Posted in

রাস্তার ধারে কলা চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক কানু মোল্লা

ঘিওর, মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর কুমার সরকার
রাস্তার দু’ধারে কলা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ঘিওর উপজেলার মাইলাগী গ্রামের কৃষক কানু মোল্লা (৬৫)। ১০ বছর আগে নিজ গ্রামের কৃষক রাসেল ফরিদপুর জেলা থেকে সাগর কলার চারা এনে রোপণ করেছিলেন। তাঁর কাছ থেকে সাগর কলার চারা সংগ্রহ করে কানু মোল্লা নিজের জমির রাস্তার ধারে পতিত জায়গায় রোপণ করেন। রাস্তার ধারে পতিত জায়গাকে কলা চাষ করে নিজের পরিবারের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন তিনি। সংসারের অভাব-অনটন থেকে রেহাই পেয়ে সাগর কলা চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তিনি। প্রথমে নিজের রাস্তার ধারের পতিত জায়গা এরপর পাশের জমির মালিকের নিকট থেকে রাস্তার দু’ধারে ১ কিলোমিটার জুড়ে কলা চাষ বাড়ান। এখন তিনি সবরি কলা, কাচ কলা, মদনাকলা,বিচা কলার চাষ করছেন।


কানু মোল্লার আর্থিক সচ্ছলতা দেখে তাকে অনুসরণ করে আশেপাশের গ্রামের কৃষক সাহা বাবু, বাবু শিকদার, রবি রায়সহ আরো অনেকে রাস্তার ধারের পতিত জায়গায় কলা চাষে ঝুঁকেছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে লাভের মুখও দেখছেন কলা চাষে। অন্য যে কোনো ফসলের চেয়ে কলাচাষে দ্রুত লাভবান হওয়ায় মাইলাগি গ্রামে কলার চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। কলা চাষিরা বলছেন, দুই থেকে তিন ফুট লম্বা কলা গাছের চারা লাগানোর ৮-৯ মাসের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়। কলার চারা একবার রোপণ করলে পুনরায় তা আর রোপণ করতে হয় না। গাছের কলা একবার পূর্ণাঙ্গ বয়স হলে কেটে ফেলার কিছুদিন পর ওই গাছের গোড়া থেকে নতুন চারা জন্মায়।


কলা চাষি কানু মোল্লা বলেন, ‘আমি রাস্তার ধারের পতিত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে নিজের ও দেশের ফলের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করছি। কলা চাষে উৎপাদন খরচ নেই বললেই চলে। বরং কলা চাষে লাভের অংশ বেশি। কলা গাছের থোর, কলার বাদাইল বিক্রি করা যায়।’ একটা কলার চারা তিনি ২০ টাকা দরে বিক্রি করেন। তিনি আরও বলেন, ‘কলা বিক্রি করে যা আয় হয় তা আমার সংসারের ব্যয় ও ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার পেছনে খরচ করি। আমার কলা চাষ করা দেখে আশেপাশের অনেকেই বাড়ির পতিত জায়গা ও রাস্তার ধারে কলা চাষে ঝুঁকেছেন।


কানু মেল্লা আরও বলেন, ‘আমি ৫টি জাতের কলার চাষ করছি। অন্য ফসল বিক্রিতে কিছু ঝামেলা থাকে। কিন্তু কলা বিক্রিতে কোনো ঝামেলা নেই। খুচরা পাইকাররা জমি থেকেই কলা কেটে নিয়ে যান। সবরি কলার কাঁদি ৫০০-৬০০ টাকা, সাগর কলার কাঁদি পাইকারি বিক্রি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি হয়। ঘিওর উপজেলার মাইলাগি, বাওনা, বালিয়াখোড়া, চঙ্গশিমুলিয়া গ্রামে দিন দিন বাড়ছে কলার চাষ। কম শ্রম, অল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলা চাষ।’ রাস্তার ধারের পতিত জায়গাকে ব্যবহার করে কলা চাষই সফলতার হাসি এনেছে এ অঞ্চলের চাষিদের মুখে। ফলে দিন দিন বেড়েই চলছে কলা চাষ। সম্পৃক্ত হচ্ছেন নতুন নতুন চাষি। একের পর এক রাস্তার ধারে কলা চাষ করে মোটা অঙ্কের টাকা উপার্জন করতে পারায় স্থানীয় অনেক যুবকও এমন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.