সাম্প্রতিক পোস্ট

গ্রামীণ নারীর লোকায়ত চর্চায় টিকে আছে গ্রাম বংলার ঐতিহ্য পিঠাপুলি

মানিকগঞ্জ থেকে রাশেদা আক্তার

‘আন্তঃনির্ভরশীলতার সম্পর্ককে স্বীকার করি, বহুত্ববাদী সমাজ গড়ি’ শ্লোগানকে সামনে রেখে সম্প্রতি মানিকগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরমত্ত গ্রামে প্রত্যয় কিশোরী সংগঠন ও আলোর পথিক নারী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এবং বারসিক’র সহযোগিতায় পিঠা উৎসব ও শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেন সেলিম।

আলোর পথিক নারী সংগঠনের সভাপতি সুমি আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনায় কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘আমরা বাঙলি জাতি। পিঠাপুলি আমাদের বাংলার ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য আমরা টিকিয়ে রাখতে চাই। আগামী বছর এই গ্রামে আমরা অনেক বড় আকারে পিঠা উৎসব করতে চাই।’ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল বারেক বলেন, ‘কিশোরীরা মিলে একটি সংগঠন করেছে। তারা ইউএনও’র কাছে আবেদন করেছে কম্বলের জন্য এবং সেই কম্বল আজ বিতরণ করছে। এটি সত্যিই একটি বিরাট সাহসের বিষয়। আজকে জানলাম একটি পিঠা বানানোর জন্য চাল, গুড়, দুধ, নারকেল প্রয়োজন হয়। এসব উপকরণ একজনের কাছে থাকেনা। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে কিনতে হয়। এদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হবে। আমাদের পিঠা বানানোর ও খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। তা না হলে বিভিন্ন পেশা হারিয়ে যাবে। সেই সাথে আমাদের গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি ও হারিয়ে যাবে। এটি হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবেনা।’

মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো: হানিফ আলী ‘বারসিক বিভিন্ন ধরণের সচেতনতামূলক কাজ করে থাকে। পরিবেশ নিয়ে কাজ করে। বৃক্ষরোপণ করে। ধলেশ্বরী নদী খনন বিষয়ে বারসিক নেতৃত্ব দিয়েছে। যার ফলে আজ নদীতে পানি আছে। আজ এখানে পিঠা উৎসব আয়োজন করেছে। এখনকার শিশুরা পিঠার নাম জানে বইয়ে পড়ে কিন্তু পিঠা চিনে না। তাদের চিনাতে হবে। আগে দেখতাম শীতকালে মেয়েরা জামাই নিয়ে নাইওরে আসতো। শীতের পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যেত। পাড়ায় পাড়ায় উৎসব জমে যেত। কিন্তু এখন পোলাও মাংস খাওয়ায়। পিঠা বানায় না। মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা কমে গেছে। বারসিক মানুষের মধ্যে সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে এজন্য বারসিককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ স্বাগত বক্তব্যে বারসিক মানিকগঞ্জের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘পিঠাপুলি হচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, গ্রামীণ সংস্কৃতির একটি অংশ। আজকাল বাচ্চারা দোকান থেকে নানা ধরণের চিপস ও জুস কিনে খায়, যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কিন্তু গ্রামীণ এসব পিঠা অনেক ভালো। এটি নিরাপদ খাবার।’

অনুষ্ঠানের অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন র ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো: সওকত হোসেন, মহিলা ইউপি মেম্বার মালেকা বেগম, আলোর পথিক নারী সংগঠনের সভাপতি সুমি আক্তার, খাবাসপুর কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মো: মনোয়ার হোসেন, ইউপি সদস্য মো: সামসুদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ: হামিদ, খাদিজা আক্তার প্রমুখ।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: