Posted in

বহরমপুর বস্তির একতার জয়

রাজশাহী থেকে তহুরা খাতুন লিলি
রাজশাহী শহরে অনেকগুলো বস্তি রয়েছে। বস্তিগুলোতে রয়েছে অনেক সমস্যা। শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকা, কাজের কম সুযোগ এসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম। এসব বস্তির মানুষ চায় কেউ তাদের পাশে থাকুক, একটু সাহস দিক, যেহেতু তাদের নিজের থাকার জায়গা নেই। এসব ভূমিহীন মানুষের অনেকক্ষেত্রে সচেতন নয়।বস্তি পর্যায়ে দেখা যায়, বেশি বাল্যবিয়ে, কুসংস্কার, ঝগড়া বিবাদ, মারামারি হয়ে থাকে। আর এগুলোর মূলে থাকে একতাবদ্ধ হয়ে না থাকা। এরকম ছোট ছোট বস্তি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রাজশাহী শহরে। তাদের মধ্যে একটি হলো বহরমপুর এর বস্তি।


বহরমপুর বস্তিতে প্রায় ১৫০টি পরিবারের মোট ৬০০ মানুষের বসবাস। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন। কুদ্দুস হোসেন বলেন, ‘গ্রামে একটা ঝুপরি করে কোনরকম থাকতাম কিন্তু কোনো জীবিকা ছিলনা। রংয়ের এর কাজ করতাম চাচার সাথে। কিন্তু গ্রামে তো তেমন বাড়ি নেই, যাদের আছে রং করেও তেমন পয়সা দিতনা। তাই শহরে এসে রংয়ের কাজ করি প্রায় ২৫ বছর ধরে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে এসে বিয়ে করে সংসার শুরু করি। প্রথমে চটের ঝুপরি কওে থাকতাম। তবে আয় করার পর টিন দিয়ে বাড়ি করি। এখন ১০ বছরের ছেলেকে নিয়ে মোটামুটি চলে যাচ্ছে ভালোই।”


বারসিক’র সহযোগিতায় বহরমপুর বস্তিতে ২০১৯ সালে জুন মাসে বস্তিবাসীদের নিয়ে একটি সংগঠন করা হয় যার নাম ‘বহরমপুর সার্বিক উন্নয়ন সংগঠন’। ঐক্যবদ্ধভাবে সকল কাজ সমাধান করার লক্ষ্যে ২০১৯ সাল থেকেই সংগঠনের নিয়মিত সভা, সমস্যাগুলো কেন্দ্র করে প্রচারাভিযান, সংগঠন উন্নয়নমূলক সভা, শক্তিশালিকরণ সভা, বস্তির মানুষের অধিকার বিষয়ক কর্মসূচি আয়োজন করে এই সংগঠন। এছাড়া বারসিক’র সহযোগিতায় সংগঠনের সদস্যরা চাষবাস করেন তাদেও ফাঁকা জায়গায়। এসব ফসলের বীজ তারা সংরক্ষণ ও বিনিময় করেন। এভাবে বীজ বিনিময় করে একে অপরের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তাদের মাঝে একটা ঐক্য তৈরি হয়।


উল্লেখ্য যে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই বস্তি উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছিলো বহরমপুর বস্তিতে। এক্ষেত্রে বারসিক’র সহেযাগিতায় সংগঠনের সদস্যরা যোগাযোগ করে মানববন্ধন আয়োজন করে এবং প্রশাসনের বরাবর আবেদন করে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। তারা এখন জানে যে, তারা সেখানকার ভোটার। তাদের আবাসন নেই, নিরাপদ আবাসন না করে বস্তি উচ্ছেদ করার নিয়ম নেই। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নিরাপদ আবাসন না হওয়া পর্যন্ত বস্তি উচ্ছেদ করা যাবে না-এমন ঘোষণা দেয় স্থানীয় সরকার। এই সময় বহরমপুর সার্বিক উন্নয়ন সংগঠন এর সহ সভাপতি মতি বলেন, ‘আমরা একতাবদ্ধ হয়ে সব কাজ করেছি, তার জন্য আজ আমরা অধিকার আদায়ে সক্ষম হয়েছি। বারসিক আমাদের অনেক দিক নির্দেশনা দিয়েছে। আজ এই ঐক্যতার জন্য বারসিক’র অনেক ভূমিকা রয়েছে।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.