Posted in

কৃষিকাজে ভূ-ঊপরিস্থ পানির ব্যবহার করি

রাজশাহী থেকে ব্রজেন্দ্রনাথ
পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ৮নং ওর্য়াডে অবস্থিত ‘ভোলা বাড়ির বিল’। এই বিলের চারপাশে ঘিরে আছে বায়া, ভূগরইল, ভোলাবাড়ি, পাকুড়িয়া গ্রামসহ ও দক্ষিণে রাজশাহী শহর। এই ভোলাবাড়ি বিলকে কেন্দ্র গড়ে উঠেছে কৃষকের অন্যতম উন্নয়নের জোয়ার। এই উন্নয়নের জোয়ারের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে শহরের একটি ড্রেন। শহর থেকে যে ক্যানালটি শহরের বর্জ্যপানি নিস্কাশন বের হওয়ার জন্য গিয়ে পড়েছে ভোলাবাড়ি বিলের উপর দিয়ে নওহাটার বারনই নদীতে।

ভোলা বাড়ি গ্রামের কৃষক মোঃ কোরান মন্ডল (৮৪) বলেন, ‘এই ভোলা বাড়ির বিলে আজ থেকে ২৫ বছর আগে কৃষিতে পানি সেচের জন্য একটি মাত্র গভীর নলকূপ ছিল যেখান থেকে কৃষকেরা ধান চাষ করতো। কিন্তু এক পর্যায়ে গভীর নলকূপ থেকে পানি কম উঠে এবং বার বার নষ্ট হয়। ফলে কৃষিতে পানি সেচ দেওয়া ব্যাহত হয়। পানি সেচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে এই ভোলা বাড়ির বিলে প্রায় ৫ বছর ফসল চাষ পদ্ধতি কমে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে ভোলা বাড়ি গ্রামে বর্ষার পানি নিস্কাশনের জন্য নওহাটা পৌরসভা থেকে একটি ক্যানাল তৈরি করে যা ভোলা বাড়ি গ্রাম থেকে সরাসরি রাজশাহী শহর থেকে আসা সেই ক্যানালের সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এখন এই ক্যানালে শহর থেকে আসা বর্জ্যপানি কৃষকেরা ফসল চাষে ব্যবহার করছেন। যার ফলে কৃষকেরা একদিকে ভূগর্ভস্থ পানি সাশ্রয় করছেন এবং অন্যদিকে ফসল চাষে টাকা খরচও কম হচ্ছে।’


বর্তমানে এই বিলে ৪টি গ্রামের কৃষকেরা ১০০০ হাজার বিঘা জমিতে আলু, গম, মসুর, সরিষা ও নানা প্রকার সবজি চাষ করছেন। আগে ডিপে পানি নিতে গিয়ে পানির সিরিয়ালের জন্য ঝগড়া ও মারামারি হতো। তবে এখন আর সেই ঝামেলা নেই। তবে শহরের বর্জ্যপানি ব্যবহার করলে ফসল চাষে মানুষের কোন ক্ষতি বা সেই ফসলের খাদ্য খেয়ে শারীরিক বা স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ কোরান মন্ডল বলেন, ‘স্বাস্থ্যের যদি কোন ক্ষতি হতো তবে এই এলাকার মানুষেরা শহরের বর্জ্যপানি ব্যবহার করে কোন ফসল চাষ করতো না। আমিও যেহেতু একজন কৃষক তাই এখানে আমি একটি বিষয় খেয়াল করেছি যে, শহরের এই পানি ব্যবহার করে বিশেষ করে জমিতে সারের পরিমাণ কম লাগছে।’

এই নালা থেকে সহজে কৃষকেরা পানি মেশিনে সেচ দিয়ে জমিতে ব্যবহার করতে পারেন। সে জন্য নওহাটা পৌরসভার মেয়র এই নালাটি ৪ বছর পরপর ড্রেজার দিয়ে খনন করে দেন। তাতে করে এই ক্যানালের পানি ব্যবহার করতে কৃষকের আর কোন কষ্ট হয় না কোন কৃষকে কৃষকের মাঝে মারামারি হয় না। কৃষকরা এই নালার পানি ব্যবহার করে ফসল চাষ করতে পারছেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.