Posted in

আলোচনা, মেলা ও মানববন্ধনে পালিত প্রাণবৈচিত্র্য দিবস

সিংগাইর, মানিকগঞ্জ থেকে শিমুল বিশ্বাস
মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলায় আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস ২০২৪ উপলক্ষে আলোচনা সভা, প্রাণবৈচিত্র্য মেলা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। “প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিকল্পনার অংশ হোন” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের ছোটকালিয়াকৈর গ্রামে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রে বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, এলকার জন সংগঠন, সিংগাইর উপজেলা সবুজ কমিটি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘আমাদের যেকোন উন্নয়ন ভাবনায় পরিবেশ ও প্রতিবেশকে গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষিতে শুধু উৎপাদনের কথা ভাবলে হবে না মাটির অণুজীবের কথাও ভাবতে হবে। মাটিতে প্রাণ বা অণুজীব যত থাকবে মাটির উর্বরাশক্তি ততো বেশি থাকবে। আমাদের উপকারী পাখি, মৌমাছিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবায়ের হোসেন বলেন, বর্তমানে কোম্পানির প্রলোভন ও হাইব্রিডের আগ্রাসনে আমাদের দেশীয় বীজ বিলুপ্তির পথে। হাইব্রিডকে না বলতে হবে। বাড়াতে হবে আমাদের স্থানীয় জাতবৈচিত্র্য।’
বলধারা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হোসনেয়ারা বলেন, ‘প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের যথেষ্ঠ অবদান থাকা সত্বেও তা কোথাও স্বীকার করা হচ্ছে না। তাই অধিক উৎপাদনের আশায় ফসলের পোকা দমন করতে শুধু কীটনাশক ব্যবহার না করে ফসলের বৈচিত্র্যতা রক্ষা, পরিবেশ ও প্রতিবেশবান্ধব উন্নয়ন চিন্তার ক্ষেত্রে আমাদের দায়ও কোন অংশে কম নয়।’
কৃষক প্রতিনিগন বলেন, ‘মানুষের জীবন জীবিকা ও উৎপাদন সব কিছুই সরাসরি প্রাণবৈচিত্র্যের সাথে জড়িত। বিশে^র সকল মানুষ সরাসরি বৈচিত্র্যময় প্রাণের উপর নির্ভর করে জীবন জীবিকা চালায়। শুধু গ্রামই না, শহরের মানুষও প্রাকৃতিক নির্ভরতার বাইরে নয়। মানুষ হিসাবে আমরা খাদ্য, জ¦ালানি, ওষুধ, ঘর-বাড়ি, এবং যানবাহনের ব্যবস্থা তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মিটিয়ে থাকি। অথচ শুধুমাত্র মানুষের অসচেতনতা ও অতি লোভের কারণে প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যচ্ছে। আমাদের চোখের সামনে বিলুপ্ত হচ্ছে মানুষের জীবন জীবিকার জন্য উপকারী বৈচিত্র্যময় প্রাণ।’


আলোচনা অনুষ্ঠান ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত কৃষক প্রতিনিধিগণ একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান, স্থানীয় বীজ বৈচিত্র্য, স্থানীয় ফল বৈচিত্র্য, বৈচিত্র্যময় অচাষকৃত উদ্ভিদ, নিরাপদ সবজি বৈচিত্র্য, জৈব সার, জৈব বালাইনাশক, গরু, ছাগল, হাস, মুরগি, খরগোশ, কবুতর, ঘুঘু, কেঁচো, ব্যাঙ, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপ, হস্তশিল্পগুলো মেলার প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করেন এবং পারস্পারিক আন্তঃসম্পর্ক ও আন্তঃনির্ভরতা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন।
এর আগে সিংগাইর উপজেলার নবনির্বাচিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিংগাইর উপজেলা সবুজ সংহতি কমিটির আহব্বায়ক আনোয়ারা খাতুন এবং সবুজ সংহতি কমিটির যুগ্ম আহব্বায়ক যুবায়ের হোসেনকে বারসিক এবং কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।


এরপর বারসিক সিংগাইর এলাকার প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী বিশ্বাস এর সঞ্চালনায় এবং প্রোগ্রাম অফিসার শাহিনুর রহমান কর্তৃক দিবসটির ধারণাপত্র পাঠের মাধ্যমে আলোচনা সভা শুরু হয়। প্রাণবৈচিত্র্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় কৃষক সংগঠনের সভাপতি আ্যাডভোকেট মো: মোস্তাফিজুর রহমান মিলন। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিংগাইর উপজেলার নবনির্বাচিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিংগাইর উপজেলা সবুজ সংহতি কমিটির আহব্বায়ক আনোয়ারা খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ছোটকালিয়াকৈর খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সবুজ সংহতি কমিটির যুগ্ম আহব্বায়ক যুবায়ের হোসেন, বিশিষ্ট সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওবায়দুর রহমান, ইউপি সদস্য সেলিনা বেগম, হোসনেয়ারা বেগম, সুফিয়া বেগম প্রমুখ। এছাড়াও সিংগাইর উপজেলার কাস্তা, বলধারা, ছোটকালিয়াকৈর, ব্রী-কালিয়ারকৈর, খোলাপাড়া, চরমগড়া, দক্ষিণ বলধারা, বায়রা, নয়াবাড়ি, জামালপুর, সানাইল, শিবপুর, গাড়াদিয়া, নবগ্রাম, গোলাই, কাটিকাটা কৃষক সংগঠনের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে কালিয়াকৈর খান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকার ছাত্র যুব, বারসিক কর্মকর্তা বৃন্দ সহ প্রায় দুই শতাধিক মানুষ এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.