সাম্প্রতিক পোস্ট

প্রাণীসম্পদ পালনে জৈবকৃষি চর্চা বাড়ে

রাজশাহী থেকে ব্রজেন্দ্র নাথ

প্রাণীসম্পদ সুরক্ষা হলে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চাও বেড়ে যায়। যার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার আ: জাববার মিয়া। রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের কৃষক মো. জব্বার আলী (৬০) পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১০জন বসতভিটার পরিমাণ ৬ শতক এবং আবাদী জমির পরিমাণ ৬ বিঘা। তাঁর বাড়িতে গরু ১১টি, ছাগল ৮টি, হাঁস ও মুরগি প্রায় ১৫টি। গরু ছাগলের গোবর ও বিষ্ঠা দিয়ে তিনি জৈব পদ্ধতিতে কৃষি চর্চা করেন। অন্যদিকে এসব জৈব সার বিক্রি করেও তিনি অতিরিক্ত আয় করেন।

IMG_0325

কৃষক জব্বার আলী সারাবছরই শাক ও সবজির চাষ করেন। চাষকৃত সবজির মধ্যে পেঁপে, টমেটো, পটল, আলু, মূলা, মরিচ প্রভৃতি। একসময় তিনি সব ধরনের ফসলে শুধু রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার করতেন। সময়ের পরিক্রমায় ও সচেতনতার কারণে বর্তমানে তিনি জৈব কৃষি চর্চার দিকে ফিরে যাচ্ছেন। বাড়ির উঠোনে যেসব সবজি চাষ করেন সে সবজি বাগানে তিনি জৈবসার ব্যবহার করেন। চলতি বছরের প্রথমদিকে জৈবসার ব্যবহার করে ৪৮ শতক জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। ছাগলের আর গরুর গোবর ব্যবহার করে তিনি এই চাষ করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুরুর সময় আমি একমাস ধরে ছাগলের গোবর সংগ্রহ করেছি।”

IMG_3492

তাঁর পেঁপে বাগানটি ভালোই আছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত আমার পেঁপের তেমন কোন সমস্যা হয়নি। একবার পেঁপের বাগান করলে সেখান থেকে কমপক্ষে তিনবছর ফল পাওয়া যায়। বাজারে পেঁপে সবজি হিসেবে অনেক কদর আছে। চাহিদাও আছে।” তিনি আরও বলেন, পেঁপে চাষে তেমন কোন প্রকার সমস্যা দেখা যায় না। পেঁপে লাগানোর প্রথম বছর শুধু বেশি পরিমাণে খরচ হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে শুধুমাত্র পানি সেচ এবং গাছের গোড়ায় হালকা কবার মাটি এবং বাঁশের খুঁটিগুলো বেঁধে দেওয়া ছাড়া কোন প্রকার কাজ থাকে না।”

সমস্যা এবং সম্ভাবনার দিক জানতে চাইলে আব্দুল জব্বার বলেন, “আমার নিজের জমি বলেই জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা সম্ভব হয়েছে। কারণ যারা বর্গা করেন তাদের মালিকরা এসব পদ্ধতি ব্যবহার করতে অনেকসময় নিষেধ করেন। তারা এটাকে অনেক সময় ঝুঁকি মনে করেন।” তিনি আরো বলেন, “বর্গা চাষীরা অনেক সময় জমিতে অধিক পরিমাণে ফলন আনার জন্যে অধিক পরিমাণে রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার করেন। যার ফলে জমির মাটির গুণাগুণ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।”

কৃষক জব্বার মিয় মনে করেন এভাবে জমিতে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার হলে দিনে দিনে আমদের জমিগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। একই সাথে এই বিষমাখা খাবার খেয়ে আমদের শরীর ও স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাবে। এর ফলে আমাদের পরিবেশও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

IMG_3495

কৃষক জব্বার আলী নিজে প্রাণীসম্পদ পালন করেন। এর ফলে তার বাড়িতে জৈবসারের যোগানা বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজের জমিতে তিনি এই সার ব্যবহার করেন। তিনি মনে করেন, বাড়িতে গবাদি পশু ও পাখির সংখ্যা বাড়লে বা কেউ পালন করলে যেমন তার নিজের আর্থিক সংস্থান বাড়ে তেমনি কৃষিতে জৈবচর্চার দিকগুলোও বেড়ে যায়। কারণ জৈব কৃষির উপকরণ সহজলভ্য হয়।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: