Posted in

কোথায় আমার সেই শিব নদী

রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার
‘কোথায় আমার সেই শিব নদী, যা আমার ছোট বেলায় ছিল।’ আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহী তানোর উপজেলার গোকুল-মথুরা গ্রামের চারণ কবি মোঃ আফাজ উদ্দিন কবিরাজ (৬৫)।


গত ৪ জানুয়ারিগোকুল-মথুরা মৎসজীবী সমবায় সমিতি এবং বারসিক’র উদ্যোগে রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শিব নদী পাড়ে নদী রক্ষায় আয়োজিত অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। মানবন্ধনে প্রায় শতাধিক মৎসজীবী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি শিব নদী খননের দাবি জানান।


মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, ‘শিব নদীকে ঘিরে একসময় হাজার হাজার মানুষের জীবন জীবিকা ছিলো, ছিলো জীববৈচিত্র্যের সমাহার। বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ ছিলো। কিন্তু নদীটি ভরাট এবং দখল দূষণের কারণে সারাবছরে আর পানি থাকেনা। এর ফলে হাজার হাজার মৎসজীবীর জীবিকা সংকটে পড়েছে। স্থানীয় দেশি মাছের জাত হারিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে এই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে।’


এই প্রসঙ্গে গোকুল-মথুরা মৎসজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. কালাম হোসেন বলেন, ‘নদী বাঁচলে আমরা বাঁচবো, আর আমরা বাঁচলে দেশ উন্নত হবে।’ তিনি মৎসজীবীদের জীবন জীবীকা রক্ষায় শিব নদীটি দ্রæত খননসহ দখল দূষণ বন্ধের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, শিব নদী আত্রাই নদী থেকে সৃষ্টি হয়ে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলা, রাজশাহী জেলার তানোর, পবা হয়ে নাটোর জেলার মধ্য দিয়ে বৃহত্তম চলনবিলে পতিত হয়েছে। তানোর উপজেলা অতিক্রম করার সময় নদীটি বিল কুমারী বিলের মধ্য দিয়ে এর ধারা বয়ে নিয়ে যায়। শিব নদী ও বিল কুমারী একত্রিত হওয়ার কারণে প্রাকৃতিকভাবেই এখানে তৈরি হয় প্রাণবৈচিত্র্যর এক আধার। শিব নদীর দু-পাশের গ্রামগুলোর মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠে শিব নদী। তানোর উপজেলার ১০টি গ্রামে ১৭৮৫টি জেলে পরিবারের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে। কিন্তু ১৯৬৫ সালের মান্দা উপজেলার বৈদ্যপুর এলাকায় নদিটির উৎসমুখে বাঁধ দেওয়ার ফলে নদীটির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। ভাটা পরে এর স্বাভাবিক প্রাণ-প্রবাহে। দখলের কারণে নদীর আয়তন কমতে থাকে। পাশাপাশি দূষণের কারণে কমতে থাকে মাছ বৈচিত্র্য। নদী থেকে হারিয়ে যায় সিঙ্গার, লিখাড়, শালুকের মতো খাদ্য উপযোগি জলজ উদ্ভিদ। এর কারণে জেলে সম্প্রদায়ের অনেকে পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বারসিক ২০১৪ সালে তানোর উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করার পর শিব নদী রক্ষার বিষয়টি নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। সুধী সমাজ, জেলে সম্প্রদায়ের সদস্য ও সাংবাদিকদের নিয়ে গড়ে তোলে শিব নদী রক্ষা কমিটি, যারা নিয়মিত এই নদী রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.