Posted in

‘মানুষের হস্তক্ষেপের কারণেই দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে’-পরিবেশবিজ্ঞানী দিলীপ কুমার দত্ত

শ্যামনগর থেকে পার্থ সারথী পাল
বারসিক উদ্যোগে গত ১১-১৩ জুলাই তিনদিনব্যাপি ‘জলবায়ু নায্যতা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা উন্নয়ন বিষয়ক” একটি অনলাইন প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বারসিক’র শ্যামনগর, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাজশাহী এবং ঢাকা অঞলের কর্মীসহ বারসিক সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মী অংশগ্রহণ করেন।


কর্মশালার প্রথমদিনের প্রথম সেশনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার আলোচনায় বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন স্বাভাবিক একটি বিষয়, লাখ লাখ বছর ধরে জলবায়ু প্রাকৃতিকভাবে পরিবর্তন হয়ে আসছে এবং এই পরিবর্তনের ফলেই পৃথিবী জীবের বসবাস যোগ্য হয়ে উঠেছে। আগামীতে এমনভাবেই জলবায়ু পরিবর্তন হবে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু উপাদানে মানুষের হস্তক্ষেপের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুতভাবে হচ্ছে, এটাই আমাদের চিন্তার বিষয় এবং এ কারণেই বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা এবং ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

প্রথমদিনের দ্বিতীয় সেশনে ড. অনিরুদ্ধ দে (Professional Institute for Development & Socio Environmental Management, West Bengal, India) জলবায়ু পরিবর্তন এবং লবণাক্ততা বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি তার আলোচনায় বাংলাদেশ ও ভারতের লবণাক্ত সুন্দরবন এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততার প্রভাব উপস্থাপন করেন। উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় মানুষ কিভাবে ওই পরিবেশে খাপ খাওয়াতে চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখানে কিভাবে সহযোগিতা করছে সে বিষয়ে আলোচনা করেন।


প্রথমদিনের তৃতীয় সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সুস্মিতা চক্রবর্তী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লোক-সংস্কৃতি কিভাবে প্রভাবিত হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বিভিন্ন কারণে লোক সংস্কৃতি কিভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে বা বাণিজ্যিক পণ্য পরিণত হচ্ছে সে বিষয়ে আলোচনা করেন। বিভিন্ন আদিবাসি সংস্কৃতি জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রভাবিত হচ্ছে সে বিষয়ে উদাহরণসহ আলোচনা করেন তিনি।


কর্মশালার ২য় দিনের প্রথম সেশনে ডা: মোজাহিদুল ইসলাম লবণাক্ততার ফলে মানুষের কি ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি তার উপস্থাপনায় বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি রোগী দেখা যায় পেটের সমস্যা, আমাশয়, রক্তযুক্ত পায়খানা, পেটে ব্যথা, গ্যাস্ট্রিক, পেপটিক আলসার, টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, স্কিন ডিজিজ। এছাড়া নিউরোলজিক্যাল সমস্যা লো ব্যাকপেইন প্যারালাইজড রোগীও দেখেছি। লবণাক্ততা বা লবণ পানির কারণে নারীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে, বিশেষত প্রজনন স্বাস্থ্যের সমস্যা। পুরুষদেরও প্রজনন স্বাস্থের উপর লবণ পানি প্রভাব ফেলছে।’ ২য় দিনের ২য় সেশনে পাভেল পার্থ পরিবারিক কৃষি নিয়ে একটি গবেষণাপত্রের ফলাফল উপস্থাপনা করেন। কৃষি কাজে পারিবারিক অংশগ্রহন সহ জাত বৈচিত্র সংরক্ষণে কারা কিভাবে ভূমিকা রাখছেন তার বিস্তারিত আলোচনা করেন।

২য় দিনের ৩য় সেশনে ড. উৎপল কুমার (Post-Doctoral Researcher, Wageningen University, Netherlands) জনগোষ্ঠির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জলবায়ু তথ্য ব্যাবহার বিষয়ে আলোচনা করেন। জনগোষ্ঠি কিভাবে জলবায়ুর তথ্য ব্যবহার করে লাভবান হতে পারেন এবং এই সার্ভিসটি কিভাবে জনবান্ধব করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন।


২য় দিন ৪র্থ সেশনে শ্যামনগর উপজেলা লাইভস্টোক অফিসার জহিরুল ইসলাম লবণাক্ততায় প্রাণীসম্পদের কি কি সমস্যা হচ্ছে সে বিষয়ে বিষদ আলোচনা করেন। তিনি লবণাক্ত এলাকায় প্রাণীসম্পদ পালনে সমস্যা সমাধানে কিছু পদ্ধতি বিষয়ে আলোচনা করেন এবং উপস্থিত অংশগ্রহনকারীগণ বিভিন্ন প্রশ্ন করে অনেক পরামর্শ গ্রহণ করেন। ৩য় দিনের ১ম সেশনে গবেষক এবং পরিবেশকর্মী গৌরাঙ্গ নন্দী জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন চুক্তি এবং বাংলাদেশের ইচ্ছাপত্র বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি কমাতে প্যারিস চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ কিভাবে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিবে তার ইচ্ছাপত্র নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

৩য় দিনে ২য় সেশনে ড. সোমা দে (Department of  Women and Gender Studies, Dhaka University) জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারীরা কিভাবে আরো বেশি প্রভাবিত হচ্ছে বা বৈষম্য কিভাবে বাড়ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বিভিন্ন বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বিষয়গুলো সহজ সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেন। ৩য় দিনে ৩য় সেশনে পাভেল পার্থ অভিযোজন এবং সক্ষমতা বিষয়ে উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন বাস্তব উদাহরণ দিয়ে অভিযোজন বিষয়ে আলোচনা করেন।
প্রশিক্ষণ শুরুর এর আগে বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী পার্থ সারথী পালের সঞ্চালনায় সকলের পরিচয়ের পর্বের পর বারসিক পরিচালক পাভেল পার্থর সুচনা বক্তব্য দেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.