Posted in

প্রান্তিক নারীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করুন

রাজশাহী থেকে তহুরা খাতুন লিলি

দেশের অন্যান্য নগরীর মতো রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে দিনে দিনে বস্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বস্তি শুমারী ২০১৪ অনুযায়ী দেখা যায়, রাজশাহীতে ছোট বড় মিলে বস্তির সংখ্যা ১০৪টি। মোট খানার সংখ্যা ১০২০২, যার জনসংখ্যা ৩৯০৭৭ জন। রাজশাহী শহরে প্রায় ৮০.৫৫% খানা সরকারি জমিতে ঝুপড়ি বা ছোট টিনের ঘরে বসবাস করে। বস্তিতে অধিকাংশ পরিবারই এক কক্ষবিশিষ্ট টিনের কাঁচা ঘর বা রুম ভাড়া নিয়ে চার বা পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসবাস করেন।

বস্তিতে নারী ও শিশুরাই বেশি অনিরাপদে বসবাস করেন। নারীদের নিরাপদ কর্মসংস্থানের সমস্যার কারণে দিনে দিনে তাঁরা নানামূখী ভোগান্তির শিকার হন। বস্তির নারীরা বেশিরভাগ অনিরাপদ কাজের সাথে জড়িত। তারা ময়লা আবর্জনা কুড়ানোর কাজের পাশাপাশি বাসাবাড়িতে কাজ করেন। অনেকে ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করেন। এই নারীদের নিরাপদ কাজের চাহিদা বহু দিনের।

bilnepalpara1

সে লক্ষে নামোভদ্রা বস্তির নারীদের আগ্রহ থেকে তাদের নিরাপদ কর্মসংস্থানের চাহিদার ভিত্তিতে তাদের বিলনেপাল পাড়া নিয়ে যাওয়া হয়। যেখানে ২৫ জন নারী হাতের সুঁই সুতার কাজ দ্বারা স্বাবলম্বী হয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে শহর থেকে অর্ডার নিয়ে যান এবং অন্যদের দেয়।

বিলনেপাল পাড়া নারী উন্নয়ন সংগঠন থেকে মোসাঃ মেরিনা খাতুন শায়লা বলেন, ‘তিনি নিজ পরিবার থেকেই কাজ করার আগ্রহ পেয়েছি এবং সেখান থেকেই শেখা।’ তিনি রাজশাহী কোর্ট স্টেশন থেকে অর্ডার নিয়ে আসেন। প্রায় ৫০ সেট এর মত কাজ নিয়ে আসেন মাসে। তারপর সেগুলো গ্রামের নারীদের দিয়ে কাজ করিয়ে আবার দিয়ে আসেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার কাজ পেয়ে থাকেন এবং সেগুলো কাজ অনুযায়ী সবাইকে মজুরি দেন।

bilnepalpara2

জানেরা বেগম বলেন, ‘ধানের কাজের পরে সেলাইয়ের কাজ করে কিছুটা সংসারের হাল ধরতে সাহায্য হয়। চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি, থ্রিপিচ, দু-পিচ ওয়ান পিচ পাঞ্চাবী অর্ডার আসে যেখানে অনেক রকমের সেলাইয়ের কাজ করি। যেমন খেজুর পাতা ডাল সেলাই, ইট ভরাট, মাছ কাটা, গম সেলাই, মাকড়সা সেলাই, খুজরাটি চেন এবং চুমকি সেলাই করি।’

আফরোজা সুলতানা কেয়া একজন গৃহিনী এবং অর্নাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তিনি ঘরে বসেই বাড়ির সবার জন্য সেলাই করেন। নামোভদ্রা থেকে মোসাঃ কাজলি বেগম বলেন, ‘এখানে এসে অনেক রকম সেলাই দেখতে পেলাম এবং শিখলাম। যদি আমিও কাজ চর্চা করে অর্ডার নিতে পারি তাহলে আমার হাতেও কিছু টাকা থাকবে। নারীদের আর্থ সমাজিকের উন্নয়ন হলে নারীরা আরো বেশি ক্ষমতায়িত হতে পারবেন।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.