Posted in

তানোরে বাড়ছে হাঁসের খামার

তানোর রাজশাহী থেকে মিজানুর রহমান:

রাজশাহীর তানোর উপজেলার অধিকাংশ এলাকার মাঠে ঘাটে হাটে সর্বত্র দেখা মিলছে হাঁসের পাল। হাঁসের প্যাঁক প্যাঁক শব্দে মুখর গৃহস্থবাড়ির আঙিনা আর খামার। নদী-নালা, বিল, উম্মুক্ত জলাশয় এবং মাছের খামারে হাঁস লালন পালন করে সংসারের বাড়তি আয় করছেন অনেকেই। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, উপজেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ১১৫টি হাঁসের খামার রয়েছে। এসব খামারে চারশ থেকে দুই হাজার পর্যন্ত হাঁস রয়েছে। সব মিলিয়ে এক লাখের বেশি হাঁস রয়েছে খামারগুলোতে। খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে ডিম পাওয়া যায় প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার।

tanore-duck-photo-01-02-12-2016
সম্প্রতি উপজেলা তানোর ও মুন্ডুমালা পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলায় অসংখ্য খাল-বিল ও নদী-নালা অবস্থিত। এসব নদী-নালা খরার মৌসুমে শুকিয়ে গেলেও বর্ষা মৌসুমে যৌবন ফিরে পায়। এসব জায়গায় হাঁসের খামারিরা গড়ে তুলেছেন তাদের স্বপ্নের হাঁসের খামার। হাঁসগুলো সারা দিন নদী, পুকুর বা খালে-বিলেই চরে বেড়ায়। রাতে নেয়া হয় নদী ও বিলের পাড়ের অস্থায়ী খামারে। দিনভর নদী ও খালে ঘুরে ঘুরে প্রাকৃতিক খাবার খায়। বাড়তি খাবার দেয়ার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। আর এভাবে এ অঞ্চলে প্রায় কয়েকশ হাঁসের খামার গড়ে উঠেছে। ফলে এলাকার বেকার তরুণ-তরুণী, বৌ ঝি এমনকি ছেলে বুড়োরাও এখন হাঁস লালন পালনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। খামারে অল্প খরচে যেমন হাঁস পালন করা সম্ভব হচ্ছে তেমন বেকারত্ব দূরিকরণেও খামার রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

উপজেলার শিবনদীর পাশে অস্থায়ি খামারী উপজেলার লছিরামপুর গ্রামের কামাল হোসেন জানান, “বিলে হাঁস পালন করতে বেশি খরচ হয় না। পুঁজিও লাগে কম। মাত্র ৩০ টাকা দরে হাঁসের বাচ্চা কেনার পরেই শুরু করা যায় খামার। খামার করে  আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে।  এখন আমি ভালো আছি।”

উপজেলার অনেক খামারি জানান, প্রথমে পাঁচ/ছয়টি হাঁস লালন পালনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তারা। লাভজনক হওয়ায় পরে তা বাড়তে বাড়তে শ শ হয়েছে। হাঁস পালনে খরচ কম। ডিম দেওয়া পর্যন্ত একটি হাঁস পালনে খরচ হয় ৮০ থেকে ১’শ টাকা। চার/পাঁচ মাস বয়স হলে একটি হাঁস আড়াই’শ থেকে ২’শ আশিটি ডিম দেয়। আবার মাছের খামারে হাঁস পালন করে প্রচুর টাকা আয় করছেন অনেকেই।

এছাড়া নদী ও বিল কেন্দ্রিক খামারিদের হাঁস পালনে তেমন একটা খরচ নেই বললেই চলে। অল্প পুঁজি খাটিয়েই এই ব্যবসা করা যায়। অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে হাঁস পালনে এগিয়ে আসছেন এবং পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন বলে জানান তারা।

তবে উপজেলার একাধিক ভ্রাম্যমান খামারী অভিযোগ জানান, বারো মাসই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাঁস মারা যায়। কিন্তু বিলে কখনোই পশু চিকিৎসক আসেন না। ফলে পরামর্শের জন্য তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। তাছাড়া সরকারিভাবে সরবরাহ করা কমদামি ভ্যাকসিনও তারা পান না। বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে বেশি দামে কিনতে হয় ভ্যাকসিন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোখলেসুর রহমান জানান, ওষুধের সরবরাহ কম থাকায় অনেক সময় খামারিদের চাহিদামতো ওষুধ দেওয়া যায় না। আর জনবল কম থাকায় অনেক সময় খামারগুলোতে সঠিক সময়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তবুও অল্প সময়ে অধিক লাভবান হওয়ায় উপজেলা জুড়ে হাঁস পালন ও খামারের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। সরকার ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি এই উদ্যোগকে আরো কার্যকর করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন খামারিরা।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.