Posted in

করোনায় গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোগক্তাদের সহযোগিতা বাড়াতে হবে

বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে শহিদুল ইসলাম

গ্রামের নারীরা সৃষ্টিশীল, তাঁরাই খাদ্য পণ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন ভোগ্য পণ্য উৎপাদনে বেশি অবদান রাখেন। এর পাশাপাশি গ্রামের অনেক নারী বাংলার ঐতিহ্য ও কৃষ্টি কালচার টিকিয়ে রাখেন তাঁদের সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে। যেমন বাংলাদেশের নঁকশিকাথা, বøক-বুটিকসহ বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলেন হাতের সুই-সচির মধ্যে দিয়ে। নানা রঙের নানা বাহারী জিনিস তৈরি করেন। হয়েছেন একেজন নিজস্ব দক্ষতা আর জ্ঞানে সফল উদ্যোক্তা। এভাবেই গ্রামের নারীরা সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামের নারীর ক্ষমতায়নের তাঁদের সৃুষ্টিশীল উদ্যোগগুলো অনেক বেশি ভূমিকা পালন করছে। নিজেই নিজে কিছু করার চেষ্টা করছেন। নিজে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। গ্রামের নারীদের মধ্যে আগের তুলনায় আরো বেশি উদ্যোগক্তা তৈরি হচ্ছে। সাধারণত উদ্যোগক্তা বলতে আমরা যা বুঝি, তা হলো- একজন ব্যক্তি যখন নিজের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে কোন চাকরি বা কারো অধীনস্ত না থেকে নিজে থেকেই কোন সৃষ্টি, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার চেষ্টা করেন বা পরিকল্পনা শুরু করেন তখন তাকে উদ্যোক্তা বলা হয়।


গ্রামের নারীদের উদ্যোক্তা সৃষ্টি সম্ভাবনার পথটি অনেকটা গতিহীন হয়ে পড়েছে মহামারী করোনার কারণে। করোনার কারণে অনেক ভোক্তাই অনলাইনে কেনাকাটা করায় গ্রামীণ নারীদের এই সম্পর্কিত জ্ঞান ও দক্ষতা না থাকায় পিছিয়ে পড়ছেন তাঁরা। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের নারীগণ সঠিক তথ্য এবং যোগাযোগের অভাবে সরকারি বিভিন্ন সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।


গ্রামের নারী উদ্যোক্তাদের এমন সমস্যা সমাধানে করণীয় বিষয়ে আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং পবা উপজেলা গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তাদের যৌথ আয়োজনে ‘করোনাকালে নারী উদ্যোক্তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ বিষয়ক মতবিনিময় ও আলোচানা সভার আয়োজন করে। উক্ত মতবিনিময়ে পবা উপজেলার ৩৫ জন নারী উদ্যোগক্তা অংশগ্রহণ করে তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন। মতবিনিময়ে সভাপতিত্ব করেন- নারী উদ্যোক্তা ও এ্যাডভোকেট আবদুন নাহার। মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম।

সভায় বক্তরা জানান, গ্রামের নারীদের মধ্যে যেমন উদ্যোগক্তা সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি কিছু সমস্যার কারণে তাঁদের এই উদ্যোগক্তা হবার প্রচেষ্টাকে পিছিয়ে দিচ্ছে। অনেকে নিজের উদ্যোগ ছেড়ে দিচ্ছেন। করোনাকালে গ্রামের নারী উদ্যোগক্তাদের সমস্যা আরো বেড়ে গেছে। গ্রামের নারীরা লেখাপড়া এবং তথ্যের অভাবে এমনিতেই পিছিয়ে ছিলেন, আবার করোনার সময়ে নিজেদের তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান এবং ই-কামার্স ধারণা না থাকায় তাঁরা আরো বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য না পেয়ে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।


এরকমই একজন রাজশাহী পবা উপজেলার বড়গাছি গ্রামের অর্গানিক হলুদ গুড়ার উদ্যোক্তা রেনুকা বেগম। তিনি বলেন, ‘করোনার আগে প্রতিমাসে ২ থেকে ৩ মণ হলুদের গুড়া বিক্রি হতো, কিন্তু করোনা এসে সেরকম বিক্রি না থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছি। সংসারের খরচ চলতো আগে আমার আয়ের টাকায়, এখন টান টান অবস্থা।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিক্রি হলেও যারা নিচ্ছেন তারা দাম কমে কিনছেন, যার ফলে লাভ কম হচ্ছে। অনেকসময় ক্ষতির শিকারও হতে হয়। কিন্তু একই জিনিস ঠিকই উচ্চ দামে কিনতে হচ্ছে একজন ভোক্তাকে। ঠিকই আরেকজন সেই সেই পণ্য বেশি দামে বিক্রি করছেন বিভিন্ন বিক্রির পথগুলো ব্যবহার করে। এর ফলে উৎপাদক এবং ভোক্তা দুজনই ঠকছেন। করোনার সময়ে অনলাইনে কেনা কাটার হিড়িক পড়ায় অনলাইন সুবিধাভোগী উদ্যোক্তা বা রিসেলারগণ এই সুযোগ করে নিচ্ছেন বেশি। মাঝখান থেকে মধ্যস্বত্ত¡ভোগী সেজে বেশি লাভ করছেন। কিন্তু গ্রামের সত্যিকারের নারী উদ্যাক্তারা অনলাইনের এ্যাকসেস বা সুবিধা না পাওয়ায় তাঁরা নিজেরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।’


মতবিনিময়ে গ্রামের নারী উদ্যোক্তাগণ তাঁদের ই-কমার্স দক্ষতা বাড়ানোসহ বিনাসুদের রিনের দাবি জানান সরকারের কাছে। একই সাথে ই- কমার্সভিত্তিক জ্ঞান দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজনের চাহিদা জানান। সভার সভাপতি আবদুন নাহার বলেন, ‘প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও জ্ঞান না থাকায় গ্রামের নারী উদ্যোগক্তা বিভিন্নভাবে যেমন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য কম পাচ্ছেন, তেমনি তাঁর নিজের প্রোডাক্ট নিজে অনলাইনে দেখাতে পাচ্ছেন না। যার ফলে মার্কেট হারাচ্ছেন। অন্যদিকে যারা উৎপাদক নন, রিসেল করেই বেশী টাকা আয় করছেন। এর ফলে যেমন ভোক্তা ঠকছে অন্যদিকে একজন সত্যিকারের উদ্যোক্তাও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।’ করোনার সময়ে গ্রামের নারী উদ্যোক্তাদের বেশি গুরুত্ব দেবার দাবি জানান অংশ্রগহণকারীগণ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.