Posted in

লাইলা খাতুনের সংগ্রামী জীবনের গল্প

রাজশাহী থেকে সুলতানা খাতুন 

সুন্দলপুর ছোট একটি গ্রাম। এই গ্রামে ১০০টি পরিবার বসবাস করে। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও ব্যবসার সাথে যুক্ত। পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নে এই গ্রাম অবস্থিত। লাইলা খাতুন এই গ্রামে বসবাস করেন। তাঁর বয়স ২৮ বছর। তিনি এসএসসি পাশ করেছেন তবে পড়াশোনা আর চালিয়ে যেতে পারেননি পরিবারের অভাব অনটনের কারণে। পিতামাতাসহ তাঁর পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ জন। তাদের বসতভিটা ও আবাদি জমি কিছুই নেই। তাঁরা খাস জমিতে বসবাস করেন। তবে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়ি পেয়ে সেখানে বসবাস করেন বর্তমানে।

লাইলা খাতুনের ৭ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় ছাড়া ছাড়ি হয়ে যায়। ৬ বছর ধরে তিনি বাবার সংসারে সংগ্রামী জীবনযাপন করছেন। তার এক ছেলে বর্তমানে বাবার কাছে থাকে। লাইলা বলেন, ‘আমার পরিবারে উপার্জনের কেউ নেই। বাবা মা ও একটি বোন নিয়ে আমার সংসার। অল্প বয়সে বাবা বিয়ে দেন। যাতে সংসারের বোঝা হালকা হয়। কারণ তাঁর আরও দুইটি মেয়ে ছিল!’

লাইলা খাতুন সংসারে আয় বৃদ্ধির জন্য সেলাই মেশিন কিনার পরিকল্পনা করেন। হালকা মেশিনের কাজ জানতন তিনি। প্রতিবেশীর কাছে থেকে ভালোভাবে কাজ শেখেন। কিছু টাকা জমিয়ে ও প্রতিবেশীর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে সেলাই মেশিন কিনেন। সেই মেশিন এর কাজ এখন তার ও তার পরিবারের রুজি রোজগারের অন্যতম মাধ্যম। লাইলা সেলাই মেশিনে থ্রিপিচ, ছোট বাচ্চাদের পোশাক, মেয়েদের পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের কাঁথা সেলাই করেন। একটা কাঁথার বানাতে ২৫০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন।

সেলাইয়ের পাশাপাশি লাইলা বাড়িতে গরু, ছাগল, হাঁস- মুরগি পালন করেন।বাড়ির পাশে যেটুকু জায়গা পড়ে আছে সেখানে সবজি চাষ করেন। পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ করে বাজারে বিক্রি করে আয় হয়। বারসিক কর্মী তাকে আরো ভালোভাবে মৌসুমকালিন সবজি চাষ ও নিজ বাড়িতে বীজ সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দেন  যাতে পরবর্তী সময়ে বীজ কিনতে না হয়। লাইলা হাঁস মুরগি ও ডিম, সেলাই মেশিনের কাজ ও মৌসুম কালিন সবজি চাষ করে বিভিন্নভাবে সংসারে উর্পাজন করে থাকে। আগের তুলনায় লাইলা খাতুন বেশ ভালো আছেন বলে জানান। 

উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে বারসিক এই গ্রামে কাজ করে। এই গ্রামে নারী দিবস, বীজ মেলা ও বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক সভা ও উঠান বৈঠক করা হয়। বারসিক সুপরামর্শ ও সচেতনতামূলক আলোচনার মাধ্যমে নারীদের সচেতন ও আত্ম বিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। 

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.