Posted in

শ্যামনগরে নববর্ষের আগমনে গ্রামীণ খেলাধুলা অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা থেকে সৈয়দা তৌহিদা ইসলাম নিশি

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গত ১৪ এপ্রিল নানা রকম জারি সারির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহি গ্রামীণ খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের বিভিন্ন রকম খেলাধুলায় এলাকার যুব, মধ্য বয়স্ক ও প্রবীণ প্রতিবন্ধী সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিলো এই আয়োজনে।

20190414_085926
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা, কাশিমাড়ী, বুড়িগোয়ালীনিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিডিও ইয়ুথ টিমের আয়োজনে এবং বারসিক এর সহযোগিতায় নববর্ষের দিনের শুরুতে প্রভাতফেরী, খই-নকুল দানা বিতরণ ও পান্তাভোজ আয়োজন করা হয়। এরপর বিভিন্ন ধরণের বাংলা মায়ের গানের প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন ধরণের খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলার চত্বরে ছাতিম তালায় এসে শেষ হয়। এ সময় র‌্যালিতে জমিদার, প্রজা, জেলে, বাওয়ালী, কামার-কুমার, তাঁতি, বেদেসহ বিভিন্ন ধরণের বাঙালীর সাজে বিভিন্ন মানুষের আগমনে র‌্যালিটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। র‌্যালি শেষে উপজেলা চত্বরে আগত সকলের মাঝে বারসিক’র পক্ষ থেকে খই এবং নকুলদানা বিতরণ করা হয়। এরপর পান্তাভোজে যোগ দেন আগত সকল মানুষ।

20190414_181751
পান্তাভোজ পরবর্তী সময়ে পহেলা বৈশাখ নিয়ে শুরু হয় জারি গানের পালা। বৈশাখী গানের মাঝে মাঝে পিতা-মাতা-প্রবীণ প্রতিবন্ধীদের নিয়ে জারিগান পরিবেশন করেন দাউদ বয়াতী। এই গানের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখে আসা দর্শনার্থীদের পিতামাতার প্রতি আরো দায়িত্ববোধ বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন অনেকে।

সিডিও ইয়ুথ টিমের যুবদের আয়োজনে উপজেলা সদরে বাদঘাটা, কাশিমাড়ি এভারগ্রীন যুব সংঘের মাঠে এবং নীলডুমুর ফরেষ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাড়িভাঙা, কলাগাছ বেয়ে ওঠা, কাচিটানা, বেলুন ফাটানো, বালিশ ছোড়া সহ নানাবিধ খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় আগত মানুষের মাঝে উদ্দীপনা ছিলো লক্ষ্যণীয়। খেলায় আগত প্রবীণরা দিনটিতে তাদের শৈশবকে দেখতে পেয়েছেন বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।

20190414_182051
কাশিমাড়ী এভারগ্রীণ যুব সংঘের মাঠে কলাগাছ বেয়ে উঠতে দেখা যায়। এক বাক প্রতিবন্ধী যুবককে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। তার প্রতিভার কাছে হার মেনে যায় তার প্রতিবন্ধীকতা।এভারগ্রীন যুব সংঘের মাঠে পহেলা বৈশাখ বিকালে প্রবীণ প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতামূলক জারি গান অনুষ্ঠিত হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.