সাম্প্রতিক পোস্ট

টমেটো সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছেন বরেন্দ্রের কৃষকেরা

রাজশাহী থেকে মো. জাহিদ আলী,

‘এক ক্যারেট (পঁচিশ থেকে ত্রিশ কেজি) মালের দাম পঁচিশ থেকে ত্রিশ টাকা। এত কম দাম হলে কৃষক বাঁচবে কিভাবে বলেন? কেজিতে যদি এক টাকাও না পাই তাহলে নিজে কি খাব আর সংসারে কি দিব?’ অনেকটা আক্ষেপের স্বরে কথাগুলো বলছিলেন গোদাগাড়ীর সাহাব্দীপুর গ্রামের কৃষক সোহলে রানা। দশ বিঘা জমিতে টমেটো লাগিয়েছিলেন তিন বিঘা জমির টমেটো ভালোভাবে বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকিগুলোর দাম না পাওয়ায় জমিতে থেকে তুলতে আগ্রহী নন কৃষক সোহেল রানা।

DSC01593
শীত মৌসুমে কাঁচা তরকারির অন্যতম ফসল হিসেবে বরেন্দ্র অঞ্চলের উচু নিচু জমি টমেটোর জন্য উপযোগী। প্রতিবছর এই এলাকার কৃষকরা রবি মৌসুমে অন্যান্য রবি শস্যের সাথে টমেটো চাষ করেন। এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় যেসকল কৃষক আগাম টমেটো লাগিয়ে ছিলেন তারা কিছুটা দাম পেলেও টমেটোর ভরা মৌসুমে কাঙ্খিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষক গোলাম মোস্তফা আড়াই বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছিলেন। আসল টাকাই তুলতে পারেননি। টমেটোর দাম নাই কিভাবে বাকিগুলো বিক্রি করবে এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। তিনি বলেন, ‘শুরুতে টমেটুর দাম হাজার বারোশো টাকা মণ থাকলেও অল্প দিনে ব্যবধানে তিন চারশো টাকায় চলে আসে। প্রথম দিকে টমেটো পাকিয়ে বিক্রি করলেও এখন পাকানোর জন্য যে খরচ হবে তা দিয়ে শ্রমিকের টাকাই উঠবে না।’

DSC01661
উপজেলার টমেটো প্রক্রিয়াজাতকরণ জায়গাগুলোতে কিছুদিন আগে বাছাই, প্যাকেট, গাড়িতে ভর্তি করার দৃশ্য চোখে পড়লেও এখন শুধু স্তুপ আকারে টমেটো পড়ে রয়েছে। ক্রেতা না থাকায় পচে যাচ্ছে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তের পাড়া গ্রামের কৃষক রহমান মোল্লা বলেন, ‘আগে টমেটু জাগ দিয়ে পাকানো হতো এখন তো টমেটো জাগ দেয়া লাগছে না। টমেটো কয়েক দিন স্তুপ আকারে রাখলেই পেকে যাচ্ছে। এখানে বাছাই করে যা বিক্রি হচ্ছে বাকিগুলো ফেলে দেয়া হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, ‘কাঁচা তরকারী বেশিদিন রাখা যায় না তবে সরকার থেকে যদি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে কৃষক এত ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।’

গোদাগাড়ী উপজেলার তিলিবাড়ী ধাতমা এলাকার উপসহকারী আকবর আলী জানান, এ বছর টমেটোর আবাদ বেশি হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কৃষক টমেটোর ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া ভোটের সময় যখন টমেটোর দাম ছিল তখন কৃষক ঠিকমত বিক্রি করতে না পারায় অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

DSC01683
এলাকার অন্যান্য কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বছর টমেটোর উৎপাদন যেভাবে হয়েছে সেভাবে বিক্রি হয়নি। অনেক ফসল একসময় চলে এসেছে, উপয্ক্তু সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় একক ফসল হিসেবে এবছর সবচেয়ে বেশি টমেটোর নষ্ট হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে টমেটো চাষে আগ্রহ হারাবে কৃষক। শীতকালীন এই ফসল রক্ষায় সরকারি সহায়তা দাবি করেন এলাকার কৃষকগণ।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: