Posted in

আড়াল করে রেখেছি একটি গ্রামকে

আমি সবুজ একটি গুচ্ছ গাছ বলছি যে বছরের পর বছর আড়াল করে রেখেছে কিশোরগঞ্জের হাওড়াঞ্চলের একটি গ্রামকে। স্থানীয়রা আমাকে করচ আবার কেউ কেউ চন্ডী গাছ নামেই চেনেন। স্থানীয় কিশোরগঞ্জ সহকারী বন বিভাগ কার্যালয়ের ফরেস্ট রেঞ্জার নারায়ণ চন্দ্র দাস আমার সম্পর্কে বলেন, “খোঁজ নিয়ে জেনেছি স্থানীয়রা গাছগুলোকে চন্ডীগাছ বলে। তবে, চন্ডীগাছ বলতে কোন গাছ নেই। এটি হিজল প্রকৃতির গাছ হতে পারে।”

IMG_6789নাম যাই হোক না কেন, আমি এ গ্রামের মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেটা কিন্তু নিশ্চিত। কারণ একদিকে আমি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে গ্রামটিকে রক্ষা করছি। অন্যদিকে, এ গ্রামকে করেছি সৌন্দর্যমন্ডিত। আমার অবস্থান কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা ইউনিয়নের কাকুরিয়া গ্রামে। এ গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার।

হিজল জাতীয় এই গুচ্ছ গাছটি অর্থ্যাৎ আমার উচ্চতা প্রায় ৫০-৬০ ফুট। আমার শিকড় থেকে তৈরি হয়েছে আরো ৩০/৪০টি গাছ। মাটিতে ডালপালা লেগে বেড়েছে আমার বিস্তৃতি। আমার ভেতরে রয়েছে অনেক ফাঁকা স্থান। অনেকে বলে এই গাছতলায় না আছে রোদের প্রকোপ, না আছে বৃষ্টির তীব্রতা। পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে এ গাছের নিচে কৃষক ও পথিক বিশ্রাম নেয়।

স্থানীয়দের বলতে শুনেছি, বর্ষাকালে হাওড় বেষ্টিত এ গ্রামের চারদিকে পানি থৈ থৈ করে। তৈরি হয় বড়বড় ঢেউ। এ সময় পানিবন্দি এ গ্রামকে ঢেউ থেকে রক্ষা করে গুচ্ছ করচ গাছ। এ গাছের গোড়ায় তখন ডুবে থাকে ৫ থেকে ৬ ফুট পানির ভেতরে। এ সময় হাওড়ের জেলেরা বিশ্রাম নিতে গাছটির নিচে এসে ভীড় জমান।

স্থানীয় লোকজনসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ সুফলের আশায় আমার গোড়ায় ‘মানত’ করে থাকে। মূল গাছের নিচে প্রতি বছর কার্তিক মাসে রাস পূর্ণিমা তিথিতে তিন দিনব্যাপী হরিনাম সংকীর্তন উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে হাজার হাজার ভক্ত ভিড় জমায়।

উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু এই আমার (গুচ্ছ গাছটির) বয়স কত, বলতে পারেন না কেউ। কাকুরিয়া গ্রামের বৃদ্ধ নিরোধ চন্দ্র দাসকে (৭০), বলতে শুনেছি “বাপ (বাবা) দাদাদের মুখে শুনেছি একটি গাছ থেকে ডালাপালা বেড়ে অনেক গাছ হয়েছে। কিন্তু মূল (প্রধান) গাছ একটি। গাছটির কখন জন্ম হয়েছে, আমরা জানি না। বাপ (বাবা) দাদারাও গাছটি জন্মের কথা বলতে পারেনি।”

IMG_6764
কাকুরিয়া গ্রামের ডা. আশীষ কুমার দাস (৪৫) এর সাথে তাল মিলিয়ে আমি বলতে চাই আমি হাওর অঞ্চলে অবস্থিত বলে অনেক দর্শনার্থী আমার সৌন্দর্য সম্পর্কে অবগত নয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে আমি পর্যটনের জন্য অন্যতম একটি সৌন্দর্য্য হিসেবে আবির্ভূত হতে পারি।

::বারসিক নিউজ.কম এর জন্য উপরের লেখাটি তৈরি করেছেন টিটু দাস, হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি (কিশোরগঞ্জ)::

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.