সাম্প্রতিক পোস্ট

ক্যাকটাস উৎপাদন ও ব্যবহারের বিস্তৃতি বাড়ছে

চাটমোহর, পাবনা থেকে ইকবাল কবীর রনজু

মানুষ মাত্রই নান্দনিকতার; সৌন্দর্যের পূজারী। রুচি, আধুনিকতা ও সৃজনশীলতা প্রকাশে তৎপর। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, ওষুধপত্র, ভূমি ক্ষয় রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের উদ্ভিদ নির্ভরতা ক্রমশই বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকৃতি প্রেমীরা উদ্ভিদ সুরক্ষায় সদা তৎপর। এমন অনেক উদ্ভিদ আছে যেগুলো সৌন্দর্য্য বিকাশে, প্রকাশে অনায়াসে মানুষের হৃদয় মনকে দোলা দিয়ে যায়। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস সৌন্দর্য্য পিয়াসী মানুষের মনে স্থায়ী আসন গড়েছে। তাই মনের মতো করে ঘর সাজাতে ও অন্যান্য প্রয়োজনে ক্যাকটাস উৎপাদন ও ব্যবহারের বিস্তৃতি বাড়ছে।

cactus-1

গ্রীক শব্দ “ক্যাকটা” থেকে এসেছে ক্যাকটাস কথাটি। স্থুল আকৃতির কান্ড বিশিষ্ট শিরদাড়া যুক্ত কাটাওয়ালা পত্রবিহীন ক্যাকটাসের আদিবাস আমেরিকার পূর্বাঞ্চলে। প্রধানত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা আফ্রিকার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল ও শ্রীলংকার শুষ্ক অঞ্চলে এ গাছ বেশি দেখা যায়। শুষ্ক মরু অঞ্চল এমনকি পাহাড়ের পাথরের সংযোগ স্থলে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে বৈচিত্র্যে ভরপুর মরু সুন্দরী খ্যাত ক্যাকটাস। ক্যাকটাসের রাসায়নিক গুণের ব্যবহার চিকিৎসা শাস্ত্রে ভূমিকা রাখছে। এর রাসায়নিক ফল হুইস্কি তৈরির উপাদান হওয়ায় বিশ^ব্যাপী এর চাহিদা বাড়ছে। চলছে আমদানী ও রফতানী। মধ্য ও উত্তর আমেরিকায় এমন জনশ্রুতি প্রকারান্তরে ধর্ম বিশ^াস রয়েছে যে, পিউট প্রজাতির ক্যাকটাসের ক্ষার জাতীয় রাসায়নিক উপাদান মেসকানিন খেয়ে ধর্মভিরুরা বিধাতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও করতে পারেন।

cactus-2

দীর্ঘজীবী উদ্ভিদ ক্যাকটাসের বহুবিধ ব্যবহারের ফলে এর বিস্তৃতি বাড়ছে। এখন কেবল মরু অঞ্চল নয় এর বাইরের বিভিন্ন দেশে এভোনিয়া কুই নারিয়া, হাটিওয়া ইউফরবিয়া, গ্রাটোপিটালাম, ফ্রিথাপুলচা, সেমপারভিভাম টেকটোরাম, ক্রাসুলা ক্যাপিটিলা, ক্রাসুলা মরগ্যানস বিউটি, এগাভা এটানটা, অরবিয়া ডুমেরী, ফায়ার বেরেল, এওনিয়াম এলোভারিয়ামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস চাষ করছেন মানুষ। এটি এখন অনেকের আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। ক্যাকটাস ফুল ফোটানোর জন্য সাধনা করেন ক্যাকটাস চাষীরা। এক ভাগ বেলে মাটি, এক ভাগ পঁচা গোবর, দুই ভাগ পচা পাতা, এক ভাগ বালি ও হাড়ের গুড়া মিশিয়ে মাটি প্রস্তত করে পনেরো দিন পর টবে চারা রোপণ করতে হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাস চারা রোপণের অধিক উপযোগি হলেও সারাবছরই ক্যাকটাসের চারা রোপণ করা যায়। প্রজাতি ভেদে ক্যাকটাসের কাটায় তারতম্য রয়েছে। কোনটায় কাটা বেশি আবার কোনটায় কম।

cactus-3

ক্যাকটাসের কান্ডে জলজ অংশ জমা থাকায় তা যেমন পানির চাহিদা পূরণ করে তেমনি গায়ে কাটা থাকায় তা ক্যাকটাসকে অন্যান্য প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা করে। বর্তমান সময়ে বেশ পরিচিত এ উদ্ভিদ প্রায় দুই থেকে তিনশ বছর বেঁচে থাকে। কোনটা কোনাকৃতি, কোনটা চ্যাপটা, কোনটা গোল, কোনটা লম্বাটে হয়ে থাকে। প্রজাতি ভেদে ও গ্রাফটিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাকটাসের একত্র সংস্করণ ৫০ টাকা থেকে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: