Posted in

বৈচিত্র্যের গুরুত্ব বোঝার জন্য বৈচিত্র্যের অবদান বোঝা জরুরি

মানিকগঞ্জ থেকে রাশেদা আক্তার

বারসিক’র উদ্যোগে গত ১৩ ও ১৪ মার্চ বৈচিত্র্য, আন্তঃনির্ভরশীলতা ও বহুত্ববাদী সমাজ বিষয়ক দু’দিনব্যাপি কর্মশালা বারসিক সিংগাইর রিসোর্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বারসিক মানিকগঞ্জ কর্মএলাকার কর্মীগণ অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বারসিক পরিচালক সৈয়দ আলী বিশ^াস।

কর্মশালার প্রথম দিনের শুরুতেই বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বলা হয় বৈচিত্র্য হচ্ছে ভিন্নতার সমাহার ও সহাবস্থান। ভিন্নতার সমাহার ও সহাবস্থান পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। বৈচিত্র্য দুই ধরণের- প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আবার তিন ধরণের হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের প্রধান উপাদান হলো প্রাণ। প্রাণ হচ্ছে তাই যার জীবন আছে, মৃত্যু আছে এবং অনুভূতি আছে। বেঁচে থাকাই প্রাণের/জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

এরপর খাদ্য ও খাদক নিয়ে আলোচনা করা হয় একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উদাহরণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে। বৈচিত্র্য বিষয়ে প্রশিক্ষক বলেন, ‘তিনটি কারণ এবং ধরণের জন্য বৈচিত্র্যের বৃদ্ধি ঘটে। প্রতিবেশগত ভিন্নতার কারণে, প্রজাতিগত ভিন্নতার কারণে এবং জিনগত ভিন্নতার কারণে।’ তিনি প্রাণ কেন প্রয়োজন, প্রাণবৈচিত্র্য কেন প্রয়োজন, সংস্কৃতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সংস্কৃতির মৌলিক উপাদান খাদ্য, বস্ত্র, ভাষা, পেশা, বিশ^াস ইত্যাদি সবই এসেছে প্রকৃতি থেকে। প্রকৃতির প্রতিবেশগত ভিন্নতার কারণেই সংস্কৃতির ভিন্নতা হয়। খাবারে ভিন্নতা হয়। প্রকৃতি এবং প্রতিবেশ নির্দেশ করে একটি এলাকার সংস্কৃতি কি হবে। বৈচিত্র্যের গুরুত্ব বোঝার জন্য বৈচিত্র্যের অবদান বোঝা জরুরি।’

প্রশিক্ষণে এরপর বৈচিত্র্য বিষয়ে দলীয় অনুশীলন করা হয়। যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে চরাঞ্চল, গ্রাম ও নগরে কী ধরণের বৈচিত্র্য রয়েছে যা ওই এলাকার জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এবং কেন? ওই বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্য টিকিয়ে রাখার জন্য কী করণীয় তা ব্রাউন পেপারে লিখে উপস্থাপন করা হয়। সকলের অংশগ্রহণ ও উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হয়।

কর্মশালার ২য় দিনে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, সামাজিক সংবেদনশীলতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রেক্ষিত, সমাজ কাঠামো বিশ্লেষণ, নির্ভরশীলতার সম্পর্ক এবং কৃষি প্রতিবেশ বিদ্যা নিয়ে অংশগ্রহণমূলক আলোচনা করা হয়। এরপর দলীয় অনুশীলনের মাধ্যমে সকলে মিলে সমাজে কী কী বৈচিত্র্যময় পেশার মানুষ আছে এবং তাদের মধ্যে কী ধরণের আন্তঃনির্ভরশীল সম্পর্ক রয়েছে তা চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.