সাম্প্রতিক পোস্ট

এখন সরকারি সেবাগুলো বেশি পাই

রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার
রাজশাহী জেলার গোকুল-মথুরা গ্রাম উপজেলা পরিষদ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরুত্বের একটি গ্রাম। গ্রামটি তানোর পৌরসভার মধ্য পড়েছে। এই গ্রামে সনাতন ও ইসলাম ধর্মের জনগোষ্ঠির বসবাস। বারসিক এই গ্রামে ২০১৫ সাল থেকে কাজ করছে। দীর্ঘদিন কাজের পরিপ্রেক্ষিতে এবং জনগোষ্ঠির আগ্রহে তিনটি সংগঠন তৈরি হয়। সংগঠনগুলো হলো গোকুল-মথুরা কৃষক সংগঠন,স্বপ্নচারী যুব উন্নয়ন সংস্থা ও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। গ্রামটিতে সব মিলিয়ে ১৯৫৫টি পরিবারের বসবাস।


পরিবেশবান্ধব কৃষি ক্ষেত্রে গ্রামটিতে অবদান রাখছে কৃষক সংগঠন। পরিবেশবান্ধব উপায়ে তারা সবজি চাষের পাশাপাশি ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি ও উৎপাদনে রাখছে অবদান। নিয়মিত তারা ফসল চাষে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করেন। এই উদ্যোগগুলোর ফলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর থেকে নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন এখন, কখন বীজ ও কখনও কৃষি উপকরণ। চলতি মাসে গোকুল-মথুরা কৃষক সংগঠনের সভাপতি শ্রী জীতেন্দ্রনাথ সূত্রধর ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি ও ব্যবহারের অবদানের জন্য উপজেলা পর্যায় থেকে আরো ভালো এবং বড় আকারে কাজটি করার জন্য হাউজ ও টিনসেড বরাদ্দ পেয়েছেন। যা তাঁর কাজকে আরো গতিশীল করবে। এ বিষয়ে শ্রী জীতেন্দ্রনাথ সূত্রধর বলেন, “আমি বারসিকের মাধ্যমে প্রথমে ভার্মি কম্পোস্টের কাজটি শুরু করি। এরপর নিজের জমিতে ব্যবহার করে আসছি। বারসিক’র মাধ্যমে জানতে পারি কৃষি অফিস থেকে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির হাউজ করে দিবে এরপর আমি যোগাযোগ করি এবং সেবাটি আমি পাই।’


গ্রামে স্বপ্নচারী যুব উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি যুব সংগঠন আছে। সংগঠনের সদস্যরা সেচ্ছাশ্রমে গ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে আসছে। গ্রামের মাদক ও বাল্যবিবাহ র্নিমূলে উপজেলা প্রসাশনের সাথে সংগঠনটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। করোনা মহামারীর সময় গ্রামকে নিরাপদ রাখতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কাজের পাশাপাশি অসহায় পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করা হয়। পাশাপাশি অসুস্থ ব্যাক্তিদের চিকিৎসা পেতে রেখেছিলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। গ্রামের পরিবেশ-প্রতিবেশ উন্নয়নে নিয়মিত প্রচারাভিযান সংগঠনের মূল্য লক্ষ্য। সংগঠনটি দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবসে জেলা যুব উন্নয়ন অফিসে উপ-পরিচালকের নিকট থেকে সংগঠনের সদস্যরা যুব সংগঠন হিসেবে নিবন্ধন লাভ করে। যা সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরো সমৃদ্ধ ও গতিশীল করবে। এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি মোঃ রুবের হোসেন মিন্টু বলেন, ‘আমাদের সংগঠিত হতে বারসিক অনেক সহযোগিতা করেছে। বারসিক ও আমরা একসাথে মিলে জন উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। যার স্বীকৃতিস্বরুপ আমরা আজ নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পেরেছি। এতে আমাদের কাজকে আরো গতীশীল করবে।


গ্রামের পাশেই বিল কুমারী বিল এবং এর মাঝ দিয়ে বয়ে গিয়েছে শিব নদী। শিব নদী এবং বিলকুমারীকে কেন্দ্র করেই এই গ্রামের বিল পাড়ে বাস করে ২৩০টি জেলে পরিবার। বিল থেকে মাছ আহরণ করেই পরিবারগুলো জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বিলের দখল আর দূষণের ফলে প্রাণবৈচিত্র্য হারিয়ে যেতে বসেছিল। কমে গিয়েছিল মাছের বৈচিত্র্যও। ফলে পেশার সংকট লক্ষ্য করা যায়। মৎস্যজীবীদের স্বার্থ সূরক্ষায় নিজেরো মিলে সংগঠিত হয়ে তৈরি করেন গোকুল-থুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। সংগঠন থেকে নিয়মিতভাবে শিব নদী সুরক্ষায় কর্মসূচি পালন করে আসছিলো। এর মধ্য শিব নদী পারে নদী সুরক্ষায় মানববন্ধন আয়োজন করে এবং তা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সে পরিপ্রেক্ষিতে তানোর উপজেলা প্রসাশন থেকে বিল কুমারী বিলের বড় একটি অংশে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে সংগঠনের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অভয়াশ্রমের ফলে বিল কুমারী বিলের মাছ বৈচিত্র্য সুরক্ষা হবে। যা আমাদের পেশা সুরক্ষায় অবদান রাখবে। এখন আমরা সরকারি সেবাগুলো বেশি পাচ্ছি। আমরা শিব নদী সুরক্ষার কাজ গুলো নিয়মিত করে যেতে চাই।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: