Posted in

রহস্যে ঘেরা “অনন্য কালো ধুতরা

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ থেকে  

ধুতরা বা ধুতরো নামে এ গাছটি আমাদের দেশে সবার কাছে পরিচিত। ভেষজ গুণাগুণের পাশাপাশি কালো ধুতরা গাছের ফুলের সৌন্দর্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোরম। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় অযত্নে-অবহেলার মাঝে ধুতরা গাছ জন্মাতে দেখা যায়। সাধারণত ভিজে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে এ গাছ জন্মাতে বেশি দেখা যায়। তাছাড়া আবর্জনা পচা স্তুপের ধার, রাস্তার ধার, পতিত জমি, বন-জঙ্গল, নদীর ধার, ভেষজ বাগান ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে ধুতরা গাছ চোখে পড়ে।

manikgonj-dhutra-flower
গাছের শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে ফুল ধরে, ফুল দেখতে লম্বাকৃতির। ধুতরা গাছের দু’টি প্রজাতি আমাদের দেশে চোখে পড়ে, সাদা ও কালো রঙের ধুতরা। সাদা জাতের ধুতরার গাছে সাদা রঙের ফুল এবং কালো জাতের ধুতরার সাদা-বেগুণী মিশ্র রঙের ঊর্ধ্বমুখী ফুল। ফুলে মৃদু সুগন্ধ আছে, পড়ন্ত বিকাল থেকে সন্ধ্যায় গাছে ফুল ফোটে। দিনে রোদের আলোয় ফুল সংকুচিত হয়ে যায়, সন্ধ্যায় পুনরায় পাপড়ি মেলে। এভাবে ফুটন্ত ফুল ২-৩ দিন তাজা থেকে ঝরে যায়। ফুলের গঠনবৃত্তির ওপর একই পাপড়িতে পাঁচটি অংশে বিভক্ত পাপড়ি ও ওই পাপড়ির ভেতর থেকে আরো এমন একটি পাপড়ি সজ্জিত অবস্থায় থাকে। ধুতরা স্বপরাগায়িত ফুল, ফুলের ভেতর পুংদ- ও গর্ভমু- অবস্থিত। ফুল শেষে গাছে ফল হয়, ফল গোলাকার, ফলের গা ছোট ছোট কাঁটায় ভরা থাকে। ফলের ভেতরের বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে। লাড়ুর মত গোল ফলের চারিদিকে ছোট ছোট কাঁটা আছে, তাই এই গাছের আর একটি শব্দনাম ‘কন্টফল’। কোন পশুপক্ষ এর পাতা বা ফুল খায় না।

এই গাছটির ইংরেজি নাম Datura, Jimsonweed, Stinkweed, Madapple, Thornapple, Stramonium উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Datura Stramonium. গোত্র Soalanaceae. গাছ ঝাড়বিশিষ্ট আকারের, উচ্চতায় প্রায় এক মিটারের মতো হয়।

সাধনা ঔষধালয়ের হেকিম উত্তম পালিত বলেন, “কোনো কোনো মানুষের সঙ্গে ধুতরা গাছটির সরাসরি পরিচয় না থাকলেও প্রায় মানুষের কাছে ধুতরা গাছটি যেন বিপজ্জনক এক উদ্ভিদ। কারণ হিসেবে কালো ধুতরা গাছের বিভিন্ন অংশে থাকা ভেষজ গুণাগুণ যা অতিমাত্রায় ব্যবহার বা তার অপব্যবহার।” তিনি আরও বলেন, “সত্যিকার অর্থে ধুতরা গাছের পাতা, ফুল, ফল, বীজ ভেষজ গুণসম্পন্ন। গাছের ব্যবহার্য অংশ আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ও হেকিমি শাস্ত্রবিদরা যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করে আসছেন।”

তবে বর্তমানে কালো ধুতরা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আগের মতো এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.