Posted in

একটি ব্যতিক্রম শিক্ষা সফর

????????????????

আসাদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা

খুলনা বিএল কলেজের উদ্ভভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, ‘আমরা এতো প্রজাতির গাছ এক জায়গায় দেখবো ভাবতে পারিনি। এখানে অনেক গাছ আছে যার নাম শুনেছি আর প্রথম দেখলাম। আবার এমন গাছ আছে যার নামই প্রথম শুনলাম। আমরাতো অনেক জায়গায় শিক্ষা সফর করি। কিন্তু এটা আমাদের কাছ একটি ব্যতিক্রমি শিক্ষা সফর। এখানে আসতে পেরে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। আমাদের পড়ার বিষয়ের সাথে মিল আছে। আমরা তো প্রথমে এখানে আসতে রাজি হয়নি। তবে স্যাররা বলার পর ও ইউটিউবে দেখার পর ভালো লাগে এবং আমরা রাজি হই। এখন মনে হচ্ছে আসতে পেরে উপকার হয়েছে। গাছ চিনলাম। গাছের উপকারিতা সম্পর্কে জানলাম।’

????????????????

খুলনা বিএল কলেজের উদ্ভভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মোদ্দাসির হোসেন বলেন, ‘এতো গাছের সমাহার খুব কম দেখা যায়। কয়েক শত দেশী-বিদেশী ঔষধী, বনজ, ফলজ গাছ এক জায়গাতে পাওয়া কম কথা নয়। এখানের গাছগুলোর সাথে আবার সেইসব গাছের গুণাগুণ তুলে ধরা হয়েছে। সেটা দেখেও ভালো লাগলো। নতুন প্রজন্মতো এখন অনেক গাছ চেনে না। অনেক গাছ দেখেইনি। ত্ইা এই প্রজন্মের জন্য উদ্ভিদ চেনার দারুণ জায়গা এই ব্যতিক্রমি গাছের পাঠশাল।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি টিভি চ্যানেলের সংবাদে এবং পরে ইউটিউব দেখে এই গাছের পাঠশালা সম্পের্কে জানতে পারি। আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর শিক্ষা সফরে যাই। সেটা কোন পিকনিক স্পটে বা ঐতিহাসিক জায়গায়। কিন্তু গাছের পাঠশালা সম্পর্কে জানার পর সিদ্ধান্ত নিই এই বছরের শিক্ষা সফর এখানেই করবো। যেহেতু আমাদের শিক্ষার্থীদের পড়ার বিষয় উদ্ভিদ তাই এখানে আসতে পারলে সেটা তাদের উপকার হবে। পরে শিক্ষার্থীদের জানানোর পর তারাও আগ্রহ নিয়ে এখান আসতে চাইলো। আমাদের মনে হয়েছে এখানে আসাটা আমাদের সার্থক হয়েছে।’

????????????????

সাতক্ষীরা সদরের তুজুলপুরে ইয়াবর হোসেনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা গাছের পাঠশালা এবং বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতালে এই ব্যতিক্রমি শিক্ষা সফরে আসেন খুলনা বিএল কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রায় ৬০ জনের মত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। যেখানে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মোদ্দাসির হোসেন, সহকারী অধ্যাপক সেবানন্দ চক্রবর্তী ও প্রভাষক সৈয়দা মনছুফা আফরৌজের নেতৃত্বে ৩০ জন ছাত্রী ও ২৫ জন ছাত্র বাস্তব শিখনের জন্য শিক্ষা সফরে আসে। এ সময় শিক্ষার্থী শুধু গাছের পাঠশালায় নয় বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসাপাতালে বিভিন্ন প্রজাতির বীজ, বিভিন্ন নদীর পানি, বিভিন্ন এলাকার মাটি, বিভিন্ন প্রকার বন্ধু পোকা-শত্রু পোকা, কৃষকের ব্যবহৃত বিভিন্ন সময়ের উপকরণ ঘুরে ঘুরে দেখে।

তুজুলপুর গাছের পাঠশালার উদ্যোক্তা ইয়াবর হোসেন শিক্ষা সফরে আসা শিক্ষার্থীদের উদ্ভিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গাছ হচ্ছে আমাদের পরম বন্ধু। গাছ কখন কারোর ক্ষতি করে না। প্রকৃতি থেকে অনেক উদ্ভিদ হারিয়ে যাচ্ছে। যা নতুন প্রজন্ম দেখতে পাবে না। আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে সেই সব গাছ সংরক্ষণ করা এবং তার বিস্তার ঘটানো। সাথে সাথে গাছের উপকারিতা সম্পর্কে সবাইকে জানানো। এক একটি গাছ হচ্ছে ঔষধের ফ্যাক্টরি। কিন্তু মানুষ জানে না বলে তার ব্যবহার করতে পারে না।’

????????????????

তিনি আরো বলেন, ‘আসুন আমরা গাছ চিনি ও গাছ সম্পর্কে জানি। গাছ লাগাই। আমি নিজে এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও দাওয়াতে উপহার হিসেবে গাছ দেই। আপনারাও এই সংস্কৃতি চালু করতে পারেন। এতে গাছ লাগানো ও গাছের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.