স্যাকের সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানে সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বশেষে সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। আমরা হিজরা বলি। এটি বলা ঠিক নয়। তৃতীয় লিঙ্গ বলা উচিত। কারণ তাদের রক্ত লাল, আমাদের রক্ত ও লাল। আমরা কেন তাদের আলাদা করে দেখি। প্রতিটি মানুষকে মানুষ হিসাবে বিবেচনা করবো। লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ বৈষম্য বিলোপে আমরা সবাই মিলে একসাথে কাজ করবো।” অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন তৃতীয় লিঙ্গ আলোমতি (৬০) রূপা আক্তার, অধ্যাপক ঊর্মিলা রায়, শ্রীমতি লক্ষ্মী চ্যাটার্জী প্রমূখ।

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ
হরিরামপুর উপজেলার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক বৈষম্য রোধ ও অধিকার আদায়ে আন্তর্জাতিক বর্ণবৈষম্য বিলোপ দিবসকে সামনে রেখে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে হরিরামপুর উপজেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ৮০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অংশগ্রহন করেন। এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হরিরামপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল বাশার সবুজ, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার Sattaমাজহারুল হক, বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়, সিআরপি সমন্বয়কারী খাইরুল বাসার, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক নজরুল ইসলাম, সমাজসেবক শহীদ বিশ্বাস, ডিআরআরএ সংস্থার কমিউনিটি মোবিলাইজার ফরিদা পাভীন, বারসিক হরিরামপুর রিসোর্স সেন্টারের কর্মী সত্যরঞ্জন সাহা ও মুক্তার হোসেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হরিরামপুর উপজেলা প্রতিবন্ধি উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আব্দুল করিম। আলোচনা অনুষ্ঠানে হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল বাশার সবুজ বলেন, “সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ছোট করে দেখা হয়। সমাজে বৈষম্যতা ও হীনমনতা সৃষ্টিতে হয়েছে। আজকে ভালো মানুষ ভাগ্যের পরিহাসে যেকোন সময় প্রতবন্ধী হয়ে যেতে পারে। এজন্য প্রতিবন্ধি মানুষদের ছোট করে নয়, সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।”

সিংগাইর, মানিকগঞ্জ
প্রতিবছরের মত এই বছরেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের সাথে নিয়ে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবসটি পালিত হয়েছে। এই দিবসকে সামনে রেখে এবং 20180319_170109বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার সানাইল ও আঙ্গারিয়া গ্রামে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান মালার মধ্যে রয়েছে নারীদের আয়োজনে বালিশ খেলা, কিশোরীদের চেয়ার খেলা, শিশুদের পুকুর খেলা ইত্যাদি। আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন খেলাঘর আসর মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক জগদিস চন্দ্র মালো, শিক্ষক সমিতি মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি কমরেড মজিবুর রহমান মাস্টার, বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারি বিমল রায়, ইউপি সদস্য ঝর্ণা আক্তার, বারসিক সিংগাইর এলাকা সমন্বয়কারি শিমুল কুমার বিশ^াস, বারসিক কর্মসুচি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, আছিয়া আক্তার ও রিনা আক্তার প্রমূখ।

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা
আর্ন্তজাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবসকে সামনে রেখে শ্যামনগরের উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরী কার্যালয়ে প্রবীণ বনজীবী জেলে সুপদ মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং বারসিক কর্মকর্তা মননজয় মন্ডল ও চম্পা রানী মল্লিকের সঞ্চালনায় প্রান্তজনের অবদান ও প্রত্যাশার বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান PIC 2অতিথিহিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, বিশেষ অতিথি হিসেবে শ্যামনগর উপজেলা কমিশনার (ভূমি) সুজন সরকার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্নœ পেশাজীবীদের মধ্যে বনজীবী, কচ্ছপ শিকারী, বাগদী, বাঘবিধবা, মুন্ডা, কাহার, নাপিত, কলু (ঘানির তেল কারিগর), কামার, কুমার, হরিজন, জেলে, পাটনি, ঋষি সম্প্রদায়, শারিরীক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি, গাছি, কৃষক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং বারসিক স্টাফ কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান যে, আমাদের এ বর্ণ বৈষম্য শুরু হয়েছে আমাদের পরিবার থেকে। আগে আমাদের পরিবারের মধ্যে এ বৈষম্য দূর করতে হবে। সকল পেশার মানুষ তাদের নিজেদের জায়গা থেকে সমানভাবে আমাদের সমাজে উন্নয়নে বিভিন্ন ভূমিকা রাখছে। তাই প্রতিটি পেশাকে শ্রদ্ধা করতে হবে।

আটপাড়া, নেত্রকোনা
আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবস উপলক্ষে আটপাড়া উপজেলা হল রুমে আটপাড়া উপজেলা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির আয়োজনে এবং বারসিক এর সহযোগিতায় “প্রান্তজনের অবদান ও প্রত্যাশা” শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অবঃ শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম খান এর সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদা আক্তার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান ও উপজেলা প্রেসক্লাব এর IMG_20180321_113711সভাপতি সাংবাদিক মো. জহিরুল ইসলাম খান হিরা। অন্যান্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২১টি জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও পেশার জনগোষ্ঠীর ৩০ জন প্রতিনিধি। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন-কামার, কুমার, জেলে, বেদে, সাপুড়ে, আদিবাসী, ভিন্নভাবে সক্ষম জনগোষ্ঠী, মাঝি, হিরালী, নরসুন্দর, কুলি, ঢালী, ইমাম, হিন্দু পুরোহিত, কুটির শিল্পী, হরিজন, কবিরাজ, শিক্ষক, প্রবীণ, যুবক, কাঠমিস্ত্রি, ঋষি, ভিক্ষুক ও তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী। সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী ও পেশাগত বৈষম্যের ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরে বৈষম্য দূরীকরণে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা সকল ধরণের বৈষম্য মুছে ফেলে সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও পেশার প্রতি সমান সম্মান ও মর্যাদা প্রদান এবং পরস্পরকে নিজ নিজ অধিকার ও সেবাসমূহ লাভে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান। সংলাপ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদা আক্তার, “আমরা এক অন্যের উপর নির্ভরশীল, কেউ কাউকে ছাড়া বাঁচতে পারিনা। আমি সরকারি কর্মকর্তা হলেও কৃষক, জেলে, কামার, কুমার, তাঁতী, হরিজন, নরসুন্দরসহ সকলের উপর নির্ভরশীল। আমরা সকলে পরস্পর পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। উন্নয়নের জন্য আমাদের বৈচিত্র্যময় জাতি, শ্রেণী ও পেশার প্রয়োজন রয়েছে। আর এজন্য বৈচিত্র্যময় জাতি, ধর্ম ও পেশার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও মর্যাদা দিতে হবে।”

কলমাকান্দা, নেত্রকোনা
“জাতিগত বৈষম্য মোকাবেলায় সহনশীলতা, আন্তর্ভূক্তি, ঐক্য এবং বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ানো” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে গতকাল কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ অফিসে উদ্যাপন করা হয় আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবস। এতে স্থানীয় সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ ও বিভিন্ন সম্প্রদায় ও পেশাজীবীর মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা চলাকালে লেঙ্গুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ Kalmaহোসেন কক্ষে প্রবেশ করামাত্র লেঙ্গুড়া বাজারের সুইপার শ্যামলাল ভাস্কর (৫০) চেয়ার ছেড়ে অন্যত্র বসলেন। প্রধান শিক্ষকের সামনে তিনি কোনভাবেই চেয়ারে বসতে রাজি নন। অনেক অনুরোধ করার পরও তাকে চেয়ারে বসানো সম্ভব হচ্ছিলনা। শেষে প্রধান শিক্ষক বললেন, “আজকের এই দিনটি সকল শ্রেণী ও পেশার মধ্যে বিরাজমান সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপের দিবস। আপনি চেয়ারে না বসলে এই আলোচনা কক্ষেই আপনার সাথে বৈষম্য প্রদর্শন করা হবে। আমরা নিজেরাই আজকে আমাদের মানষিকতার পরিবর্তন ঘটাব তারপর অন্যরাও আমাদের আচার আচরণ দেখে শিখবে ও প্রভাবিত হয়ে তারাও পরিবর্তিত হবে।” মোর্শেদ আলী পেশায় একজন দর্জী। তিনি বলেন, “আমি পরিবারের একজন কর্তা। তাই আমার পরিবারে আমি নিজেকে সবার থেকে বড় মনে করি। আর এই মানসিকতা থেকেই আমি পরিবারের অন্যদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করি। দূর্বলদের উপর সবলদের সবসময় বৈষম্যমূলক আচরণ হয়ে থাকে। ধনী ও গরীবদের মধ্যেও এই আচরণ দেখা যায়। তাই সকল মানুষকে ও তাঁর পেশাকে শ্রদ্ধা জানাতে পারলে সবাই ভালো থাকবে।” এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন লেঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার কুমকুম নকরেক, ইউপি সদস্য সজল হাজং প্রমূখ।

রাজশাহী
গতকাল (২১ মার্চ) রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি মোড়স্থ মুক্তিযুদ্ধ পাঠাগার মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবস উপলক্ষে “জাতিগত বৈষম্য মোকাবেলায় সহনশীলতা, অর্ন্তভূক্তি, ঐক্য এবং বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ানো” আমাদের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বারসিক, বিইসিডিপিসি, ইয়্যাস, নবজাগরণ, ইকোগ্রীন ইয়ুথ ফোরাম, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী সামাজিক স্কুল যৌথভাবে উক্ত মতবিনিময়ের আয়োজন করে। মতবিনিময়ে রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চলের বহু জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিগণ ও স্বেচ্ছাসেবী জনসংগঠন অংশগ্রহণ করে। মতবিনিময়ে বক্তরা বলেন, “আমদের বৈচিত্র্য যত কমে যাচ্ছে ততই আমাদের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য এবং বৈচিত্র্যের প্রতি সংঘাত বেড়েই চলেছে। বৈচিত্র্য সুরক্ষায় এবং জাতিগত বৈষম্য মোকাবেলায় Rajতাই ঐক্য এবং অর্ন্তভূক্তি প্রয়োজন। একই সাথে সহনশীল আচরণে সকলের প্রতি সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগী হিসেবে কাজ করতে হবে। উক্ত মতবিনিময়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট প্রশান্ত কুমার সাহা’র সভাপতিত্বে বরেন্দ্র অঞ্চল প্রেক্ষিতে জাতিগত বৈষম্য ও বৈচিত্র্যের সংঘাত বিষয়ে উপস্থাপন পত্র পাঠ করেন বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বারসিকের উপেন রবিদাস। মতবিনিময়কালে সংগঠন এবং নিজের জাতিগোষ্ঠীর সমস্যা সম্ভাবনা ও করণীয় দিক নিয়ে তুলে ধরেন, রাজশাহী জেলার জনউদ্যোগের আহবায়ক জুলফিকার আহমেদ গোলাপ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি কল্পনা রানী রায়, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদ আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস, আদিবাসী যুব পরিষদের রাজশাহী জেলা শাখার যুগ্ম আহবায়ক হুরেন মুর্মু, রাজশাহী হরিজন ঐক্য পরিষদের উজ্জ্বল কুমার দাস, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নকুল পাহান, নবজাগরন ফাউন্ডেশনের আদিত্য হোসেন শরীফ, বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্রর জিনাত-উন নেসা, ইকো গ্রীণ ইয়ুথ ফোরামের রুমন হোসাইন, সামাজিক স্কুল আন্দোলন’র সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ- ইয়্যাস’র শামীউল আলীম শাওন।

ই প্রতিবেদনটি তৈরি করতে মানিকগঞ্জ থেকে রাশেদা আক্তার, নজরুল ইসলাম, সত্য রঞ্জন সাহা, নজরুল ইসলাম, আছিয়া আক্তার, রিনা ও আক্তার মুক্তার হোসেন, নেত্রকোনা থেকে শংকর ম্রং অর্পণা ঘাগ্রা, গুঞ্জন রেমা ও খায়রুল ইসলাম, মো:আব্দুল হালিম খান,মো: আলমগীর, রিকুরাণী পাল রাজশাহী থেকে শহিদুল ইসলাম এবং সাতক্ষীরা থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল ও বাবলু জোয়ারদার তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: