সাম্প্রতিক পোস্ট

একত্রিত হয়ে ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হবে

সিংগাইর, মানিকগঞ্জ থেকে বিউটি রানী সরকার

‘সরকারি সেবার সুষম বণ্টন পেতে হলে একার পক্ষে তা আদায় করা সম্ভব নয়। তাই আমাদেরকে একত্রিত হয়ে ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হবে, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে জনমত তৈরি করে সরকারি সেবা ও সহযোগিতা অর্জন করতে হবে।’

সম্প্রতি বারসিক সিংগাইর রির্সোস সেন্টারে অনুষ্ঠিত বায়রা ইউনিয়ন কৃষি উন্নয়ন সংগঠনের বিশেষ বর্ধিত সভায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন রোকেয়া বেগম। কৃষকের অধিকার আদায় ও নানান কৃষিসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কৃষককে একতাবদ্ধ থাকতে হবে বলে মনে করেন ইমান আলী, ইব্রাহিম মিয়ার মত প্রান্তিক কৃষকগণ।


সংগঠনের সভাপতি মো. ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে বারসিক কর্মকর্তা শিমুল কুমাব বিশ^াসের সঞ্চলনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, আসাদ খান, প্রচার সম্পাদক কমলা বেগম ,কোষাধ্যক্ষ ইমান আলী, কার্যনির্বাহী সদস্য ইমান আলী, সদস্য শহর আলী। এছাড়াও উপস্থিতি ছিলেন বারসিক কর্মককর্তা বিউটি সরকার ও শাহীনুর রহমান।


সভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আখ ও সবজি চাষীদের তালিকা তৈরির মাধ্যমে সরকারি ভর্তূকি ও প্রণোদনা, প্রাণী সম্পদের রোগ নিরাময়ে টিকা প্রাপ্তি ও ভাঙা রাস্তা মেরামত-এসব বিষয়কে আলোচনা ইস্যু নির্ধারণ করে বক্তারা জানান, বন্যার কারণে নয়াবাড়ী গ্রামের কৃষকের ১৭৫ হেক্টর জমির আখ নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকের ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য সকল কৃষকের সরকারি প্রণোদনা ব্যবস্থা করতে হবে।


কমলা বেগম বলেন, ‘আমি ঋণ করে ৬২ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে আখ চাষ করি কিন্তু হঠাৎ বন্যা হওয়ায় আমার জমির সব আখ মরে গেছে। এখন আমার পুনরায় জমি লিজ নিয়ে আখ চাষ করার মত টাকা নেই। আমার মত অনেক কৃষকই ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। তাই সাংগঠনিকভাবে আমাদের কিছু উদ্যোগ নেওয়া দরকার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত সকল কৃষকই যেন সরকারি প্রণোদনার আওতায় আসে।’ সদস্য শহর আলী বলেন, ‘আমি ৬ (ছয়) বিঘা জমি লিজ নিয়ে সব্জি চাষ করেছিলাম। হঠাৎ বন্যা হওয়ায় আমার সব সব্জিগাছ মরে গেছে। কৃষি অফিসের মাধ্যমে আমরা সহযোগিতা চাই।’ ইমান আলী বলেন, ‘বন্যায় আমাদের রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে নয়াবাড়ী ও জামালপুর মধ্যপাড়া গ্রামের ও মানুষের চলাচলে মানুষ দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাছাড়া কৃষি পণ্য পরিবহনে অতিরিক্তি টাকা দিয়ে বাজারে নিতে হচ্ছে যে কারণে কৃষকের খুব লাভ হচ্ছে না। ইউনিয়ন পরিষদের যোগাযোগের মাধ্যমে আমাদের রাস্তাটি মেরামত করার জন্য সংগঠনের সদস্যদের সকলের সহযোগিতা করতে হবে।’


কমিটির সহ-সভাপতি ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘বন্যার কারণে গবাদিপশুর রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু রোগ প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ টিকার ব্যবস্থা নেই। সরকারিভাবে টিকার প্রাপ্তির জন্য সাংগঠনিকভাবে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা প্রয়োজন যেন সকলে রোগের হাত থেকে তাদের প্রাণীসম্পদকে রক্ষা করতে পারে।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: