Posted in

আন্তঃনির্ভশীলতা স্বীকার করি, বহুত্ববাদী সমাজ গড়ি

মানিকগঞ্জ থেকে ঋতু রবি দাস

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে সম্প্রতি। এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে জেলা সমাজসেবা এবং বাস্তবায়ন করেন শহর সমাজসেবা। বারসিক‘র’ মাধ্যমে রবিদাস পাড়ার মোট ১১ জন এই প্রশিক্ষণে সুযোগ পায়। এই প্রশিক্ষণের সার্বিক তত্তাবধানে থাকেন মোঃ মেহেদী মাসুদ শহর সমাজসেবা অফিসার, মানিকগঞ্জ।

মানিকগঞ্জের সমাজসেবা অফিসারমোঃ মেহেদী মাসুদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে আসেন এই প্রশিক্ষণে। জনগোষ্ঠীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণের ফাঁকে ফাঁকে নারীদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করেন। তার ভাষ্যমতে, ‘নারীদের নিজেদের জন্য সময় বের করা উচিত। নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত। ভালো খাবার গুলো নারীরা সবসময় তার স্বামী বা সন্তানদের জন্য রাখেন। তবে দেখা যায় নারীরা বাসায় থাকলেও তাদের পরিশ্রম অনেক যায়। তাই তাদের উচিত সর্বদা অন্যের কথা না ভেবে, নিজের জন্যও ভাবা এবং বাঁচা উচিত।’

কিছুদিন আগে সবার ভালো রান্না কী কী, একটা কাগজে লিখতে বলেন। সবাই যে যেটা ভালো রান্না করতে পারেন সেগুলো কাগজে লিখে জনাবের কাছে জমা দেন। সবাই তাকে জিজ্ঞেস করেন, স্যার এটা কেন লিখলাম? মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, ‘এই যে নাম লিখলেন আপনারা এগুলো রান্না করে নিয়ে আসবেন এবং এগুলো সবাই মিলেমিশে একসাথে বসে খাবেন। সবার জিজ্ঞাসা কেন?
তার ভাষ্য, ‘আমি দেখতে চাই আপনাদের মধ্যে কোন হিংসা বা ঘৃণা কাজ করে কি না! এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ আছেন, তাদের মধ্যে আন্তরিকতা কেমন, আমি দেখতে চাই। আমরা একে অপরের হাতের খাবার খাব কি না, সেটা দেখতে চাই।’


মোট ৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীদের ৫ টি গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হয়। কাউকে ভাত রান্না করে নিতে বলা হয় এবং কাউকে সর্ষে ইলিশ। সবাইকে বিভিন্ন পদের খাবার নিয়ে যেতে বলা হয়। যেই বলা, সেই কাজ। এপ্রিলের ২৭ তারিখে উপস্থিত সবাই নিজের রান্না করা খাবারগুলো নিয়ে যান। সবাইকে দায়িত্ব ভাগ করে দেন মেহেদী হাসান মাসুদ নিজেই। সবাই মিলে সবার হাতের রান্না করা খাবার খান। তখন কারোও মাঝে জাত-পাতের ভেদাভেদ ছিলো না।
তাহলে দেখা যাচ্ছে সমাজে বাস করতে গেলে আমরা সবাই সবাই উপর নির্ভরশীল। কেউ কাউকে ছাড়া চলতে পারি না। জীবন চলার ক্ষেত্রে কোন না কোনভাবেই একে অপরকে আমাদের দরকার। তাই আসুন আন্তঃনির্ভরশীলতা স্বীকার করি এবং এভাবে বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে ভূুিমকা রাখি।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.