সাম্প্রতিক পোস্ট

একটি পাঠশালার গল্প

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে সত্যরঞ্জন সাহা

পদ্মাপাড়ের পাঠশালা। হরিরামপুর উপজেলার মানুষদের কাছে একটি পরিচিত নাম। দরিদ্র অভিভাবকদের কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম। কেননা এই পাঠশালা এলাকার দরিদ্র ও বঞ্চিত ছেলেমেয়েদের পড়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। যে সব পরিবারের লোকজন লেখাপড়া জানে না, সে সব দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পদ্মা পাড়ের পাঠশালা। এই পাঠশালায় পরিবারের মত লেখাপড়া ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মেধা বিকাশে সুযোগ পাচ্ছে। পদ্মাপাড়ের পাঠশালায় লেখাপড়ার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয় বিধায় সেখানে নিজেদের সন্তানদের পড়ানোর ব্যাপারে অভিভাবকরা বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সমাজের দায়বদ্ধতা থেকেই গ্রামের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য এলাকার যুবকরা গড়ে তুলে এই ‘পদ্মাপাড়ের পাঠশালা’। বারসিক’র স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা অবসর সময়ে সকালে ও বিকালে এই পাঠশালায় সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়ান। তবে পাঠশালার শর্ত হলো নির্দিষ্ট সময়ে পাঠশালায় উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। শিক্ষার আলো ছড়াতে পদ্মাপাড়ের পাঠশালার পরিচালক মীর নাদিম হোসেনের বাস্তবসম্মত উদ্যোগে এলাকাবাসী খুবই খুশি।

64424002_462627561219410_6900918370472820736_n

এই প্রসঙ্গে পদ্মাপাড়ের পাঠশালার পরিচালক মীর নাদিম হোসেন বলেন, ‘পদ্মা পাড়ে আমাদের বাড়ি। ভাঙ্গা গড়ার আমাদের জীবন। সমাজটাকে চাই প্রতিনিয়ত নতুন করে সাজাতে। বারসিক’র স্বেচ্ছাসেবক টিমে কাজ করে আমাদের শিক্ষা হয়, সমাজের উন্নয়নে স্বেচ্ছায় কাজ করার। এই কাজ করা আমাদের নেশা। সমাজের উন্নয়নে প্রতিনিয়ত চিন্তা করি, সমাজকে কিছু দিতে চাই। যার মাধ্যমেই এলাকার যুবকদের সাথে নিয়ে গ্রামের দরিদ্র ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় সহযোগিতার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা কিশোর ক্লাব ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য ক্লাবের ঘর দিয়ে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। পদ্মা পাড়ের পাঠশালায় ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত লেখাপড়া করছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত লেখাপড়ার খোঁজ-খবর নিতে পারায় আমরা খুবই খুশি।’

64675503_412096032713417_4281256536325488640_n

পদ্মা কিশোর ক্লাবের সভাপতি ও সমাজ সেবক জাহিদুল হাসান টুটুল বলেন, ‘এলাকার ছেলেমেয়েরা ভালো লেখাপড়া করে অনেক বড় হোক এটা আমার স্বপ্ন। এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে আমি নিরলসভাবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। ছাত্র-তরুণদের সাথে নিয়ে প্রতিবছর পদ্মা কিশোর ক্লাবের উদ্যোগে ছেলেমেয়েদের মেধা বিকাশে খেলাধুলা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি। মাদক নয় খেলাধুলা করে শরীরস্বাস্থ্য ভালো রাখে। এই পদ্মা কিশোর ক্লাব যেন সবচেয়ে ভালো শিক্ষার জায়গা হয়, সেই নতুন উদ্যোগে স্বাগত জানিতে আমরা কাজ করে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মাপাড়ের পাঠশালা করে আমাদের ভালো লাগছে। এলাকার সকল যুবক-তরুণগণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগী লোকজন যুক্ত হচ্ছেন। যুবকদের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টা আমাদের সফলতা আসবে। সুনামের সাথে আমাদের পদ্মাপাড়ের পাঠশালার গল্প দীর্ঘ হবে।’

64760860_308768606729334_7170915721394782208_n

শিক্ষক মিরাজুল ইসলাম (শিমুল) বলেন, ‘পদ্মা পাড়ের পাঠশালা চায় এলাকার দরিদ্র ছেলে মেয়েরা ভালোভাবে লেখাপড়া করে হরিরামপুরসহ বাংলাদেশকে উজ্জ্বল করুক। ছেলেমেয়েরা দেশ ও পরিবারে উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক। দেশ ও সমাজের উন্নয়নের জন্য যুবক-তরুণদের অবদান স্বরণীয় হয়ে থাক। সরকারের উদ্যোগে লেখাপড়ায় অনেক সুযোগ থাকলেও গ্রামের দরিদ্র ছেলেমেয়েরা তাদের পারিবারের লোকজন লেখাপড়া না থাকায়, আর্থিক অসচ্ছলতা ও পারিপার্শ্বিকতার কারণে লেখাপড়া থেকে ঝরে পড়েন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে হরিরামপুরের বয়ড়া ইউনিয়নের কোন ছেলেমেয়ে যেন লেখাপড়া থেকে ঝরে না পড়ে সেই দায়িত্বটুকু নিয়ে পদ্মা পাড়েরর পাঠশাল শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: