Posted in

প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনলো নবীন প্রজন্ম

সাতক্ষীরা থেকে আসাদুল ইসলাম
সাতক্ষীরায় বধ্যভূমিতে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনলো শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) সকাল ৮টায় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনের বধ্যভূমিতে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হাসানুজ্জামান শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের গণহত্যা ও নির্যাতনের গল্প শোনান। ‘স্বাধীনতার মাসে এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্পশুনি’ শীর্ষ এই কর্মসূচির আয়োজন করে সাতক্ষীরা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড।

Satkhira pic
এসময় মুক্তিযোদ্ধা হাসানুজ্জামান স্মৃতিচারণ করে বলেন, “সাতক্ষীরায় খান সেনারা আসার পর সাতক্ষীরার প্রায় ৯৬ গ্রাম খেকে বহু মানুষ এই রাস্তা দিয়ে বর্ডার ক্রস করার জন্য আসা-যাওয়া করতো। শহরের এই বালক উচ্চ বিদ্যালয়টিতে শেল্টার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বর্ডার ক্রস করতো।” তিনি আরও যোগ করে বলেন, “কিন্তু একদিন খান সেনারা শহরে প্রবেশ করার সময় জানতে পারে এই স্কুলে সংখ্যালঘু পরিবারসহ সাত-আটশত লোক এখানে আছে। তারপর খানসেনারা এসে তাদের আটক করে স্কুলের আশপাশের বাড়ি থেকে দা, কোদাল, শাবল দিয়ে স্কুলের পেছনের এই জায়গাটিতে গর্ত করে সবাইকে ধরে এনে গুলি করে, বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে, দা, বটি, খোন্তা, কোদাল দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে খান সেনা এবং তাদের দোসররা সাত-আটশত নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। দুই-তিন দিন ধরে এই গণকবর থেকে করুণ আত্মচিৎকার শোনা যায়। অনেকে যন্ত্রণায় করুণ আত্মচিৎকার করতে করতে মৃত্যুবরণ করে। এবং পরে এখানেই তাদের গণকবর দেওয়া হয়। তারপর এই স্কুলটি খানদের টর্চার সেল গঠন করা হয়।”

Satkhira pic1
এসময় আরো বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সভাপতি মোশারফ হোসেন মশু, মুক্তিযোদ্ধা জি.এম আব্দুল গফুর, সুভাষ চন্দ্র সরকার, আব্দুল মমিন, জিল্লুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব লাইলা পারভিন সেজুতি, জেলা পরিষদ সদস্য শাহনাজ পারভিন সেজুতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সাধারণ সদস্য গাজী আসাদ, নাহিদ হাসান, আব্দুর রহিম, নূরুল হুদা, মুরাদ হোসেন, মাহিদা মিজান ফজলুল হক প্রমুখ।

এই কর্মসূচিতে সাতক্ষীরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এসময় মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষার্থীরা সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন আমতলা বধ্যভূমিটিসহ জেলার সব বধ্যভূমি সংরক্ষণের দাবি জানান।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.