সাম্প্রতিক পোস্ট

করোনা মহামারীতে যুব সংগঠনের উদ্যোগ

নেত্রকোনা থেকে রুখসানা রুমী

আজকের যুব সমাজই আগামী দিনের ভবিষ্যত। আমাদের এ দেশ, দেশের শিক্ষা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করে সমৃদ্ধশালী করে তুলবে আমাদের যুব প্রজন্ম। আমাদের সমাজের উন্নয়নের পথে অসংখ্য সমস্যা অন্তরায় হয়ে দন্ডায়মান। সমাজের এত সব সমস্যা সমাধানে বর্তমান প্রজন্ম সদাসর্বদা সন্মুখ কাতারে দাঁড়িয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান বৈশ্বিক দূর্যোগ করোনা মোকাবেলায় এলাকার যুব সংগঠনগুলো ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নেত্রকোনা জেলায় কেন্দুয়া উপজেলায় বলাইশিমূল ইউনিয়নের নোয়াদিয়া গ্রামের ‘ধান শালিক-নদী-হাওর যুব সংগঠন’ এমনই একটি সংগঠন। সংগঠনটি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘরে বসে না থেকে নিজ গ্রামে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও ভয়াবহতা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সচেতনতামূলক আলোচনা, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ ও ভাইরাস প্রতিরোধ করণীয় বিষয়ে প্রচারণা এবং নিজ এলাকার জনগণকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালা ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলার পরামর্শ দিয়ে চলেছে। গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারে সংগঠনের উদ্যোগে ১০০টি মাস্ক, ১০০টি হ্যান্ডওয়াস, ১০০টি সাবান বিতরণ করেছে।

এছাড়াও স্থানীয় সরকারের (চেয়ারম্যান) সহযোগিতায় গ্রামের ৩০০টি অসহায় পরিবারের নিকট খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিয়েছে। করোনাকালীন সময়ে থেমে থাকেনি গ্রামের কৃষি কাজও। ধান-শালিক-নদী হাওর যুব সংগঠনের অধিকাংশ সদস্যই বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গত দুই মাস ধরেই কৃষি কাজের সাথে যুবকরা সরাসরি যুক্ত হয়েছে। বসতভিটা, পতিত জমিতে বৈচিত্র্যময় সবজি চাষ এবং বোরো ধান কাটার মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াই কাজে অংশগ্রহণ করে গ্রামের দরিদ্র কৃষক-কৃষাণীদের সহযেগিতা করেছে সংগঠনটি। তারা গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবারে সবজি বীজ দিয়ে সহয়তা করেছে। সংগঠনের সকল সদস্য করোনাকালীন সময়ে সংকট মোকাবেলায় নিজ নিজ বাড়ির চারপাশে বৈচিত্র্যময় শাক্-সবজি চাষ করেছে। তারা নিজ নিজ পরিবারের চাহিদা মিটানোর পর উদ্বৃত্ত্ব সবজি বাজারে বিক্রি না করে গ্রামের দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে বৈচিত্র্যময় সবজি, যেমন- লাউ, পুইশাক, কুমড়া, করলা, ডাটা, বরবটি বিনামূল্যে বিতরণ করে দরিদ্র পরিবারের জনগোষ্ঠীর পুষ্টি ও ভিটামিনের যোগান দিয়েছে। যাতে তারা অর্থাভাবে পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত না হয় এবং করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে শারীরিকসক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় এখানেই থেমে থাকেনি এই যুব সংগঠনের উদ্যোগ। এলাকার প্রাণবৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও পরিবেশ সুরক্ষায় সংগঠনের উদ্যোগে গ্রামে ১০০টি বৈচিত্র্যময় ফলের চারা রোপণ করা হয়েছে। বৈচিত্র্যময় বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে গ্রামের যুবকরা প্রমাণ করেছে যে, তারা পরিবেশ বিনষ্ট নয়, বরং এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।

এখন জুন মাস, বৃক্ষ রোপণের উত্তম সময়। এসময়ে যুব সংগঠনটি এলাকার জনগোষ্ঠীকে করোনাকালীন সংকটে ঘরে বসে না থেকে নিজ নিজ বসতভিটা, পাড়া ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পতিত জমিতে এবং রাস্তার ধারে বৈচিত্র্যময় গাছের চারা রোপণ করার আহবান জানিয়েছে। গ্রামের সকল শ্রেণী ও পেশার লোক করোনা সংকট মোকাবেলায় এলাকার প্রাণবৈচিত্র্য, পরিবেশ ও পরস্পর পরস্পরের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে এলাকার উন্নয়ন অবশ্যই সম্ভব। সংগঠনটির বিশ্বাস সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এলাকার পরিবেশ সুরক্ষিত হবে এবং করোনাকালীন সংকট মোকাবেলা করে বৈশ্বিক দূর্যোগ মহামারী করোনা প্রতিরোধ করা সক্ষম হবে।

happy wheels 2
%d bloggers like this: